• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন
Headline
১২ নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারের পথে যাবে না সরকার: আইনমন্ত্রী ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা করের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন ‘লেডি মীর জাফর’ বলে ফেসবুকে পোস্ট: ডিএজির বিরুদ্ধে রুমিন ফারহানার অভিযোগ ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন: উত্তরে জামায়াতের প্রার্থী সেলিম, দক্ষিণে সাদিক দেশের বিমা খাতে বিশাল অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি হয়েছে: অর্থমন্ত্রী সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন, প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে কাল থেকে : প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাতের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: গতির স্বস্তির আড়ালে আতঙ্কের ফাঁদ

Reporter Name / ৪ Time View
Update : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজধানীর বুক চিরে সগর্বে দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে একসময় যানজটে পিষ্ট নগরবাসীর কাছে স্বপ্ন পূরণের প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল| যানজটের চিরচেনা নরকযন্ত্রণা এড়িয়ে মাত্র কয়েক মিনিটে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলার এই গগনচুম্বী সুবিধা আধুনিক নগরজীবনের এক অনন্য প্রাপ্তি| কিন্তু দিনের আলোতে যে উড়ালসড়কটি উন্নয়নের এক উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন হিসেবে কাজ করে, সূর্যের আলো নিভে যাওয়ার পর রাতের অন্ধকারে সেটিই যেন হয়ে ওঠে এক ভয়ংকর ও বিভীষিকাময় মরণফাঁদ| ১১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অত্যাধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থাটি বর্তমানে ঢাকাবাসীর কাছে কেবল একটি দ্রুতগামী পথ নয়, বরং গভীর রাতের এক অনিরাপদ ও আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে| কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মেগাপ্রকল্পে গতির নিশ্চয়তা মিললেও, জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ|
যে উড়ালসড়কটিকে ঘিরে আধুনিক শহরের স্মার্ট যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বপ্ন বোনা হয়েছিল, সেই সড়কেই এখন নিয়মিত বিরতিতে ঘটছে ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মতো হাড়হিম করা অপরাধ| দিনের বেলা এই পথে হাজারো গাড়ির ব্যস্ততা থাকলেও, রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে এটি এক ভুতুড়ে জনশূন্যতায় পর্যবসিত হয়| আর এই নীরবতা ও জনশূন্যতার সুযোগটিকেই অত্যন্ত সুকৌশলে কাজে লাগাচ্ছে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র| সাম্প্রতিক সময়ের বেশ কয়েকটি লোমহর্ষক ঘটনা প্রমাণ করেছে যে, এই উড়ালসড়কটি কেবল সাধারণ যানজটমুক্ত পথ নয়, বরং এটি এখন অপরাধীদের লাশ গুম করা এবং নির্বিঘ্নে অপরাধ সংঘটনের এক নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে|
সবচেয়ে উদ্বেগজনক ও মর্মান্তিক উদাহরণটি তৈরি হয়েছে গত কয়েক দিন আগের এক গভীর রাতে| দেশের উত্তরাঞ্চলের একটি জেলা থেকে রাজধানী লাগোয়া শিল্পাঞ্চলে যাওয়ার পথে এক হতভাগ্য যাত্রীকে টার্গেট করে বাসের চালক ও তার সহকারীরা| যাত্রীর কাছে থাকা নগদ অর্থের লোভে তারা চলন্ত বাসেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে| এরপর অপরাধীরা নিহতের মুখ ও হাত সেলোটেপ দিয়ে শক্তভাবে পেঁচিয়ে লাশ গুম করার জন্য এই উড়ালসড়কটিকেই সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নেয়| রাতের নির্জনতার সুযোগ নিয়ে কোনো এক অজ্ঞাত মুহূর্তে তারা লাশটি এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে রেখে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়| পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেই লাশ উদ্ধার করে| যদিও এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে, কিন্তু এই ঘটনাটি দেশের সবচেয়ে আধুনিক যোগাযোগ কাঠামোর নিরাপত্তাব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটিকে অত্যন্ত নগ্নভাবে দেশবাসীর সামনে উন্মোচিত করেছে|
তবে উড়ালসড়কে এমন নৃশংসতার ঘটনা এবারই প্রথম নয়| ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, গত তিন বছরে এই এক্সপ্রেসওয়েতে বেশ কয়েকটি ছিনতাই ও অপহরণের রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে, যার অনেকগুলোই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর লোকচক্ষুর সামনে এসেছে| ঠিক এক বছর আগে, গত বছরের অক্টোবর মাসে এই একই উড়ালসড়কের ওপর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক তরুণের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল| সেই তরুণের পরিচয় যেমন আজও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, তেমনি ওই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের অপরাধীরাও রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার একেবারে বাইরে| দিনের পর দিন এ ধরনের অমীমাংসিত অপরাধের ঘটনাগুলো অপরাধীদের মনে এই বিশ্বাস আরও দৃঢ় করছে যে, উড়ালসড়কের অন্ধকারকে ব্যবহার করে যেকোনো অপরাধ ঘটিয়ে খুব সহজেই পার পাওয়া সম্ভব|
কেবল সাধারণ যাত্রী বা হতভাগ্য নিম্ন আয়ের মানুষই নন, এই উড়ালসড়কে অপরাধীদের নিশানায় পরিণত হয়েছেন সমাজের বিত্তবান ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরাও| এক্সপ্রেসওয়েটি উদ্বোধনের পরপরই এমন একটি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল যা শুনলে যেকোনো সাধারণ নাগরিকের মেরুদণ্ড বেয়ে শীতল স্রোত নেমে যাবে| ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা তুলে নিজস্ব গাড়িতে করে বাড়ি ফেরার পথে এক ব্যবসায়ী এই উড়ালসড়কে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন| সংঘবদ্ধ অপরাধীরা অত্যন্ত নিখুঁত ও সুপরিকল্পিত ছক কষেছিল| টোল প্লাজা অতিক্রম করার পরপরই ওই ব্যবসায়ীর গাড়ির চাকায় বিশেষ কায়দায় সমস্যা তৈরি করা হয়| গাড়িটি নিরুপায় হয়ে গতি কমিয়ে দিলে পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা আরেকটি গাড়ি তাদের পথ রোধ করে দাঁড়ায়| এরপর নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি এলিট ফোর্সের সদস্য পরিচয় দিয়ে অপরাধীরা ওই ব্যবসায়ী ও তার সঙ্গীদের অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে| প্রায় অর্ধকোটি টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাদের শহরের উপকণ্ঠের অন্য একটি নির্জন সড়কে ফেলে রেখে যায় ডাকাত দল|
এই ধরনের সুপরিকল্পিত অপরাধগুলো বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় অত্যন্ত পরিষ্কার হয়ে ওঠে যে, অপরাধীরা এই উড়ালসড়কের প্রতিটি ইঞ্চি সম্পর্কে গভীরভাবে অবগত এবং এখানকার নিরাপত্তাজনিত শূন্যতার কথা তাদের নখদর্পণে| তারা খুব ভালো করেই জানে যে, একবার টোল প্লাজা পার হয়ে মূল সড়কে উঠে গেলে দীর্ঘ ১১ কিলোমিটারের বেশি পথে তাদের বাধা দেওয়ার মতো কেউ নেই| কোনো গাড়ি বিকল হলে, দুর্ঘটনায় পড়লে বা অপরাধীদের আক্রমণের শিকার হলে তাৎক্ষণিক সাহায্য চাওয়ার কোনো উপায় বা কার্যকর মেকানিজম সেখানে গড়ে তোলা হয়নি|
কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, যান চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখতে এক্সপ্রেসওয়েতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে| এছাড়া ওঠানামার র‍্যাম্পগুলোতেও নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি রয়েছে| কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে এই নিরাপত্তাব্যবস্থা নিতান্তই ঠুনকো এবং আইওয়াশ ছাড়া আর কিছুই নয়| বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে বলছেন যে, কেবল খুঁটিতে কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা ঝুলিয়ে রাখলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না| এই ক্যামেরাগুলো মূলত ‘পোস্ট-মর্টেম’ বা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর তদন্তের কাজে লাগে, কিন্তু রিয়েল-টাইম বা তাৎক্ষণিক অপরাধ ঠেকাতে এদের কোনো ভূমিকাই নেই| মনিটরিং রুমে বসে সার্বক্ষণিক ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন কোনো গতিবিধি দেখামাত্র সেখানে দ্রুত সাড়া দেওয়ার মতো কোনো ‘কুইক রেসপন্স টিম’ বা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বাহিনী এক্সপ্রেসওয়েতে নেই|
এর চেয়েও বড় শঙ্কার বিষয় হলো পর্যাপ্ত আলোর অভাব| একটি আন্তর্জাতিক মানের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে রাতের বেলা যে পরিমাণ আধুনিক ও উজ্জ্বল সড়কবাতি থাকার কথা, তার সিকিভাগও এখানে নেই| অনেক স্থানেই বাতি জ্বলে না, যার ফলে মাইলের পর মাইল সড়ক ভুতুড়ে অন্ধকারে ডুবে থাকে| এই অন্ধকারের সুযোগ নিয়েই অপরাধীরা ওত পেতে থাকে| এছাড়া পুরো সড়কজুড়ে নিয়মিত কোনো পুলিশের টহল নেই| ঢাকা শহরের ভেতরের সড়কগুলোতে যেভাবে পুলিশের টহল গাড়ি বা চেকপোস্ট দেখা যায়, শূন্যে ভাসমান এই সড়কে তার বিন্দুমাত্র অস্তিত্ব নেই|
নিরাপত্তাহীনতার এই চরম অবস্থার পেছনে সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক বাধা হিসেবে কাজ করছে দায়িত্বের অদ্ভুত ও হতাশাজনক এক টানাপোড়েন| ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোনো একক থানা বা প্রশাসনিক সীমানার মধ্যে পড়েনি| বিমানবন্দর থেকে শুরু করে কুড়িল, বনানী, মহাখালী, বিজয় সরণি, ফার্মগেট হয়ে তেজগাঁও পর্যন্ত বিস্তৃত এই দীর্ঘ পথটি বেশ কয়েকটি থানার ভৌগোলিক সীমানার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে| কিন্তু স্থানীয় থানাগুলোর পুলিশের বক্তব্য হলো, তারা কেবল নিচের সড়ক ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা তদারক করে| উড়ালসড়কের ওপর টহল দেওয়ার জন্য তাদের কাছে কোনো নির্দেশনা নেই এবং এর সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নিরাপত্তা দলের ওপর ন্যস্ত|
প্রশাসনের এই অদ্ভুত বিভাজনের কারণেই মূলত এক্সপ্রেসওয়েটি একটি ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ বা অভিভাবকহীন জনপদে পরিণত হয়েছে| রাষ্ট্র যেখানে কোটি কোটি টাকা টোল আদায় করছে একটি প্রিমিয়াম সেবা দেওয়ার নামে, সেখানে নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রাইভেট কোনো কোম্পানির নিজস্ব অদক্ষ প্রহরীদের হাতে ছেড়ে দিয়ে পুলিশ বা রাষ্ট্রযন্ত্র দায় এড়াতে পারে না| আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই দুর্বলতার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন| তারা জানিয়েছেন যে, সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা যেমন পর্যাপ্ত নয়, তেমনি আলোর ব্যবস্থাও চরম হতাশাজনক| তবে কেবল চিঠি চালাচালি বা আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে এই সংকটের সমাধান হবে না|
অপরাধবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ও সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই মেগাপ্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে প্রযুক্তিভিত্তিক ও সমন্বিত এক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে হবে| তাদের মতে, একটি আধুনিক উড়ালসড়কের নিরাপত্তায় স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার অনস্বীকার্য| প্রতিটি এন্ট্রি এবং এক্সিট পয়েন্টে সন্দেহভাজন যানবাহন শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন অটোমেটেড নাম্বার প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর) ক্যামেরা বসাতে হবে| পাশাপাশি উড়ালসড়কের জন্য পুলিশের একটি সম্পূর্ণ আলাদা ও বিশেষায়িত টহল ইউনিট গঠন করতে হবে, যারা সার্বক্ষণিক এই পথটিতে টহল দেবে| কোনো গাড়ি অস্বাভাবিকভাবে থেমে গেলে বা গতি কমিয়ে দিলে কন্ট্রোল রুমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ম বাজার ব্যবস্থা থাকতে হবে, যাতে কয়েক মিনিটের মধ্যে সেখানে পুলিশ পৌঁছাতে পারে|
একজন সাধারণ নাগরিক যখন যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর আশায় বাড়তি টোল দিয়ে এই উড়ালসড়কে ওঠেন, তখন তিনি মূলত রাষ্ট্রের কাছে তার জীবনের নিরাপত্তাটুকুও কিনে নেন| অথচ রাতের বেলা অফিসফেরত কোনো চাকরিজীবী কিংবা জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া কোনো মানুষ যখন এই পথ ব্যবহার করেন, তখন তাদের বুক দুরুদুরু করতে থাকে| বাসে বা প্রাইভেট কারে যাত্রী কম থাকলে এই ভয় আরও বহুগুণ বেড়ে যায়| হঠাৎ যদি গাড়ির চাকা পাংচার হয়ে যায় বা ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়, তখন সেই নির্জন অন্ধকারে সাহায্যের বদলে কোনো হিংস্র ডাকাত দল বা খুনিদের আগমন ঘটবে কি না—এই তীব্র মানসিক চাপ ও আতঙ্ক আধুনিক নগরজীবনের কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না|
উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে, এটি যেমন সত্য, তেমনি এসব মেগাপ্রকল্পের ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তায় আমাদের যে এখনো অনেক দৈন্য রয়েছে—সেই চরম সত্যটিও অস্বীকার করার উপায় নেই| ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে আমাদের সক্ষমতা ও স্বপ্নের এক অনন্য স্মারক| একে কোনোভাবেই অপরাধীদের অভয়ারণ্য বা মৃত্যুপুরীতে পরিণত হতে দেওয়া যায় না| প্রশাসন, পুলিশ এবং এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষকে একে অপরের ওপর দায় না চাপিয়ে অবিলম্বে একটি সমন্বিত ও কঠোর নিরাপত্তা প্রটোকল তৈরি করতে হবে| উড়ালসড়কে গতির পাশাপাশি জীবনের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে, এই বিপুল বিনিয়োগ এবং কাঠামোগত উন্নয়ন জনকল্যাণের বদলে জনদুর্ভোগ ও আতঙ্কের এক স্থায়ী প্রতীকে পরিণত হবে| নাগরিকের করের টাকায় নির্মিত একটি রাষ্ট্রকাঠামো কখনোই অন্ধকারের খুনিদের কাছে জিম্মি থাকতে পারে না|
তথ্যসূত্র: টাইমস অব বাংলাদেশ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category