দীর্ঘ দাবদাহ ও তীব্র গরমের পর জনজীবনে স্বস্তি নিয়ে এসেছে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বেশ কিছু স্থানে আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসের বাকি দিনগুলোতেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা চলমান তাপপ্রবাহকে অনেকটাই প্রশমিত করবে।
বিকেলে ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা
দীর্ঘ এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা অসহনীয় গরমের পর রাজধানী ঢাকার মানুষও আজ স্বস্তির বৃষ্টির দেখা পেতে পারেন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, রংপুরের আকাশে তৈরি হওয়া মেঘমালা ধীরে ধীরে রাজশাহী ও ময়মনসিংহের দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাব ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন স্থানেও পড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। আজ বিকেলের দিকে রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, আগামীকাল সোমবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা আরও বেশি।
রংপুরে ফিরল স্বস্তি
গতকাল শনিবার রাত এবং আজ সকালেও রংপুর ও এর আশপাশের এলাকায় দুই দফা বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এই বৃষ্টির পর ওই অঞ্চলে তাপমাত্রা অনেকটাই কমে এসেছে। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা তাপপ্রবাহের কারণে রংপুরেও তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছিল, তবে বৃষ্টি সেখানে জনজীবনে দারুণ স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
চলমান তাপপ্রবাহের চিত্র
চলতি মাসের শুরু থেকেই দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাপপ্রবাহ শুরু হয়। বিশেষ করে ৩ এপ্রিলের পর কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও, গত এক সপ্তাহ ধরে তা আবার আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে দেশের প্রায় ২৪টি জেলায় এই তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল শনিবারও রাজধানীতে তাপপ্রবাহ ছিল এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রাজশাহীতে, যা ছিল ৩৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গতকাল থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টির ধারা এপ্রিল মাসের শেষ নাগাদ এবং মে মাসের প্রথম দিক পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানান, এর ফলে দেশজুড়ে চলা তাপপ্রবাহের তীব্রতা অনেকটাই কমে যাবে। তবে খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ কিছুটা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। দেশের অন্যত্র তাপমাত্রা সহনশীল পর্যায়ে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।