দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা চলে আসছে| বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী যাত্রীদের তল্লাশি এবং কার্গো ব্যবস্থাপনায় কতটুকু স্বচ্ছতা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখা হচ্ছে, তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে| ঠিক এ রকম একটি সন্ধিক্ষণে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা বা আইকাওয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অডিট বা নিরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)| আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম-কন্টিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচ নামের এই বিশেষ অডিটটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে| এই নিরীক্ষা কার্যক্রমে বেবিচকের সদর দপ্তর থেকে শুরু করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও তার বাস্তব প্রয়োগের কাঠামো অত্যন্ত গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে| কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নিরীক্ষার ঠিক আগমুহূর্তে দেশের প্রধান বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি বিশাল গলদ ধরা পড়ায় পুরো এভিয়েশন খাতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে|
ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৬ জুলাই, যা দেশের বিমানবন্দরগুলোর তল্লাশি ব্যবস্থার দৈন্যদশাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়| ওই দিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একাধিক অত্যাধুনিক নিরাপত্তা স্তর ও স্ক্যানিং মেশিন সম্পূর্ণ অনায়াসেই পার হয়ে যায় একটি যাত্রীর ব্যাগ, যার ভেতরে লুকানো ছিল ৩১ রাউন্ড তাজা গুলি| ঢাকায় দুই দফা নিরাপত্তা তল্লাশি ও স্ক্যানিং হওয়ার পরও এই বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন দায়িত্বে থাকা কর্মীরা| ব্যাগটি নির্বিঘ্নে বিমানে উঠে যায় এবং ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সেখানকার স্ক্যানারে এই তাজা গুলিগুলো ধরা পড়ে| এরপরই ঘটনাটি জানাজানি হয় এবং বাংলাদেশের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও এক ধরনের নেতিবাচক বার্তা পৌঁছায়| সম্পূর্ণ শনাক্তহীন অবস্থায় দেশের প্রধান বিমানবন্দর থেকে তাজা গুলি পার হয়ে যাওয়ার এই রোমহর্ষক ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়| এর মধ্যে একটি কমিটি গঠন করে খোদ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং অপর কমিটিটি গঠন করা হয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তর থেকে| দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই গুলিভর্তি ব্যাগটি চেকিং পয়েন্ট পার হওয়ার ক্ষেত্রে দুই স্ক্রিনারের চরম দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি| পরবর্তীতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ওই দুই স্ক্রিনিং অপারেটরকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার জন্য বেবিচক সদর দপ্তরের কাছে লিখিতভাবে সুপারিশ পেশ করা হয়| আলোচিত এবং অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই ঘটনার পর দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রকৃত কার্যকারিতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অনেক বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে|
এমন একটি অস্বস্তিকর প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক মহলের তীক্ষ্ণ নজরদারির মধ্যেই আইকাওয়ের আসন্ন অডিটকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জোরালো দাবি করছে বেবিচক| সংস্থাটির নিরাপত্তা বিষয়ক সদস্য এয়ার কমোডর মো. আসিফ ইকবাল জানিয়েছেন যে, তাদের আসন্ন অডিটের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে প্রায় ৯৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে| নিজেদের ভেতরে থাকা ঘাটতি বা দুর্বল দিকগুলো খুঁজে বের করে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঠিক করার জন্য বর্তমানে তিন ধাপে প্রাক-অডিট বা মক অডিটের কাজ চলমান রয়েছে| এর অংশ হিসেবে এরই মধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং বেসরকারি খাতের ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের অভ্যন্তরীণ অডিট সফলভাবে শেষ করা হয়েছে| একই সঙ্গে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও নিবিড়ভাবে অডিট কার্যক্রম চলছে| এসব অভ্যন্তরীণ অডিটে যেসব ছোটখাটো ঘাটতি বা অস্পষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে, আইকাওয়ের মূল অডিটের আগেই সেগুলো দ্রুত সংশোধন করে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে| তিনি অত্যন্ত আশাবাদী যে, আসন্ন এই আন্তর্জাতিক অডিটে বেবিচকের সার্বিক স্কোর আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ৭৫ শতাংশে উন্নীত হবে|
গত ১৬ জুলাই শাহজালাল বিমানবন্দরে স্ক্যানিং মেশিনে তাজা গুলি ধরা না পড়ার মতো মারাত্মক ঘটনাটি নিয়ে এয়ার কমোডর আসিফ ইকবাল কিছুটা সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেছেন| তিনি মনে করেন, বিশ্বের অনেক বড় ও অত্যাধুনিক বিমানবন্দরেও মাঝেমধ্যে এ ধরনের দু-একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকে| তার ব্যক্তিগত মত হলো, ওই ব্যাগে শুধু গুলিই ছিল, কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না, তাই এর মাধ্যমে খুব বড় ধরনের কোনো তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়নি| তিনি আরও দাবি করেন, নির্দিষ্ট একটি ঘটনার কারণে আইকাওয়ের আন্তর্জাতিক অডিটে বাংলাদেশের স্কোরের ওপর খুব বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না| তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন যে, এমন একটি ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হওয়াটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া| তার দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ও তদারকি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর ও নিশ্ছিদ্র রাখা হয়েছে|
তবে দেশের শীর্ষস্থানীয় এভিয়েশন ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনাটিকে নিছক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই| বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক উইং কমান্ডার এবং প্রখ্যাত এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম মনে করেন, আইকাওয়ের অডিটে কেবল কাগজে-কলমে লেখা থাকা নিয়মনীতি বা প্রটোকল দেখা হয় না, বরং মাঠ পর্যায়ে সেগুলোর কতটা বাস্তব প্রয়োগ হচ্ছে, সেটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়| তার মতে, স্ক্যানার ফাঁকি দিয়ে তাজা অস্ত্র বা গুলি পার হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা কিংবা বিমানবন্দরের নিজস্ব কর্মীদের দায়িত্বে চরম অবহেলা ও অনিয়ম সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য এক অকল্পনীয় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে| এই এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ আরও উল্লেখ করেন যে, আইকাও শুধু একটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দরের চার দেয়ালের ভেতরের অবস্থা দেখবে না, বরং তারা পুরো দেশের সামগ্রিক এভিয়েশন সিকিউরিটি তদারকি এবং তার আইনি ও বাস্তবভিত্তিক বাস্তবায়ন ব্যবস্থাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করবে|
এটিএম নজরুল ইসলামের মতে, দেশের বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একাধিক দেশি-বিদেশি সংস্থা ও বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের একটি বিশাল ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরেই বিরাজমান| তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য শুধু বড় বড় নীতিমালা বা বই তৈরি করলেই কোনো কাজ হবে না; বরং মাঠ পর্যায়ে সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে শীর্ষ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করাই হলো সবচেয়ে বড় ও কঠিন পরীক্ষা| এই ঘাটতি পূরণে তিনি বেবিচকের নিজস্ব তদারকি ব্যাপকভাবে বাড়ানো, স্ক্যানারগুলোর নিয়মিত ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিমানবন্দর পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের ভূমিকা সম্পূর্ণ আলাদা করার ওপর সর্বোচ্চ জোর আরোপ করেন|
অন্যদিকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার প্রশ্নে বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন টোটাল এয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের (টাস গ্রুপ) চেয়ারম্যান কেএম মজিবুল হক| তিনি মনে করেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবসময় ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রাখতে হবে| শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনালে যেসব অত্যাধুনিক ও বিশ্বমানের নিরাপত্তা সরঞ্জাম বসানো হচ্ছে, পর্যায়ক্রমে ঠিক একই মানের সরঞ্জাম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরনো টার্মিনালগুলোতেও স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মত দেন| একই সঙ্গে এসব আধুনিক সরঞ্জাম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট জনবলকে যথাযথ ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিতে হবে| তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতে ইউরোপ ও আমেরিকার মতো গন্তব্যগুলোর সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট যোগাযোগ বাড়াতে হলে দেশের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা মানকে আরও অনেক উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যা কোনো একটি একক সংস্থার পক্ষে একা করা একেবারেই অসম্ভব| এজন্য এয়ারলাইনস, বেবিচক, বিমান বাহিনী, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একটি ছাতার নিচে এসে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে| একটি নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি অনুযায়ী জনবলকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে তা বাস্তবে নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই, কারণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ছোট্ট ভুলও দেশের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে| তাই পুরো বিষয়টিকে একটি জাতীয় ইস্যু হিসেবে গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স বা মানদণ্ডকে অগ্রাধিকার দেওয়া অপরিহার্য|
তবে আইকাওয়ের এই আসন্ন নিরাপত্তা অডিটের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) কাঙ্ক্ষিত ‘ক্যাটাগরি-১’ অর্জনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই| বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, আইকাওয়ের এই অডিটে মূলত আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াতকারী যাত্রী, কার্গো ও মেইল পরিবহনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রটোকল ও স্ক্রিনিং ব্যবস্থাগুলো ঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করে দেখা হবে| অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাটাগরি-১ অর্জনের সঙ্গে সম্পর্কিত মূল সেফটি বা সুরক্ষা অডিটটি আগামী বছর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে|
অবশ্য আইকাও অডিটের ঠিক আগে আগে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রেরণাদায়ক ফল লাভ করেছে| যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্টের (ডিএফটি) সর্বশেষ নিরাপত্তা অডিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশের মতো বিশাল স্কোর অর্জন করেছে| আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মূল্যায়নে এই দুটি বিমানবন্দরের স্কোর ছিল যথাক্রমে ৯৩ ও ৯৪ শতাংশ| অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে শাহজালালের স্কোর এক শতাংশীয় পয়েন্ট এবং ওসমানীর স্কোর চার শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে, যা একটি বড় ধরনের সাফল্য| এছাড়া কার্গো-সংক্রান্ত অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল্যায়নেও শতভাগ কমপ্লায়েন্স বা মান বজায় রাখার প্রমাণ পাওয়া গেছে| বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, যুক্তরাজ্যের ডিএফটি অডিটের এই চমৎকার ফলাফল আসন্ন আইকাও অডিটের প্রস্তুতিতে মানসিক ও কাঠামোগতভাবে দারুণ সহায়ক হবে| সেই সঙ্গে ডিএফটি অডিটে পাওয়া বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ থেকে নিজেদের বিদ্যমান ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে তা সংশোধনের একটি বড় সুযোগও তৈরি হয়েছে| উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চ ঝুঁকির কার্গো ও মেইল ব্যবস্থার লাল তালিকার আওতায় রয়েছে| এর ফলে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপগামী যেকোনো কার্গো ও মেইলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা তল্লাশির প্রয়োজন হয়, যা দেশের রফতানিকারকদের সময় ও ব্যয় বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়|
সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে অননুমোদিত ড্রোন ওড়ানোর মতো আধুনিক প্রযুক্তিগত হুমকি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম মজুত রাখা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বা রেসপন্স টাইম| গতকাল শাহজালাল বিমানবন্দরে অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণভাবে আয়োজিত ‘এয়ারপোর্ট ইমার্জেন্সি এক্সারসাইজ (ফায়ার) ২০২৬’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন| তিনি বলেন, খুব শিগগিরই আইকাও অডিট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং তাদের যেকোনো পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সরাসরি দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি গভীরভাবে জড়িত| তাই আইকাওর পক্ষ থেকে যেসব বিষয়ে নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ আসতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে, সেগুলোতে আগে থেকেই শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে| এছাড়া দেশের ভিআইপি, সিআইপিসহ সাধারণ যাত্রী সবার জন্যই একই ধরনের কঠোর নিরাপত্তা প্রটোকল বা নিয়ম অনুসরণের ওপর তিনি বিশেষভাবে জোর দেন| বিমানমন্ত্রী আরও জানান যে, বিমানবন্দরকে রাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা কেপিআই হিসেবে বিবেচনা করে যেকোনো অননুমোদিত ড্রোন হামলা বা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম বসানোর উদ্যোগ দ্রুতই গ্রহণ করা হবে| পাশাপাশি বিমানবন্দরে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের পর প্রথম কয়েক মিনিটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ফায়ার সার্ভিস, বিমানবন্দর পরিচালনা কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তা রক্ষী ও চিকিৎসা দলের মধ্যে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ও সুচারু সমন্বয় নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে কড়া নির্দেশনা প্রদান করেন|
তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা