ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ধারবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় এবার চালকবিহীন ‘ড্রোন স্পিডবোট’ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। যদিও এর আগে বিভিন্ন সামরিক মহড়ায় এই বিশেষ প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হয়েছিল, তবে কোনো সক্রিয় যুদ্ধে এই প্রথমবার ড্রোন স্পিডবোটের ব্যবহার শুরু করল ওয়াশিংটন। এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় যুদ্ধের নতুন এক মাত্রা হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চালকবিহীন স্পিডবোটগুলো বহুমুখী সক্ষমতা সম্পন্ন। এটি যেমন সুদূরপ্রসারী নজরদারি চালাতে সক্ষম, তেমনি প্রয়োজনে ‘কামিকাজি’ বা আত্মঘাতী হামলাও করতে পারে। এর অর্থ হলো, লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পর এটি শত্রুঘাঁটির পাশাপাশি নিজেকেও ধ্বংস করে ফেলবে। মেরিল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল অটোনোমাস রিকোনায়েন্সেস ক্রাফট’ (গার্ক) এই বিধ্বংসী নৌযানগুলো তৈরি করেছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে এই স্পিডবোটগুলোকে অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আধুনিক যুদ্ধে আকাশপথে ড্রোনের ব্যবহার অনেক পুরোনো হলেও নৌপথে ড্রোন স্পিডবোটের প্রচলন তুলনামূলক নতুন। ২০২৩ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রথমবার কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেন এই প্রযুক্তির ব্যবহার করেছিল। তবে মার্কিন নৌবাহিনীর সমরাস্ত্র ভাণ্ডারে এটি এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানিয়েছেন, বর্তমানে বাহরাইনভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ৫ম ফ্লিট এই ড্রোন স্পিডবোটগুলো পরিচালনা করছে। পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর ও আরব সাগরের মতো কৌশলগত এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে এই চালকবিহীন নৌযানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।