• বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন
Headline
চ্যাটজিপিটিতে লেখার বানান চেক করার বিপদ শহরে কয়টা খাল উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে? — প্রশ্ন হান্নান মাসউদের জিলহজ মাসের প্রথম ১৩ দিনের বিশেষ আমল ও ফজিলত ঈদের ছুটিতে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৮ দফা নির্দেশনা ‘বিচার চাই না, কারণ আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই’: রামিসার বাবার বুকফাটা আর্তনাদ টানা তিন দফা কমল সোনার দাম: ভরিতে কমল ২১৫৮ টাকা কোথাও নিরাপদ নয় শৈশব: রামিসার মর্মান্তিক মৃত্যু ও বিপন্ন শিশুদের ভবিষ্যৎ আনসার বাহিনীকে দক্ষ ও গতিশীল করতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার তাগিদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্মাতা দেবালয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগে আইনি পথে অভিনেত্রী অঙ্কিতা ৬ দিনের নিখোঁজ পর মিলল পাঞ্জাবি গায়িকার দেহ

কোথাও নিরাপদ নয় শৈশব: রামিসার মর্মান্তিক মৃত্যু ও বিপন্ন শিশুদের ভবিষ্যৎ

বিশেষ প্রতিবেদন / ১ Time View
Update : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

একটি নিষ্পাপ শিশু, যার চোখে ছিল আগামী দিনের স্বপ্ন, যার হাসিতে আলোকিত হতো পুরো বাড়ি—সেই শিশুটির নিথর, খণ্ডিত দেহ যখন বাড়ির পাশের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়, তখন থমকে দাঁড়ায় পুরো দেশ। কোথায় নিরাপদ আমাদের শিশুরা? রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা খেলার মাঠ তো দূরের কথা, নিজের ঘরের আঙিনাও আজ শিশুদের জন্য চরম অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসার নৃশংস হত্যাকাণ্ড আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, মানবিক অবক্ষয় আজ কোন তলানিতে এসে ঠেকেছে।

তবে রামিসার ঘটনাই প্রথম বা একমাত্র নয়। প্রতিদিন খবরের কাগজের পাতা উল্টালেই চোখে পড়ে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা কিংবা নিখোঁজ হওয়ার লোমহর্ষক সব সংবাদ। এর পাশাপাশি রয়েছে দেশজুড়ে সক্রিয় থাকা মানবপাচারকারী চক্র, যারা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে শিশুদের পাচার করছে বিদেশের অন্ধকার জগতে। কেন এমন হচ্ছে? কোথায় আমাদের গলদ? রাষ্ট্র, সমাজ এবং সর্বোপরি অভিভাবক হিসেবে আমাদের দায়বদ্ধতা কতটুকু? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার এখনই সময়।

রামিসা হত্যাকাণ্ড: মানবিক অবক্ষয়ের এক চূড়ান্ত রূপ

গত ১৯ মে (মঙ্গলবার) সকালে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকার সেকশন-১১ তে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি যেকোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষকে শিউরে উঠতে বাধ্য করে। স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী, ৭ বছর বয়সী ছোট্ট রামিসা আক্তার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজ ফ্ল্যাট থেকে বের হয়েছিল। কিন্তু সে আর স্কুলে পৌঁছাতে পারেনি।

পুলিশের তদন্ত ও প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা (৩০) নামের এক মাদকাসক্ত রিকশা মেকানিক শিশুটিকে জোর করে নিজের ফ্ল্যাটে টেনে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। বিকৃত যৌন লালসার শিকার হওয়ার পর শিশুটি যখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়, তখন বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে ঘাতক সোহেল তাকে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করে। পৈশাচিকতার এখানেই শেষ নয়; প্রমাণ লোপাট ও লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির দেহ খণ্ডবিখণ্ড করে ওই পাষণ্ড।

রামিসার মা মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে সন্দেহবশত প্রতিবেশী ওই দম্পতির দরজার সামনে মেয়ের স্যান্ডেল দেখতে পান। তিনি দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে, ঘাতক সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা না খুলে ভেতর থেকে আটকে রাখে, যাতে তার স্বামী জানালার গ্রিল কেটে পালাতে পারে। অবশেষে পুলিশ এসে ওই ফ্ল্যাটের বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা এবং খাটের নিচ থেকে মূল দেহ উদ্ধার করে।

ঘাতক সোহেল পালিয়ে গেলেও পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার হয়। সে তার এক বন্ধুর কাছ থেকে বিকাশে টাকা তুলে পালানোর চেষ্টা করছিল। এই ঘটনাটি শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়া বিকৃতির একটি ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।

শুধু রামিসা নয়, দীর্ঘ হচ্ছে শিশু মৃত্যু ও নির্যাতনের মিছিল

রামিসার মর্মান্তিক পরিণতি আমাদের দেশের সামগ্রিক শিশু নিরাপত্তার এক খণ্ডচিত্র মাত্র। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) মতো মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখা যায়, দেশজুড়ে শিশু হত্যা ও নির্যাতনের গ্রাফটি কতটা ভয়ংকর।

  • গৃহকর্মে শিশু নির্যাতন: সামান্য ভুলের কারণে গৃহকর্মী শিশুদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের খবর প্রায়ই শিরোনাম হয়। গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেওয়া, আটকে রেখে অভুক্ত রাখা কিংবা পিটিয়ে হত্যার ঘটনা সমাজে অহরহ ঘটছে। শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের ভেতরেও এমন মধ্যযুগীয় বর্বরতা দেখা যায়।

  • মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ ও হত্যা: অনেক সময় দেখা যায়, পরিচিত ব্যক্তিরাই টাকার লোভে শিশুদের অপহরণ করে। কিন্তু শিশুটি চিনে ফেলার ভয়ে মুক্তিপণ পাওয়ার আগেই তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে দেওয়া হয়।

  • যৌন সহিংসতা: রামিসার মতো অসংখ্য শিশু প্রতিদিন যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, এই অপরাধীদের বড় অংশই শিশুর পরিচিত—যেমন প্রতিবেশী, আত্মীয়, গৃহশিক্ষক বা এলাকার পরিচিত দোকানি।

মাদকের সহজলভ্যতা, পর্নোগ্রাফির অবাধ বিস্তার এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি এই ধরনের অপরাধকে আরও উসকে দিচ্ছে। অপরাধীরা মনে করে, তারা চাইলেই আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসতে পারবে। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের মনে ভীতির বদলে বেপরোয়া মনোভাব তৈরি করছে।

নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তির আড়ালে: বিদেশে পাচার চক্রের অন্ধকার জগৎ

শিশু হত্যা ও নির্যাতনের পাশাপাশি আরেকটি ভয়াবহ নীরব মহামারি হলো শিশু পাচার। খবরের কাগজে বা বিদ্যুতের খুঁটিতে প্রায়ই দেখা যায় ‘নিখোঁজ সংবাদ’। এই নিখোঁজ শিশুদের একটি বড় অংশ আর কখনোই বাবা-মায়ের কোলে ফিরে আসে না। তারা হারিয়ে যায় মানবপাচারকারীদের অন্ধকার জগতে।

  • সীমান্ত পেরিয়ে পাচার: বাংলাদেশ থেকে ভারত, পাকিস্তান হয়ে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত বিস্তৃত এই পাচার চক্রের জাল। দালালরা অনেক সময় দরিদ্র বাবা-মাকে উন্নত জীবন, ভালো চাকরি বা পড়াশোনার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে শিশুদের নিয়ে যায়।

  • জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তি ও শ্রম: পাচার হওয়া শিশুদের একটি বড় অংশকে শারীরিক বা মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে যেসব বিকলাঙ্গ শিশুকে ভিক্ষা করতে দেখা যায়, তাদের পেছনে রয়েছে সংঘবদ্ধ মাফিয়া চক্র।

  • যৌন দাসত্ব ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ: কন্যাশিশুদের অনেক সময় বিক্রি করে দেওয়া হয় নিষিদ্ধ পল্লীতে বা পতিতালয়ে। অন্যদিকে ছেলেশিশুদের জোরপূর্বক ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে বা উটের জকি হিসেবে ব্যবহার করার নির্মম ইতিহাসও রয়েছে।

  • অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাচার: নিখোঁজ হওয়া শিশুদের একটি অংশের পরিণতি হয় আরও ভয়ংকর। আন্তর্জাতিক কালো বাজারে কিডনি বা অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রির উদ্দেশ্যে অনেক শিশুকে হত্যা করা হয় বলে বিভিন্ন তদন্তে উঠে এসেছে।

সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো কাজ করলেও, পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুসংগঠিত। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া এবং দুর্নীতির কারণে অনেক সময় রাঘববোয়ালরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়।

কেন ঘটছে এমন পাশবিকতা?

এই ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু আর্থসামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে:

১. মাদকের বিস্তার: রামিসার ঘাতক সোহেল ছিল মাদকাসক্ত। ইয়াবা, ড্যান্ডি বা অন্যান্য ভয়ংকর মাদকের প্রভাবে অপরাধীদের হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে যায়।

২. পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনের অভাব: একসময় পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে যে নিবিড় সম্পর্ক ও একে অপরের প্রতি দায়বদ্ধতা ছিল, আধুনিক শহুরে জীবনে তা অনেকটাই হারিয়ে গেছে। পাশের ফ্ল্যাটে কী হচ্ছে, তা কেউ জানে না।

৩. ইন্টারনেটের অপব্যবহার: স্মার্টফোনের সহজলভ্যতায় বিকৃত যৌনাচার ও পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি বাড়ছে, যা বিকৃত মানসিকতার জন্ম দিচ্ছে।

৪. বিচারের দীর্ঘসূত্রতা: দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এ ধরনের মামলার বিচার হলেও অনেক সময় সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে বা প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব অপরাধীদের উৎসাহিত করে।

অভিভাবকদের দায়িত্ব: অন্ধ বিশ্বাস নয়, প্রয়োজন সর্বোচ্চ সতর্কতা

রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি শিশু সুরক্ষায় সবচেয়ে বড় ঢাল হতে হবে পরিবারকে। রামিসার ঘটনা প্রমাণ করে, ঘরের পাশের প্রতিবেশীকেও চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করার দিন শেষ। অভিভাবকদের জন্য কিছু অত্যন্ত জরুরি নির্দেশিকা নিচে তুলে ধরা হলো:

  • ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’ সম্পর্কে শিক্ষা: বয়স বাড়ার সাথে সাথেই শিশুকে শেখাতে হবে তার শরীরের কোন অংশগুলোতে অন্যদের স্পর্শ করার অধিকার নেই। কেউ যদি তাকে অস্বস্তিকরভাবে স্পর্শ করে, তবে তা যেন সে অবিলম্বে বাবা-মাকে জানায়।

  • প্রতিবেশী বা আত্মীয়দের ওপর অন্ধ বিশ্বাস পরিহার: শিশুকে কখনোই অপ্রয়োজনে প্রতিবেশী, দূর সম্পর্কের আত্মীয় বা কেয়ারটেকারের ফ্ল্যাটে একা পাঠানো বা দীর্ঘক্ষণ রেখে আসা উচিত নয়। অপরাধী অচেনা মানুষের চেয়ে পরিচিতদের রূপ ধরেই বেশি আসে।

  • সন্তানের চলাচলে নজরদারি: শিশু কার সাথে মিশছে, কোথায় খেলছে, স্কুলে যাওয়ার পথে কারা তাকে নজরে রাখছে—সে বিষয়ে অভিভাবকদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি থাকতে হবে। প্রয়োজনে স্কুলে যাতায়াতের সময় বিশ্বস্ত কারও পাহারায় শিশুকে পাঠাতে হবে।

  • বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি: সন্তানের সাথে এমন একটি সম্পর্ক তৈরি করুন, যাতে সে যেকোনো ভয়ের কথা, কারও খারাপ আচরণের কথা নির্দ্বিধায় আপনার সাথে শেয়ার করতে পারে। শিশু কিছু বললে তা উড়িয়ে না দিয়ে গুরুত্বের সাথে তদন্ত করুন।

  • ইন্টারনেট ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ: শিশু ইন্টারনেটে কী দেখছে, কাদের সাথে কথা বলছে, তার ওপর অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ (Parental Control) থাকা বাধ্যতামূলক।

  • সন্দেহজনক আচরণ খেয়াল করা: শিশুর আচরণে হঠাৎ কোনো পরিবর্তন, যেমন—অকারণে ভয় পাওয়া, চুপচাপ হয়ে যাওয়া বা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে যেতে না চাওয়া, এগুলো বিপদের পূর্বলক্ষণ হতে পারে।

শেষ কথা

রামিসার রক্তমাখা খণ্ডিত দেহ আমাদের সমাজের গালে একটি বড় চপেটাঘাত। এই মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো রাষ্ট্রের ব্যর্থতার প্রতীক। আজ রামিসা শিকার হয়েছে, কাল আপনার বা আমার সন্তান যে এই বিকৃত মানসিকতার শিকার হবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

সরকার ও আইন বিভাগকে নিশ্চিত করতে হবে যে, শিশু ধর্ষণ, হত্যা বা পাচারের মতো অপরাধের বিচার যেন স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে শেষ হয় এবং প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

সবশেষে, রাষ্ট্র বা পুলিশ প্রতিটি বাড়ির দরজায় পাহারা বসাতে পারবে না। তাই নিজেদের সন্তানদের রক্ষায় অভিভাবকদেরই সবচেয়ে বেশি সচেতন হতে হবে। রামিসার এই আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়; প্রতিটি শিশুর জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার এখনই সময়। তা না হলে মানবিকতার এই মৃত্যু উপত্যকায় আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম চিরতরে হারিয়ে যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category