• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩২ অপরাহ্ন
Headline
এআই নজরদারিসহ নতুন অবকাঠামোয় বদলে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন কার্যক্রম সারাদেশে ৩ মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু কাল, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষায় ৪২ হাজার কোটি টাকার বাজেট: অবকাঠামোগত জৌলুস বনাম আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তির সক্ষমতা সংকট জাপানি ঋণে সুদ ৫ বছরে ৪ গুণ কী লুকাচ্ছে রূপপুর? ২২০ আশ্রয়কেন্দ্রেই বিকল সোলার সিস্টেম: অবহেলায় নষ্ট শত শত কোটি টাকার সৌর প্রযুক্তি বিহারের আপত্তি বনাম ঢাকার অধিকার: কোন পথে গঙ্গাচুক্তি? টুইন টাওয়ারের ছাই থেকে ভূরাজনীতির নতুন মানচিত্র: নাইন ইলেভেনের ২৫ বছর রাজপথে নতুন মেরুকরণ: বিভাগীয় লংমার্চে জামায়াত ও এনসিপির শক্তি পরীক্ষার রাজনীতি

রাজপথে নতুন মেরুকরণ: বিভাগীয় লংমার্চে জামায়াত ও এনসিপির শক্তি পরীক্ষার রাজনীতি

Reporter Name / ০ Time View
Update : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা ঘটিয়ে রাজপথের উত্তাপ বাড়িয়ে তুলছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃত্বাধীন এগারো দলীয় রাজনৈতিক জোট। নতুন সরকারের বয়স যখন মাত্র ছয় মাস পূর্ণ হলো, ঠিক তখনই রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম পর্যন্ত দীর্ঘ এক মোটর শোভাযাত্রা ও লংমার্চ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক সক্ষমতার জানান দিয়েছে এই জোট। পাঁচ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই কর্মসূচির প্রথম দিনেই কেবল সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং সরাসরি সরকারের নীতিগত অবস্থান এবং রাষ্ট্র সংস্কারের গতিমুখ নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জোটের শীর্ষ নেতারা। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আয়োজিত ধারাবাহিক পথসভাগুলোতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি এবং নেতৃবৃন্দের আগ্রাসী বক্তব্য দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। টানা দুই মাস ধরে দেশের অন্যান্য প্রধান বিভাগগুলোতেও একই ধরনের দীর্ঘ অভিযাত্রার রূপরেখা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী নভেম্বর মাসে ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে এই কর্মসূচিগুলোর চূড়ান্ত পরিণতি টানার যে ঘোষণা এসেছে, তা নিছক রুটিন কোনো কর্মসূচি নাকি বড় কোনো সরকারবিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুতের পূর্বাভাস, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ চলছে।

চট্টগ্রাম অভিমুখে যাত্রার প্রারম্ভেই ঢাকার কেন্দ্রস্থলে আয়োজিত উদ্বোধনী সমাবেশে স্পষ্ট করা হয় যে, এই লংমার্চ কেবল একটি প্রতীকী কর্মসূচি নয়। এনসিপির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম সেখানে অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেছিলেন, সরকার যদি এই নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে তবে জনদাবি সংবলিত ছয় দফা অনতিবিলম্বে সরকার পতনের এক দফায় রূপান্তরিত হবে। একইভাবে এই দীর্ঘ যাত্রার সমাপ্তি যেখানে টানা হয়, সেই চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লালদীঘি ময়দানের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে ইঙ্গিত করে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বিরোধী শিবিরের এই প্রতিবাদ কোনো গতানুগতিক কিংবা কাগুজে হুমকি নয়। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, তাঁদের এই আন্দোলন চিরাচরিত ‘ঈদের পরের আন্দোলন’ হবে না। বিরোধী নেতাদের এই প্রকাশ্য ও চড়া সুরের প্রতিক্রিয়া দেখাতে কালক্ষেপণ করেনি ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও খোদ সরকার প্রধান। সংসদ ও সংসদের বাইরে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই ধরনের কর্মসূচির পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ খোঁজা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক এই তৎপরতা নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের অস্বস্তি ও ক্ষোভ খুব দ্রুতই প্রকাশ্যে চলে আসে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির দলীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক বড় জনসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধী জোটের এই তৎপরতাকে জনমনে অহেতুক বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং দেশে অনভিপ্রেত অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা হিসেবে সরাসরি আখ্যায়িত করেন। তিনি আইনানুগ ব্যবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, কোনো পক্ষ যদি দেশে কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরি করতে চায় তবে রাষ্ট্র আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমেই তা প্রতিহত করবে। এর রেশ সংসদ ভবনেও গড়ায়। জাতীয় সংসদের কার্যক্রমে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক সুরেই বিরোধী জোটের এই কর্মসূচির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, রাজপথে হাজারো গাড়ির মহড়া দিয়ে যদি দেশের চলমান বিদ্যুৎ ঘাটতি কিংবা তীব্র গ্যাস সংকটের মতো কাঠামোগত সমস্যার সমাধান সম্ভব হতো, তবে সরকার নিজেই সবার আগে এমন বিলাসবহুল লংমার্চের আয়োজন করত। সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারের এমন আক্রমণাত্মক জবাবই স্পষ্ট করে দেয় যে, জামায়াত ও এনসিপির এই সমন্বিত তৎপরতাকে প্রশাসন কেবল একটি বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি হিসেবে হালকাভাবে নিতে পারছে না।

ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের চোখে এই আন্দোলন নিয়ে তীব্র সন্দেহের পেছনে মূলত দুটি স্পষ্ট সমীকরণ কাজ করছে। প্রথমত, একটি নির্বাচিত বা দায়িত্বশীল সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাত্র ছয় মাসের মাথায় এ ধরনের কঠোর ও সংঘাতপ্রবণ মাঠের কর্মসূচি কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্ন তুলছেন বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা। দ্বিতীয়ত, গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের কোনো গোপন গোষ্ঠী বা অনুসারীরা এই ধরনের বিশাল জমায়েতের মধ্যে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে বড় ধরনের কোনো নাশকতামূলক অঘটন ঘটাতে চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁনের ভাষ্যমতে, লংমার্চ ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত অঘটন ঘটিয়ে পুরো দায় সরকারের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়ার এক ধরনের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছিল। যে কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অত্যন্ত সতর্ক থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়েছে যাতে কোনো পক্ষ সরকারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার সুযোগ না পায়। সরকারি দলের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হচ্ছে যে, বিগত সরকারের ষোলো বছরের পুঞ্জীভূত অর্থনৈতিক সংকট, প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনা এবং গণভোট নিয়ে অতীতে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিভ্রান্তির সামগ্রিক দায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রক্রিয়ার পরবর্তী সরকারের ওপর একতরফাভাবে চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।

তবে বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে এই লংমার্চের সপক্ষে যে দাবিগুলো তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলোকে তারা রাষ্ট্রের মৌলিক অঙ্গীকার পূরণের তাগিদ হিসেবে বর্ণনা করছে। এগারো দলীয় ঐক্যজোটের মূল ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—জনগণের গণভোটের রায়ের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ আইনি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও আন্তর্জাতিক মানের বিচার সম্পন্ন করা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের ধারাবাহিক সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ ও দুর্নীতির অবসান ঘটানো এবং সর্বোপরি দেশের ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটানো। এই দাবিগুলোকে সামনে রেখেই আগামী দিনগুলোতে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে শক্তি প্রদর্শনের এক দীর্ঘ ছক সাজিয়েছে জোট। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৯শে সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে দ্বিতীয় লংমার্চ পরিচালিত হবে। এরপর আগামী ১০ই অক্টোবর খুলনা বিভাগ এবং ২৪শে অক্টোবর সিলেটের রাজপথে একই কর্মসূচি নিয়ে নামবেন বিরোধী নেতাকর্মীরা। এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় লংমার্চ সফল করার মধ্য দিয়ে তৃণমূলের ক্ষোভ ও জনসমর্থনকে একত্রিত করে আগামী নভেম্বরে রাজধানী ঢাকায় একটি সর্বাত্মক মহাসমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা, যেখান থেকেই মূলত আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব বা পরবর্তী কঠোর রূপরেখা ঘোষণা করা হতে পারে।

মাত্র ছয় মাসের মাথায় কেন এমন ধারাবাহিক ও প্রত্যক্ষ রাজপথের কর্মসূচিতে যেতে হলো, তার জবাবে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা সরকারের নীতিগত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়টিকে সামনে টেনে আনছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির অন্যতম শীর্ষ সমন্বয়ক আখতার হোসেনের মতে, কোনো নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের বেশ কিছু সময় পার হওয়ার পর সাধারণত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রশ্ন ওঠে, কিন্তু এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং গণভোটের ঐতিহাসিক রায়কে অবজ্ঞা করার পথ বেছে নিয়েছে। তাঁর দাবি, সরকার জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষাকে অস্বীকার করার ফলেই পরিস্থিতি আজ তাঁদের বাধ্য হয়ে রাজপথের আন্দোলনে ঠেলে দিয়েছে। একই ধরনের ক্ষোভ ও যুক্তি তুলে ধরেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি আইনি প্রক্রিয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার ত্রিশ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈঠক ডাকার স্পষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও সরকার তা সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছে। এছাড়া ছয় মাসের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক জাতীয় সনদকে সংবিধানে তফসিল আকারে যুক্ত করার যে যৌথ অঙ্গীকার ছিল, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে সেই নির্ধারিত সময়সীমাও শেষ হয়ে যাচ্ছে।

বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, বর্তমান সরকার সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তিতে এমন এক ধারায় দেশ পরিচালনা করছে যেখানে সর্বদলীয় মতামতের কোনো মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। জামায়াত নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি দল সংসদে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে পারে, কিন্তু গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ নাগরিক রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছিল। ফলে সেই সুবিশাল গণরায়কে পাশ কাটিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো আইন প্রণয়ন বা দেশ চালানো জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদের রক্তের সঙ্গে বড় ধরনের বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। ফলে ছয় মাসের অজুহাত দিয়ে লাখ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের গণ-আকাঙ্ক্ষাকে ধামাচাপা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেই বিরোধী দলগুলো মনে করে।

তবে মাঠের রাজনীতিতে এই জোটের এত বড় কর্মসূচি নেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভিন্ন এক মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত কারণও খুঁজে পাচ্ছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমান সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে এক ধরনের মিশ্র বা কিছুটা দুর্বল ধারণা তৈরি হয়েছে। নবীন ও তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত বিরোধী দল সংসদের ভেতরের বিতর্কে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো প্রভাবশালী বা আগ্রাসী আবহ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই অনেকের মত। ফলে একটি দুর্বল ও নিষ্ক্রিয় বিরোধী দলের যে তকমা তৈরি হচ্ছিল, রাজপথের ধারাবাহিক লংমার্চের মাধ্যমে নিজেদের শক্তিশালী ও সক্রিয় অস্তিত্বের জানান দিয়ে সেই ইমেজ বা ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করাই সম্ভবত জামায়াত ও এনসিপির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

একই সঙ্গে বিশ্লেষকরা এও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, জামায়াত ও এনসিপির জন্য রাজপথের এই লড়াই কোনোভাবেই ঝুঁকিমুক্ত নয়। তাদের সামনে একটি বড় উভয়সংকট বা রাজনৈতিক বিপদ রয়েছে। প্রথমত, তারা কোনোভাবেই ক্ষমতাসীন বিএনপির সঙ্গে এমন কোনো সর্বাত্মক সহিংস বা চূড়ান্ত রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়াতে চাইবে না, যার কারণে সদ্যসমাপ্ত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাদের নিজস্ব যে আইনি ও সামাজিক ভিত্তি অর্জিত হয়েছে তা নতুন করে বিপন্ন হয়। দ্বিতীয়ত, তাদের এমন যেকোনো কঠোর পদক্ষেপে চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে যাতে এই আন্দোলনের অস্থিতিশীলতার ফাঁক গলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বা তাদের সুবিধাভোগী চক্র কোনো ধরনের পুনর্বাসনের বা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার সুযোগ না পায়। ফলে মাঠের স্লোগান যতই চড়া হোক না কেন, চূড়ান্ত পরিণামে এটি কোনো সরকার পতনের বিপ্লব নয়, বরং সরকারকে চাপে রেখে নিজেদের দাবি আদায় এবং বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক জায়গা দখল করার একটি সুপরিকল্পিত চাল।

বিরোধী দল দুর্বল—এমন অভিযোগ অবশ্য পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন জামায়াত নেতৃত্ব। দলটির দায়িত্বশীল নেতাদের দাবি, তারা দেশে কোনো নৈরাজ্য বা গাড়ি পোড়ানোর মতো হিংসাত্মক রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চান না বলেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে লংমার্চের মতো অহিংস পথ বেছে নিয়েছেন। এটাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখলে সরকারের ভুল হবে। নেতারা বারবার পরিষ্কার করার চেষ্টা করছেন যে, এই ধারাবাহিক কর্মসূচি কোনোভাবেই অবিলম্বে ক্ষমতা থেকে সরকার নামিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে না; বরং সরকার যেন নিজেদের পথ সংশোধন করে এবং জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে বাধ্য হয়, সেজন্য এটি একটি জোরালো সতর্কবার্তা। তবে সরকারের পক্ষ থেকেও যদি এই দাবিগুলো সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করা হয়, তবে নভেম্বরের মহাসমাবেশ থেকে রাজনীতির এই সংঘাত কোন অভিমুখে মোড় নেবে, তা নিয়ে দেশের সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগ ও সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category