দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে। এখন থেকে শেয়ারবাজারে একই দিনে শেয়ার কিনে আবার সেই দিনই তা বিক্রি করার সুযোগ পাবেন বিনিয়োগকারীরা। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দেশের প্রধান দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) 및 চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) এই সংক্রান্ত নতুন লেনদেন পদ্ধতি চালুর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করেছে। আর্থিক খাতে এটি মূলত ‘ইন্ট্রা-ডে ট্রেডিং’ বা আন্তঃদৈনিক লেনদেন নামে পরিচিত। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা এখন বাজারের চড়াই-উতরাইয়ের সুবিধা নিয়ে দিনে দিনেই তাদের মুনাফা ঘরে তুলতে পারবেন।
বিএসইসির এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতিশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার বিএসইসির পক্ষ থেকে নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো আবুল কালামের স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুঁজিবাজারের এই বড় সিদ্ধান্তের কথা সাধারণ মানুষকে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের সামগ্রিক পুঁজিবাজারের লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও বেশি আধুনিক, দক্ষ ও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই বিশেষ স্ক্রিপ নেটিং বা ডে-ট্রেডিং ব্যবস্থাটি পুরোপুরি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার শর্তে স্টক এক্সচেঞ্জ দুটিকে চূড়ান্ত সম্মতি দেওয়া হয়েছে।
তবে এই নতুন সুবিধাটি বিনিয়োগকারীরা এখনই সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন না। বিএসইসি জানিয়েছে, এই আধুনিক লেনদেন প্রক্রিয়াটি বাজারে পুরোপুরি চালু হতে আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হবে। কারণ, দিনে দিনে শেয়ার কেনাবেচার এই পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ কিছু কঠোর শর্ত ও নিয়মের অধীনে পরিচালিত হবে। স্টক এক্সচেঞ্জ দুটি এই সংক্রান্ত সকল কারিগরি প্রস্তুতি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো নিশ্চিত করার পরই বিনিয়োগকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই সুবিধা ভোগ করতে শুরু করবেন। শর্ত সাপেক্ষে এই ডে-ট্রেডিং চালুর ফলে বাজারে তারল্য সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ার নিষ্পত্তির জন্য একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতো, যা ‘টি+২ সেটেলমেন্ট সাইকেল’ নামে পরিচিত। এই প্রচলিত নিয়মের কারণে কোনো বিনিয়োগকারী একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ার কেনার পর তা পুনরায় বিক্রি করার জন্য তাকে কমপক্ষে দুই কর্মদিবস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। অর্থাৎ, শেয়ার কেনার দিন এবং তার পরবর্তী দুই দিন পার হওয়ার আগে সেই শেয়ার বিক্রির কোনো সুযোগ ছিল না, যা অনেক সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের জন্য এক ধরণের বড় বাধা হয়ে দাঁড়াত।
সাধারণ শেয়ারের পাশাপাশি পুঁজিবাজারে দুর্বল ও অপেক্ষাকৃত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোর লেনদেন নিষ্পত্তি হতে আরও বেশি সময় লাগত। প্রচলিত নিয়মে এই জেড ক্যাটাগরির শেয়ার কিনে তা আবার বিক্রি করার জন্য একজন সাধারণ বিনিয়োগকারীকে মোট তিন কর্মদিবস পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হতো। দীর্ঘ সময় আটকে থাকার কারণে অনেকেই এই ক্যাটাগরির শেয়ারে বিনিয়োগ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন না। নতুন এই আধুনিক ও যুগান্তকারী পদ্ধতিটি বাজারে পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটবে এবং দেশের পুঁজিবাজার একটি আন্তর্জাতিক মানের ও আধুনিক লেনদেন ব্যবস্থায় পদার্পণ করবে।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ২৪