ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বিশ্বরাজনীতি ও সামরিক কৌশলের হিসেব-নিকাশ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশ্লেষণে দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের প্রভাষক মুহানাদ সেলুম জানিয়েছেন, এই হামলা প্রমাণ করে যে তেহরানের হাতে এমন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যার পাল্লা ৪,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি। ইতিপূর্বে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা সর্বোচ্চ ২,০০০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে দাবি করা হয়েছিল, যা এখন ভুল প্রমাণিত হলো।
এই নতুন সামরিক সক্ষমতা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই দুশ্চিন্তার কারণ নয়, বরং ইউরোপের দেশগুলোর জন্যও বড় ধরনের সতর্কবার্তা। বিশ্লেষক মুহানাদ সেলুমের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গতিপথ যদি বিপরীত দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়, তবে সেগুলো অনায়াসেই লন্ডনে আঘাত হানতে সক্ষম। ফলে এতদিন যারা এই সংঘাত থেকে দূরে থাকতে চেয়েছিল, সেই ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সামনে এখন নতুন করে নিরাপত্তার সমীকরণ মেলাতে হচ্ছে। এটি কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, ইরানের হাতে এখন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তেহরান তাদের মহাকাশ কর্মসূচির আড়ালে দীর্ঘ পাল্লার প্রযুক্তির পরীক্ষা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে সক্ষম হতে পারে। ফলে ওয়াশিংটনের জন্য যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ইরানের এই অপ্রকাশিত শক্তি প্রদর্শন বিশ্বজুড়ে সামরিক উত্তেজনার পারদকে এক ধাক্কায় অনেক উঁচুতে তুলে দিয়েছে।