দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শপথ নিতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিতব্য এই ঐতিহাসিক আয়োজনে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গতকাল রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ইস্যু করা এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ও দপ্তরের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্ব এবং যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের নেতাদের সমন্বয়ে একটি ‘চমকপ্রদ’ ও ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ সরকার গঠন করা হয়েছে।
একনজরে নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আজ যারা রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ পদ ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে শপথ নিতে যাচ্ছেন, তাদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী:
১. রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
২. প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী: তারেক রহমান
৩. স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী (যৌথ বিবেচনায়)
পূর্ণ মন্ত্রী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়:
৪. স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন (LGRD): মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
৫. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: সালাহউদ্দিন আহমেদ
৬. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
৭. অর্থ মন্ত্রণালয়: ড. রেজা কিবরিয়া
৮. আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়: মো. আসাদুজ্জামান
৯. তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়: আন্দালিব রহমান পার্থ (বিজেপি)
১০. পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়: ড. আব্দুল মঈন খান
১১. বাণিজ্য মন্ত্রণালয়: আব্দুল মুক্তাদির
১২. শিল্প মন্ত্রণালয়: আব্দুল আউয়াল মিন্টু
১৩. শিক্ষা মন্ত্রণালয়: আ ন ম এহসানুল হক মিলন
১৪. বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
১৫. নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ
১৬. গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়: মির্জা আব্বাস
১৭. রেলপথ মন্ত্রণালয়: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
১৮. ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়: নুরুল হক নুরু (গণঅধিকার পরিষদ)
১৯. সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়: জোনায়েদ সাকি (গণসংহতি আন্দোলন)
২০. স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ: ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন
২১. কৃষি মন্ত্রণালয়: শামসুজ্জামান দুদু
২২. সড়ক পরিবহন ও সেতু: আমান উল্লাহ আমান
২৩. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়: ড. ইসমাইল জবিউল্লাহ
২৪. শ্রম ও কর্মসংস্থান: নজরুল ইসলাম খান
২৫. পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়: আসাদুল হাবিব দুলু
২৬. মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়: ফজলুর রহমান
২৭. যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়: আলী আসগর লবী
২৮. ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়: শামীম কায়সার লিংকন
২৯. বেসামরিক বিমান ও পর্যটন: আলতাফ হোসেন চৌধুরী
৩০. সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়: রুহুল কবির রিজভী
৩১. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়: দিপেন দেওয়ান
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন যারা:
স্বরাষ্ট্র: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি
পররাষ্ট্র: ড. হুমায়ুন কবির
শিক্ষা: সাঈদ আল নোমান
তথ্য: ড. মাহদী আমিন
তারুণ্য ও শরিকদের মূল্যায়ন
তালিকায় দেখা যায়, তারেক রহমান তার প্রথম মন্ত্রিসভায় প্রবীণদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের গতিশীলতার সমন্বয় ঘটিয়েছেন। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ড. মাহদী আমিন-এর নাম তরুণদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনে যারা বিএনপির সঙ্গে যুগপৎভাবে রাজপথে ছিলেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়েছে। শরিক দলের মধ্যে বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ (তথ্য), গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি (সংস্কৃতি) এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরু (ডাক ও টেলিযোগাযোগ) পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন।
আজকের এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার সূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।