জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, বিএনপি আগের মতোই গুম-খুনের রাজনীতি করতে চায়। এ জন্য গুম-খুন কমিশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপ বাতিল করছেন তারা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, তারা যে আইন করেছে, সেখানে আমরা বলেছি, আগের অধ্যাদেশের মধ্যে ছিল—গুম-খুনের বিষয়ে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসবে, সংশ্লিষ্ট সংস্থা তার তদন্ত করতে পারবে না। কিন্তু সেটা পরিবর্তন করে এখন করা হয়েছে পুলিশ গুম ও খুন করবে, আবার এটার অভিযোগের তদন্তও করবে পুলিশ। এমনকি সেখানে বলা হয়েছে, কোনো অভিযোগকারী যদি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারেন, তবে তার পাঁচ বছর পর্যন্ত সাজার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাহলে কোনো মানুষ কি অভিযোগ করতে যাবে? এগুলো করার উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশকে আবারও স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যাওয়া।
তিনি আরও বলেন, এই বাংলাদেশ কোনো একক পরিবারের নয়; এটি ২০ কোটি মানুষের দেশ। এ দেশ কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নির্ধারণ করবে এ দেশের ২০ কোটি মানুষ। এর মধ্যে যদি কেউ ব্যত্যয় ঘটাতে চায় বা অন্য কোনো চিন্তা করে, তবে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে যেভাবে ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠীকে বিতাড়িত করেছে, একইভাবে তাদেরও বিতাড়িত করবে।
শিক্ষাঙ্গনে আদর্শ মানুষ গড়ে তোলা এবং সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতি মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একদল আদর্শ, সৎ, যোগ্য ও চরিত্রবান মানুষ তৈরির লক্ষ্যে লড়াই করছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় আদর্শ মানুষ তৈরির কোনো সিলেবাস নেই, তাই স্বতন্ত্র সংগঠন হিসেবে ছাত্রশিবির সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ভূমিকা পালন করছে। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ ছিল। গেস্টরুম, টর্চার সেল, গণরুম, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও মাদকের কালচার পুরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে গ্রাস করেছিল। গত ৫ আগস্টের গণবিপ্লবের মধ্য দিয়ে সেটির পরিবর্তন হয়েছে। তবে এই পরিবর্তনকে ধ্বংস করার জন্য অনেকেই এখনো ষড়যন্ত্র করছে।
রাষ্ট্রব্যবস্থায় দলীয়করণ ও স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর বিষয়ে হুইপ বলেন, আমাদের আন্দোলন ছিল বৈষম্য, অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি বর্তমান সরকারও একই দিকে ধাবিত হচ্ছে। তারা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) পরিবর্তন করে দিয়েছে। ইশতেহারে সব ক্ষেত্রে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কথা বলা হলেও সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও সরকারি করপোরেশনগুলোতে দলীয় লোকদের বসানো হচ্ছে। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে এ প্রতিশ্রুতি ছিল না। তাই এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরাচারের জন্ম হতে না পারে।
অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্টে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও আবাসন সুবিধা পায় না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ পায়, বাকি ৭০ শতাংশকে বাইরে থাকতে হয়। পিএসসিতে বিপুল বাজেট দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয় না। প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ২ বছরের মধ্যে শতভাগ আবাসনের ঘোষণা দিতে হবে। দেশেরখবর
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালসহ সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মী এবং প্রায় চার হাজার নবীন শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথি।