• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন
Headline
১২ নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারের পথে যাবে না সরকার: আইনমন্ত্রী ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা করের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন ‘লেডি মীর জাফর’ বলে ফেসবুকে পোস্ট: ডিএজির বিরুদ্ধে রুমিন ফারহানার অভিযোগ ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন: উত্তরে জামায়াতের প্রার্থী সেলিম, দক্ষিণে সাদিক দেশের বিমা খাতে বিশাল অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি হয়েছে: অর্থমন্ত্রী সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন, প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে কাল থেকে : প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

১৫ দিনের পথ এখন বায়ান্ন দিন: জ্বালানি আমদানিতে নতুন সংকট

Reporter Name / ১ Time View
Update : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিশ্বায়নের এই যুগে কোনো দেশই আর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়। হাজার মাইল দূরের কোনো এক প্রণালিতে যখন বারুদের গন্ধ ভাসে, তার সরাসরি আঁচ এসে লাগে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের সাধারণ মানুষের রান্নাঘর থেকে শুরু করে বৃহৎ শিল্পকারখানার চিমনির ধোঁয়ায়। মধ্যপ্রাচ্যের চরম ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং লোহিত সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় এখন যে ভয়াবহ অশনিসংকেত বাজছে, তা অতীতের যেকোনো সংকটের চেয়ে গভীর ও সুদূরপ্রসারী। মাত্র কয়েক মাস আগেও সৌদি আরব থেকে যে জ্বালানি তেলের চালান দেশের বন্দরে পৌঁছাতে সময় লাগত বড়জোর পনেরো থেকে ষোলো দিন, আজ সেই একই চালান দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসতে সময় লাগছে পঞ্চাশ দিনেরও বেশি। গতির এই আকস্মিক পতন কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় কয়েকটা দিন বাড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি দেশের আমদানি ব্যয়কে আক্ষরিক অর্থেই দ্বিগুণ করে তুলেছে। বিশ্ববাজারের এই ত্রাহি অবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এক নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়েছে, যেখানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর তৈরি হয়েছে এক রক্তক্ষয়ী চাপ।
এই গভীর সংকটের শুরুটা হঠাৎ করে হয়নি, তবে এর বিস্তৃতি ঘটেছে দাবানলের মতো। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ধমনি—হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতার শিকার। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সমুদ্র বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত আক্রমণ এবং একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের কারণে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখন প্রায় অসাধ্য হয়ে উঠেছে। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক জ্বালানি আমদানিকারক দেশ বিকল্প হিসেবে বাব আল-মান্দেব প্রণালিটির ওপর মারাত্মকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বিকল্প পথটিও যখন কার্যত অবরুদ্ধ, তখন বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে ইরাক থেকে আসা এক আকস্মিক ড্রোন হামলা। এই হামলার জেরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরব তাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট ওয়েস্ট পাইপলাইন’-এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। এই পাইপলাইনটি ছিল হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি এড়ানোর এক মোক্ষম হাতিয়ার। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এক গভীর অন্ধকার সুড়ঙ্গে প্রবেশ করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই শ্বাসরুদ্ধকর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের সরাসরি ও তাত্ক্ষণিক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দামে এক উল্লম্ফন দেখা গেছে। এক মাস আগে যে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৮৭ দশমিক শূন্য ৭ ডলার, তা গত শুক্রবার এক লাফে ১০৪ দশমিক ৬১ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। দামের এই লাগামহীন পাগলা ঘোড়া বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এক অশনিসংকেত। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার জন্য এই বাড়তি মূল্যের জোগান দেওয়া এক চরম পরীক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনিতেই দেশের অর্থনীতিতে ডলারের সংকট একটি দৃশ্যমান ক্ষত, তার ওপর জ্বালানির এই আকাশচুম্বী দাম সেই ক্ষতস্থানে যেন আক্ষরিক অর্থেই নুন ছিটিয়ে দিচ্ছে।
বাস্তবতার নিরিখে এই সংকটের গভীরতা কতটা ভয়াবহ, তা বোঝা যায় একটি সাম্প্রতিক জাহাজের যাত্রাপথ বিশ্লেষণ করলে। বাব আল-মান্দেব প্রণালির ঝুঁকি এড়াতে বাধ্য হয়ে সম্পূর্ণ বিকল্প ও দীর্ঘ এক ঘুরপথ বেছে নিতে হয়েছে জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ সম্প্রতি দেশে পৌঁছেছে। আগে যেখানে এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগত মাত্র বারো থেকে তেরো দিন, সেখানে আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে আসতে এমটি নিনেমিয়ার লেগেছে পাক্কা বায়ান্ন দিন। গত ২৩ জুলাই ইয়ানবু বন্দর থেকে নোঙর তুলে যাত্রা শুরু করা এই বিশালাকৃতির জাহাজটি ভূমধ্যসাগর হয়ে উত্তর আটলান্টিক ও দক্ষিণ আটলান্টিক পাড়ি দেয়। এরপর আফ্রিকার কুখ্যাত ‘কেপ অব গুড হোপ’ বা উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে ভারত মহাসাগরের উত্তাল ঢেউ ভেঙে গত শনিবার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়। বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএমওএ) সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী এই দীর্ঘ যাত্রার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে সমস্যা শুরু হওয়ার পর সৌদি আরব ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে তেল রপ্তানি করছিল, যা বাব আল-মান্দেব হয়ে আসত। কিন্তু হুতিদের ক্রমাগত হুমকির কারণে সেই পথও এখন অবরুদ্ধ। এই সুদীর্ঘ ঘুরপথের কারণে কেবল সময় যে চার গুণ বেশি লাগছে তা নয়, বরং জাহাজ ভাড়াসহ আমদানির সামগ্রিক খরচ এক অকল্পনীয় পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে।
এই অতিরিক্ত সময়ের মূল্য আদতে কত? জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যবহৃত বিশালাকৃতির ট্যাংকারের খাত সংশ্লিষ্টরা এক ভয়াবহ হিসাব দিয়েছেন। তারা জানান, এই ঘুরপথে সাধারণত একটি ট্যাংকারে শুধু ভাড়ার পেছনেই ৪০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাড়তি ব্যয় যুক্ত হতে পারে। সরাসরি পথে এলে যে বিশাল অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় হতো, তা এখন গিলে খাচ্ছে সমুদ্রের দীর্ঘ পথ। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের অর্থ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, স্বল্প দূরত্বের পথ পরিহার করে আফ্রিকা ঘুরে আসায় জ্বালানি খরচ এবং ফ্রেইট চার্জ বা পণ্য পরিবহন ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে অনেক জাহাজের মালিক রাজিও হচ্ছেন না। ফলে বাজারে তৈরি হয়েছে জাহাজ প্রাপ্তির তীব্র সংকট। এছাড়া যুদ্ধের দামামার মধ্যে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার কারণে ইন্স্যুরেন্স বা বিমা কোম্পানিগুলো তাদের প্রিমিয়ামের হার বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সব মিলিয়ে জ্বালানি আমদানির খরচ প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার এক প্রবল শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিপিসির আর্থিক সক্ষমতার ওপর এক পাহাড়সমান চাপ সৃষ্টি করেছে।
সমস্যা কেবল অর্থের নয়, সমস্যা প্রাপ্যতারও। বিপিসির বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সারাবিশ্বের জ্বালানি পণ্যের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করা হয়। এই পথটিতে বিঘ্ন ঘটার অর্থ হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রিফাইনারি বা শোধনাগারগুলোর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ক্রুড পেতে মারাত্মক দেরি হওয়া। আর ফিড বা কাঁচামাল প্রাপ্তিতে এই বিলম্বের মানেই হলো বিশ্ববাজারে পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া। বাংলাদেশ যেহেতু পরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওপরও অনেক বেশি নির্ভরশীল, তাই আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীরাও সময়মতো জাহাজ না পাওয়ার কারণে বাংলাদেশে জ্বালানি পাঠাতে হিমশিম খাচ্ছে। চুক্তিতে যে পরিমাণ জ্বালানি দেওয়ার কথা, তা অনেক ক্ষেত্রেই পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিপিসি অবশ্য আশ্বস্ত করেছে যে তাদের কাছে অক্টোবর পর্যন্ত তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং নভেম্বরের জন্য নতুন করে তেল আমদানির সব ধরনের প্রস্তুতি ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর ক্রুড অয়েল লোড করে আরও একটি জাহাজ মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে। যদি মান্দেব প্রণালি দিয়ে আসা সম্ভব না হয়, তবে এমটি নিনেমিয়ার মতোই দীর্ঘ ঘুরপথের ক্লান্তি মেনেই তাকে দেশের পথে ভাসতে হবে।
জ্বালানি খাতের এই মহাসংকট সরাসরি আঘাত হানছে দেশের শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানান, মান্দেব প্রণালি এবং সৌদি পাইপলাইনের অচলাবস্থা বাংলাদেশের জন্য এক গভীর দুর্ভাবনার বিষয়। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এ ধরনের ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সময় সাধারণত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী চাহিদামতো তেল পাওয়া যায় না, আর পাওয়া গেলেও তার মূল্য থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। দেশে এমনিতেই প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে, যার কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এই অবস্থায় ডিজেলের প্রাপ্তিতে বিঘ্ন ঘটলে তা শিল্প খাতের জন্য এক মরণঘাতী আঘাত হিসেবে আবির্ভূত হবে। বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর। ড. মোয়াজ্জেমের মতে, এই সংকট কোনো সাময়িক মেঘ নয় যে দ্রুত কেটে যাবে; এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জ। এই কঠোর বাস্তবতা মেনেই রাষ্ট্রকে তার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো, যেমন—ব্রুনাই, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির কূটনৈতিক পথ এখনই প্রশস্ত করতে হবে।
এই রূঢ় বাস্তবতার সবচেয়ে মর্মান্তিক শিকার হতে যাচ্ছে দেশের সাধারণ ভোক্তা ও রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাত। বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মো. সালাহ উদ্দিন এক ভয়ংকর অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন, শুধু আমদানি নয়, বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যও এক বিশাল দেয়ালের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। আগে ইউরোপে একটি চল্লিশ ফুটের কনটেইনার পাঠাতে যেখানে খরচ হতো প্রায় ৪ হাজার মার্কিন ডলার, এখন বিকল্প পথে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ হয়ে সেই একই কনটেইনার রপ্তানি করতে খরচ লাফিয়ে লাফিয়ে ১০ হাজার ডলারে গিয়ে ঠেকবে। আমদানির ক্ষেত্রেও ঠিক একই হারে ভাড়া বৃদ্ধি পাবে। কনটেইনার ভাড়ার এই আড়াই গুণ বৃদ্ধির ভার শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়বে দেশের সাধারণ ভোক্তাদের ঘাড়েই। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে শিল্প কারখানার কাঁচামাল—সবকিছুর দাম হু হু করে বাড়বে, যা দেশের মূল্যস্ফীতিকে এক অনিয়ন্ত্রিত উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মো. আমিরুল হকের কথায়ও একই সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই সমস্যাটি সম্পূর্ণভাবে বৈশ্বিক এবং এর সমাধান খুব দ্রুত বা সহজে হওয়ার কোনোই সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এই দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক জ্বালানি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে তার চিরায়ত জীবাশ্ম জ্বালানির মোহ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা রিনিউয়েবল এনার্জির ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া ছাড়া ভষ্যিতের এই অনিশ্চিত পৃথিবীতে টিকে থাকার আর কোনো টেকসই বিকল্প বাংলাদেশের সামনে খোলা নেই।
পরিশেষে এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা যায় যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই রাজনৈতিক দাবানল বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক কঠিন চৌরাস্তায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সমুদ্রের বুকে ভাসমান ওই বিশালাকৃতির তেলের ট্যাংকারগুলো আজ কেবল জ্বালানি নয়, বরং একটি স্বাধীন দেশের অর্থনৈতিক বেঁচে থাকার রসদ বহন করছে। বিকল্প উৎস সন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর এবং বৈদেশিক মুদ্রার সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী ব্যবহারের মাধ্যমেই কেবল এই বৈশ্বিক ঝড়ের মোকাবিলা করা সম্ভব। অন্যথায় মহাসাগরের ওই দীর্ঘ ঘুরপথের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতির উত্তরণের পথটিও এক অন্তহীন ও অন্ধকার যাত্রায় পরিণত হওয়ার প্রবল শঙ্কা থেকেই যায়। এমন এক অনিশ্চিত বিশ্বব্যবস্থায়, বাংলাদেশ কি পারবে তার অর্থনৈতিক সুরক্ষার জন্য নতুন কোনো টেকসই পথ রচনা করতে?
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category