• শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন
Headline
অনলাইনে সাত ধরনের প্রতারণা ফারাক্কা বাঁধ এখন দেশের জন্য ‘মরণফাঁদ’: মির্জা ফখরুল চীনের সঙ্গে বিশ্বকাপ সম্প্রচার চুক্তি সম্পন্ন: অনিশ্চয়তায় ভারতের বাজার হাম ও এর উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ১২ শিশুর মৃত্যু: হাসপাতালে ভর্তি ১৩০৩ জন গাজীপুরে এক সপ্তাহে ১১ খুন: চরম আতঙ্কে সাধারণ মানুষ অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য: ডিএমপি কমিশনারকে তলবের আবেদন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিষয়ে ২০২৪ সালেই উদ্বেগ জানিয়েছিলাম: তাসনিম জারার চট্টগ্রামে এনসিপির নবগঠিত কমিটি থেকে ২২ নেতার একযোগে পদত্যাগ ১১ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ: রাজনৈতিক বিবেচনা পরিহার করে পুনর্বিবেচনার দাবি জামায়াতের যুক্তরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচন: পাঁচ শতাধিক ইসলামপন্থি ও ফিলিস্তিন সমর্থক কাউন্সিলরের বিজয়

৭ বছরের অচলাবস্থার অবসান: কাপ্তাইয়ের ঝুঁকিপূর্ণ দুই ইউনিট সংস্কারে জাপানি অর্থায়নের আশ্বাস

Reporter Name / ৩ Time View
Update : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি জরাজীর্ণ ইউনিট অবশেষে পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের মুখ দেখতে যাচ্ছে। দরপত্র ও ক্রয়সংক্রান্ত নানা জটিলতায় দীর্ঘ সাত বছর ধরে আটকে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে এবার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।

মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ইউনিট ৪ ও ৫

নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ১০ বছর পর পর ইউনিটগুলোর পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের (ওভারহলিং) কথা থাকলেও, ২০১০ সালের পর ৪ নম্বর এবং ২০১১ সালের পর ৫ নম্বর ইউনিটে আর কোনো বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। বর্তমানে ইউনিট দুটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে।

  • ফাটল ও সাময়িক মেরামত: ইউনিট দুটির জেনারেটরের ধাতব কাঠামোতে ফাটল দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে প্রতি সপ্তাহে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ওয়েল্ডিংয়ের মতো অস্থায়ী মেরামত করে এগুলো সচল রাখা হয়েছে।

  • উৎপাদন ঘাটতি: যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতার প্রতিটি ইউনিট থেকে বর্তমানে সর্বোচ্চ ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এতে জাতীয় গ্রিডে কেন্দ্রটির মোট সরবরাহ অন্তত ২০ মেগাওয়াট কমে গেছে।

  • বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: চলতি বছরের (২০২৪) শুরুতে জাপানি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তোশিবার একটি বিশেষজ্ঞ দল ইউনিট দুটি পরিদর্শন করে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, অবিলম্বে বড় ধরনের সংস্কার না করলে এই ইউনিটগুলো যেকোনো সময় বড় ধরনের পরিচালন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সংস্কারকাজে দীর্ঘসূত্রতা ও দরপত্র-জটিলতা

২০১৮ সালে তোশিবার কারিগরি মূল্যায়নের পর প্রথম এই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকেই শুরু হয় দরপত্র নিয়ে জটিলতা।

  • ২০১৯ সালে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) ব্যবহার করে দরপত্র ডাকা হলেও প্রতিযোগীর অভাবে তা বাতিল হয়।

  • এরপর ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে আরও তিনবার উন্মুক্ত দরপত্র (ওটিএম) আহ্বান করা হয়।

  • মূলত ইউনিটগুলো তোশিবার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশে তোশিবার প্রতিনিধি ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান দরপত্রের কঠিন শর্ত মেটাতে পারেনি। এতে স্থানীয় ঠিকাদাররা আপত্তি জানালে বারবার দরপত্র প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যায় এবং প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়ে।

নতুন আশায় জাইকা ও বিপিডিবি

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, জাইকা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অর্থায়নের অংশ হিসেবে অত্যন্ত সাশ্রয়ী এই প্রকল্পে যুক্ত হতে চাইছে। গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে জাইকার প্রতিনিধি দল একাধিকবার কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহ করেছে।

  • বিপিডিবির প্রকল্প পরিকল্পনা বিভাগ বর্তমানে জেনারেটরের পাশাপাশি ইউনিট দুটির টারবাইন অংশকেও পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের আওতায় এনে নতুন করে একটি বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির কাজ করছে।

  • ২০১৮ সালের প্রাথমিক হিসেবে এই সংস্কারের ব্যয় ১০০ কোটি টাকা ধরা হলেও, বর্তমান বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতিতে এই খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কৌশলগত গুরুত্ব

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট। জ্বালানি হিসেবে কেবল নদীর প্রাকৃতিক পানি ব্যবহৃত হওয়ায় এই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ দেশের যেকোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়ে বহুগুণ কম। প্রকৌশলীদের মতে, ক্ষেত্রবিশেষে এখানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে এক টাকারও কম খরচ হয়। তাই সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে জাইকার এই উদ্যোগ দেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category