মধ্যপ্রাচ্যে ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে যে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে এবার কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন করল ওয়াশিংটন। সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ জ্বালানি তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার ওপর ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বাজার স্থিতিশীল করতেই এই জরুরি পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণার পরপরই ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া জ্বালানি তেলের দাম আজ এশীয় বাজারে কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এর আগে গত বুধবার হোয়াইট হাউজ তাদের কৌশলগত মজুদ (SPR) থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিল। মূলত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (IEA) বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাজার সামাল দিতে এই বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা: যুদ্ধের ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে প্রতিদিনের তেলের ঘাটতি বাড়ছে।
ভাসমান রুশ তেল: বর্তমানে বিশ্বের ৩০টি স্থানে প্রায় ১২ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল রুশ তেল সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় আটকে আছে। এই তেল বাজারে এলে আগামী ৫-৬ দিনের বিশ্বব্যাপী ঘাটতি পূরণ সম্ভব হবে।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে ভোটারদের অসন্তুষ্টি এড়াতে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মিত্রদের সাথে মতবিরোধের নতুন মাত্রা
যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘স্বল্পমেয়াদী’ ছাড় মিত্র দেশগুলোর মধ্যে, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বড় ধরণের কূটনৈতিক ফাটল তৈরি করতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভর ডার লিয়েন সাফ জানিয়েছেন যে, এখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সময় নয়। রাশিয়ার আয়ের উৎস বন্ধ করে ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর যে লক্ষ্য পশ্চিমারা নিয়েছিল, আমেরিকার এই পদক্ষেপ সেই প্রচেষ্টাকে সরাসরি দুর্বল করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।