জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনব্যাপী দীর্ঘ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ‘গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষা’ এই তিন মূল দাবিতে আজ সোমবার (৬ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে দলটির বিশেষ কর্মসূচি ‘জুলাই পদযাত্রা ২০২৬’। রবিবার (৫ জুলাই) দলটির মিডিয়া সেল থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির বিস্তারিত জানানো হয়।
এনসিপির এই কর্মসূচিটি দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল- এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পরিচালিত হবে। আজ বিকেল ৩টায় গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে উত্তরাঞ্চলের পদযাত্রাটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। এরপর আজই সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা জেলার উত্তর সাভারে কর্মসূচি শেষ করে প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় রাত্রিযাপন করবে। পরবর্তীতে ৭ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং সিলেটসহ উত্তরের বিভিন্ন জেলায় পর্যায়ক্রমে এই পদযাত্রা চলবে। আগামী ১৬ জুলাই সকালে রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও দোয়ার মাধ্যমে ওই দিনের কর্মসূচি শুরু হবে।
অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের পদযাত্রাটি শুরু হবে আগামীকাল ৭ জুলাই থেকে। প্রথম দিনে কক্সবাজারের উখিয়া এবং কক্সবাজার সদরে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বান্দরবান, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ভোলা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া এবং মানিকগঞ্জ জেলায় ২৯ জুলাই পর্যন্ত এই পদযাত্রা চলবে। আগামী ১৬ জুলাই জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে মাদারীপুরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। ৩১ জুলাই কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে কর্মসূচি শেষ করে প্রতিনিধি দল ঢাকার বাংলামোটরের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।
এই ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচিতে দেশের সর্বস্তরের নাগরিক, তরুণ সমাজ, সাংস্কৃতিক কর্মী, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে। জুন-জুলাই মাসের এই আন্দোলনটি দেশে ‘জুলাই আন্দোলন’ নামে বিশেষভাবে পরিচিত।