• সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩০ অপরাহ্ন
Headline
রান্নার কষ্ট লাঘবে নারীদের এলপিজি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর হামের টিকা দ্রুত নিশ্চিত করার নির্দেশ হাইকোর্টের আগামী সপ্তাহ থেকেই লোডশেডিং কমার আশ্বাস বিদ্যুৎমন্ত্রীর ফিলিস্তিনের পৌর নির্বাচনে আব্বাসপন্থিদের বড় জয়: দুই দশক পর গাজায় ভোট পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, জানালেন আরাগচি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে, চাইলে ফোন করতে পারে তেহরান: ট্রাম্প পাকিস্তান সফর শেষে মস্কো পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন নৌ-অবরোধ ব্যর্থ! হরমুজ প্রণালি বন্ধ সত্ত্বেও তেলের আয় ৪০ শতাংশ বাড়ল ইরানের গোপন আস্তানা থেকে দেশ চালাচ্ছেন মোজতবা খামেনি: নিউইয়র্ক টাইমসের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন কোনো হিসাবেই নেই মধ্যবিত্তরা: মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির বাড়তি দামে দিশেহারা এক নীরব শ্রেণি

অর্থের লোভে কোমলমতি শিশুদের মুখে বিষ: মিড ডে মিলে পচা খাবার

Reporter Name / ১ Time View
Update : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানো এবং ঝরে পড়া রোধের মহৎ উদ্দেশ্যে চালু হওয়া ‘মিড ডে মিল’ প্রকল্প এখন শিশুদের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বেশি লাভের আশায় কিছু অসাধু ঠিকাদার কোমলমতি শিশুদের মুখে তুলে দিচ্ছেন বাসি ডিম ও পচা কলা। এসব নিম্নমানের খাবার খেয়ে মাদারীপুর, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। দেশজুড়ে এমন অভিযোগ ওঠার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ নড়েচড়ে বসেছেন। ইতিমধ্যে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) পাঠানো হয়েছে এবং দেশব্যাপী জোরদার তদারকি শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি মাদারীপুরে মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে বেশ কয়েকজন শিশু অসুস্থ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সেখানে সরবরাহকৃত খাবারের মান অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় জেলা প্রশাসক নিজে একটি অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া ডিপিই থেকেও ওই ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে চুক্তি বাতিলের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মাদারীপুরের পাশাপাশি রংপুর বিভাগের কয়েকটি স্কুলেও একই ধরনের সমস্যার খবর পাওয়া গেছে, যা নিয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে তিন দিন একটি করে সেদ্ধ ডিম দেওয়া হয়। কিন্তু অসাধু ঠিকাদাররা অনেক সময় আগের রাতেই ডিম সেদ্ধ করে রাখেন, যা পরদিন স্কুলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে নষ্ট হয়ে যায় বা অর্ধসেদ্ধ থেকে যায়। আবার অনেক ডিমের গায়ে মুরগির বিষ্ঠা লেগে থাকতে দেখা যায়, যা অপরিষ্কার হাতেই শিশুরা খেয়ে জীবাণু সংক্রমণের শিকার হচ্ছে। একইভাবে পরিবহনের সময় নষ্ট হওয়া পচা কলাও শিশুদের দেওয়া হচ্ছে। এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে শিশুরা বমি, পাতলা পায়খানাসহ নানা পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।

ডিপিই সূত্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মেয়াদ পর্যন্ত ৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে দেশের ৮টি বিভাগের ৬২ জেলার ১৫০টি উপজেলায় এই মেগা প্রকল্প চলছে। ১৯ হাজার ৪১৯টি স্কুলের প্রায় ২৯ লাখ ৬০ হাজার শিক্ষার্থী বর্তমানে এই সুবিধার আওতায় রয়েছে। প্রকল্পটির ইতিবাচক দিক হলো, মিড ডে মিল চালুর পর বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বাড়ছে; যেমন রাজশাহী বিভাগের ১২টি উপজেলায় ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীর হার ৫.৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সপ্তাহে পাঁচ দিনের এই খাদ্য তালিকায় ডিম, কলা, ফর্টিফাইড বিস্কুট, বনরুটি এবং পাস্তুরিত তরল দুধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব সরবরাহের জন্য উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সারা দেশে একাধিক ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে ডিপিইর প্রকল্প কর্মকর্তা ও যুগ্মসচিব মুহাম্মদ হারুন আর রশীদ জানান, শিশুদের মানসম্মত ও ভেজালমুক্ত খাবার নিশ্চিতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। খাবারের মান ঠিক রাখতে দূর থেকে সেদ্ধ ডিম বা পাকা কলা পরিবহন না করে স্থানীয়ভাবে স্কুল বা অভিভাবকদের মাধ্যমে তা গরম অবস্থায় সংগ্রহের ওপর জোর দেন তিনি। পাশাপাশি রাস্তার পাশের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া থেকে শিশুদের বিরত রাখতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ারও আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।

অন্যদিকে, গত শনিবার নরসিংদীর বাসাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের দেওয়া রুটিতে দুর্গন্ধ পান এবং খাবারের মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রতিমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক নির্দেশে দুটি নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। শিশুদের খাবারে কোনো ধরনের ত্রুটি বা দুর্নীতি প্রমাণ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের কার্যাদেশ বাতিলের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category