গৃহকর্মীকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মো. সাফিকুর রহমানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে সংস্থাটির কার্যক্রম সচল রাখতে নতুন এমডি হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. হুমায়রা সুলতানাকে।
নিয়োগ বাতিল ও নতুন দায়িত্ব
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এই রদবদলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের ‘বিমান-১ শাখা’ থেকে প্রকাশিত আদেশে বলা হয়, ফৌজদারি অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে কারাবন্দী থাকায় ড. সাফিকুর রহমানের নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
অন্যদিকে, পরবর্তী পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত ড. হুমায়রা সুলতানাকে বিমানের এমডি ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিমান ও সিভিল এভিয়েশন) হিসেবে কর্মরত আছেন। বাংলাদেশ বিমান আইন, ২০২৩-এর ৩০(গ) ধারা অনুযায়ী তাকে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র
গত বছরের জুনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে নিয়েছিলেন সাফিকুর রহমান। কথা ছিল মেয়েটির ভরণপোষণ ও বিয়ের যাবতীয় খরচ বহন করবেন তারা। কিন্তু বাস্তবে গত সাত মাস ধরে শিশুটির ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়।
গত ৩১ জানুয়ারি সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বিথী আক্তার মেয়েটির বাবাকে ফোন করে জানান যে মেয়েটি অসুস্থ। বাবা সেখানে গিয়ে মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পান। নির্যাতনের বিষয়ে সাফিকুরের স্ত্রী কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটি বর্তমানে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মামলা ও গ্রেপ্তার
এ ঘটনায় গত ১ ফেব্রুয়ারি শিশুটির বাবা উত্তরা পশ্চিম থানায় সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের মামলা করেন। মামলার পর ওই দিন শেষ রাতেই রাজধানীর উত্তরা থেকে সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।