দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে নীরব থাকার অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ডা. তাসনিম জারা। তার দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টার অব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি ২০২৪ সালেই সরব হয়েছিলেন। চলমান সংকটকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে শিশুদের জীবন রক্ষায় সবাইকে মনযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে অপপ্রচারের জবাব
শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ডা. জারা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর কড়া জবাব দেন। তিনি বলেন, “দুটি দলের কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে প্রচার করছেন যে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আমি কিছু বলিনি, কিছু করিনি। আমি নাকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছের মানুষ ছিলাম এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে বাঁচাতে এখন চুপ থাকছি।” এই দাবিগুলোকে তিনি পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে আখ্যায়িত করেন।
সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নিয়ে অতীত অবস্থান
ডা. জারা স্পষ্ট করেন যে, তিনি কখনোই সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টার ভুল পদক্ষেপের বিষয়ে চুপ ছিলেন না। বরং ২০২৪ সালেই তিনি স্বাস্থ্য খাতের চরম অব্যবস্থাপনা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসায় ধীরগতির তীব্র সমালোচনা করে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
চলমান সংকট নিয়ে তার বর্তমান পদক্ষেপসমূহ:
নিজের নীরব থাকার অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি জানান, হামের প্রাদুর্ভাব রোধে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন:
জনসচেতনতা তৈরি: গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি বিভিন্ন সভা ও সেমিনারে হামের প্রাদুর্ভাব এবং এর সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে নিয়মিত কথা বলছেন। মূলধারার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলেও তার এসব বক্তব্য উন্মুক্ত রয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রস্তাব: প্রাদুর্ভাবের জন্য কারা দায়ী, তা নির্ধারণ করতে গত ১৯ এপ্রিলই তিনি একটি সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনের জোর প্রস্তাব দিয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য নিয়ে রাজনীতির সমালোচনা
সবশেষে একটি জনস্বাস্থ্য সংকটকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান ডা. জারা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “একটি জনস্বাস্থ্য সংকটকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। যখন শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে, তখন বিভ্রান্তি ছড়ানো নয়—বরং সমাধানে কাজ করাটাই সবার জরুরি দায়িত্ব হওয়া উচিত।”