দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি যখন তীব্র সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসারে খোদ সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতেই চরম গাফিলতি, সমন্বয়হীনতা ও অপচয়ের এক হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে| সাম্প্রতিক সময়ে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ড ও জ্বালানি ঘাটতির কারণে সারা দেশের সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মক লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে| এমন এক স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে বিকল্প জ্বালানির উৎস জোরদার করতে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সব সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন সরকারপ্রধান| তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা| সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বড় বড় পরিকল্পনা যুক্ত করা হলেও বাস্তবায়ন পর্যায়ে গিয়ে তা সীমাহীন অবহেলা, তদারকির অভাব এবং নিম্নমানের সামগ্রীর কারণে মুখ থুবড়ে পড়ছে| কোথাও কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সৌর প্যানেল বসিয়ে তা সম্পূর্ণ অকেজো ফেলে রাখা হয়েছে, কোথাও সৌরবাতির বদলে কৌশলে গ্রিডের সাধারণ বিদ্যুৎবাহী বাতি বসানো হয়েছে, আবার কোথাও বছরের পর বছর পার হলেও কাজের অগ্রগতি শূন্যের কোঠায় আটকে আছে|
পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ নিবিড় পরিবীক্ষণ ও প্রভাব মূল্যায়ন সংক্রান্ত বিশদ প্রতিবেদনে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ৭২টি প্রকল্পের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে| পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসব প্রকল্পের মধ্যে অন্তত ১৬টি উন্নয়ন স্কিমে সৌরশক্তি ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার সুস্পষ্ট সংস্থান রাখা হয়েছিল| কিন্তু চরম হতাশাজনক বিষয় হলো, এর মধ্যে অন্তত ১১টি প্রকল্পেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি অংশটি সম্পূর্ণ অবহেলিত ও নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে রয়েছে| বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রকল্পের মূল অবকাঠামো কোনোমতে দাঁড় করানো হলেও সৌরবিদ্যুৎ বা বায়োগ্যাসের মতো পরিবেশবান্ধব অনুষঙ্গগুলো শুরু থেকেই অকেজো হয়ে রয়েছে অথবা প্রকল্প সমাপ্তির আগেই নষ্ট হয়ে সাধারণ ইলেকট্রনিক বর্জ্যে পরিণত হয়েছে| সরকারি অর্থে কেনা কোটি কোটি টাকার সবুজ প্রযুক্তির এই অপমৃত্যু দেশের টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে|
সরকারি প্রকল্পগুলোতে টেকসই প্রযুক্তির অবহেলার সবচেয়ে মর্মান্তিক ও বিপজ্জনক নজির স্থাপিত হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত ‘উপকূলীয় ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় বহুমুখী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্পে| দেশের উপকূলীয় তিন বিভাগের ১৬টি জেলার ৮৬টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় নির্মিত ২২০টি বহুমুখী আশ্রয়কেন্দ্রে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্দেশ্যে সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছিল| আইএমইডির সরেজমিন তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রের একটিতেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা এখন কার্যকর নেই; অর্থাৎ শতভাগ ব্যবস্থাপনাই সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়ে রয়েছে| নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করা, নষ্ট হওয়া ব্যাটারি ও ইনভার্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সময়মতো প্রতিস্থাপন না করা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যকর নজরদারির অভাবে এই বিপুল অবকাঠামো এখন ব্যবহারের অনুপযোগী| ফলস্বরূপ, ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের মতো চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যখন জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন অন্ধকারে ডুবে থাকা এসব আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া দুর্গত মানুষরা বিকল্প বিদ্যুৎ ও আলোর ন্যূনতম সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন|
নকশাগত ত্রুটি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চাহিদাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের আরেকটি বড় উদাহরণ তৈরি হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্পে| পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের কথা বলে বিতরণ করা সোলার সিস্টেমগুলোর সক্ষমতা নির্ধারণে কোনো প্রাথমিক সমীক্ষাই করা হয়নি| আইএমইডি জানিয়েছে, পাহাড়ি অঞ্চলের সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর দৈনিক বিদ্যুতের গড় চাহিদা যেখানে ৩০০ থেকে ৩৫০ ওয়াট, সেখানে প্রকল্পে যে সৌর ব্যবস্থা সরবরাহ করা হয়েছে তার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা মাত্র ২৮০ ওয়াট| ফলে প্রথম দিন থেকেই এই সিস্টেমে বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতি দেখা দিচ্ছে| অপর্যাপ্ত ক্ষমতার কারণে প্রতিদিন ব্যাটারি নির্ধারিত সীমার চেয়ে অতিরিক্ত দ্রুত ডিসচার্জ হচ্ছে, যার ফলে ব্যাটারির কর্মক্ষমতা ও আয়ুষ্কাল দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে| প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রকল্পের শুরুতে কোনো বিজ্ঞানসম্মত ‘লোড প্রোফাইলিং’ ছাড়াই যেনতেনভাবে সোলার সিস্টেম বিতরণ করা হয়| তদুপরি সরবরাহকৃত জেল ব্যাটারিগুলো পাহাড়ি অঞ্চলের চরম তাপমাত্রা ও উচ্চ আর্দ্রতার জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়| ক্ষুব্ধ ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে অতিরিক্ত লোড দিতে গিয়ে কিংবা একাধিক ব্যাটারি অবৈধভাবে যুক্ত করতে গিয়ে মারাত্মক শর্টসার্কিট, আকস্মিক অগ্নিকাণ্ড এবং ব্যাটারি বিস্ফোরণের চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন|
এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানির আওতায় আনার স্লোগানও আটকে গেছে আমলাতান্ত্রিক শ্লথগতির ফাঁদে| ‘বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় ছোট দ্বীপ এবং নদীর চরের জন্য অভিযোজন উদ্যোগ’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শুরু হলেও ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এর আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪১ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি কোনোমতে ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে| অথচ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ছিল দুর্গম চরাঞ্চলে ৫০০ ইউনিট বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণ, ১৩২টি পরিবারে সৌর এসি-ডিসি সিস্টেম স্থাপন এবং রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় ৮টি সৌর হিমাগার ও ৬টি সৌর সেচপাম্প বসানো| কিন্তু ২০২৬ সালের মে মাস পার হয়ে গেলেও সৌর এসি-ডিসি সিস্টেমের কাজ এক চুলও এগোয়নি; অর্থাৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানির মূল লক্ষ্যটির অগ্রগতি এখনো শূন্যের কোঠায়| এমনকি প্রকল্পের মূল উন্নয়ন প্রস্তাবে সোলার ন্যানো-গ্রিড নির্মাণের কথা থাকলেও বছরের পর বছর ধরে সেই উদ্যোগ ফাইলবন্দি হয়ে রয়েছে, যার ফলে চরাঞ্চলের অসহায় মানুষ পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়ার বদলে এখনো সেই পুরোনো জীবাশ্ম জ্বালানির কেরোসিন ও ডিজেলের ওপরই নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন|
রাজধানী শহরের আধুনিকায়ন প্রকল্পেও সবুজ প্রযুক্তির সাথে স্পষ্ট প্রতারণার প্রমাণ মিলেছে| ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন বাস্তবায়নাধীন ‘ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রকল্পে’ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সৌরশক্তিচালিত সড়কবাতি বা স্ট্রিট লাইট স্থাপনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিল| কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, ঠিকাদার ও দায়িত্বশীলরা সৌরবাতির পরিবর্তে অত্যন্ত চাতুর্যের সাথে সাধারণ গ্রিডের বিদ্যুতে চলা এলইডি বাতি বসিয়ে প্রকল্প শেষ করছেন| রাস্তা, ফুটপাত কিংবা খেলার মাঠ আধুনিকায়নে কোনো টেকসই সবুজ প্রযুক্তির ছোঁয়া না রেখে গতানুগতিক নকশায় কাজ চালানো হচ্ছে| ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়িয়েও চলতি বছর পর্যন্ত ভৌত অগ্রগতি মাত্র ৭২ শতাংশে আটকে রয়েছে| একইভাবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ‘উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ’ প্রকল্পে সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য ৫ কোটি ৩২ লাখ টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ রাখা হলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরে খরচ হয়েছে মাত্র ৯৯ লাখ টাকা| অর্থাৎ বরাদ্দের বিপরীতে অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৮ দশমিক ৬০ শতাংশ| প্রকল্পের মেয়াদ দফায় দফায় ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হলেও মাঠপর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ নেই|
পরিবহন ও অবকাঠামো খাতেও সৌরশক্তির অপচয় চরমে পৌঁছেছে| যশোর, সৈয়দপুর ও রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের রানওয়ের আধুনিকায়ন প্রকল্পে রানওয়ের এয়ারসাইড বাতি পরিচালনার জন্য ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ সৌর প্যানেল থেকে মেটানোর বাধ্যবাধকতা ছিল| কিন্তু আইএমইডির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিমানবন্দরগুলোতে স্থাপিত সোলার সিস্টেমটি বর্তমানে পুরোপুরি বিকল হয়ে পড়ে আছে এবং মূল্যবান ইনভার্টার ও ব্যাটারিগুলো নষ্ট অবস্থায় অযত্নে পড়ে রয়েছে| অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ‘পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ প্রকল্পে’ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন ছাড়াই এবং অনুমোদিত নকশা ও স্পেসিফিকেশন সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে নিম্নমানের সৌরচালিত নলকূপ বসানো হয়েছে| এসব নলকূপের কোনো রক্ষণাবেক্ষণ কাঠামো না থাকায় অনেক স্থানেই পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে|
অনুরূপ চিত্র দেখা গেছে কৃষি ও বাসস্থান প্রকল্পগুলোতেও| চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সেচ উন্নয়ন প্রকল্পে সৌর প্যানেলে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের ব্যবস্থা না রাখায় সেচ মৌসুমের বাইরে বিপুল পরিমাণ সবুজ বিদ্যুৎ প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে| তদুপরি উন্মুক্ত মাঠে বসানো এসব প্যানেলে কোনো বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলো বজ্রপাত ও চুরির চরম ঝুঁকিতে রয়েছে| আবার দুগ্ধ সমবায় সম্প্রসারণ প্রকল্পে কাঁচামাল অর্থাৎ গোবরের অপর্যাপ্ততার অজুহাত দেখিয়ে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চার বছরেও শুরু করা হয়নি| পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন প্রকল্পে ভবন নির্মাণ শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও সেখানে প্রস্তাবিত বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ও বর্জ্য শোধনাগারের কাজ পাঁচ বছরেও স্পর্শ করা হয়নি| এমনকি খোদ র্যাব ফোর্সেসের সদর দপ্তর নির্মাণ প্রকল্পের আট বছর পেরিয়ে গেলেও সৌরবিদ্যুৎ প্যাকেজের কাজ অর্ধেকও শেষ করা সম্ভব হয়নি|
সরকারি প্রকল্পগুলোতে কোটি কোটি টাকার সবুজ প্রযুক্তির এই চরম হরিলুট ও ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা| কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম এই পরিস্থিতিকে গভীর প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন| তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, জাতীয় জ্বালানি সংকটের এই ক্রান্তিকালে সরকারি প্রকল্পেই যদি সৌরশক্তির এমন করুণ পরিণতি হয়, তবে তা সমগ্র জাতির জন্য চরম উদ্বেগের বিষয়| তাঁর মতে, দেশে প্রতি বছর সৌর প্যানেল, ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশের নামে প্রায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার বিশাল বাণিজ্য ঠিকই হচ্ছে, কিন্তু সেই তুলনায় সাধারণ মানুষ কিংবা রাষ্ট্র এক ইউনিট টেকসই বিদ্যুৎও পাচ্ছে না| নিম্নমানের ও অনুমোদনহীন চীনা যন্ত্রপাতিতে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে, যা প্রকল্প শেষ হতে না হতেই নষ্ট হয়ে বিপজ্জনক ইলেকট্রনিক বর্জ্যে রূপ নিচ্ছে এবং দেশের পরিবেশকে মারাত্মক দূষণের মুখে ঠেলে দিচ্ছে| ক্যাব উপদেষ্টা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সরকারি প্রকল্পের আওতায় জনগণের ট্যাক্সের অর্থ লোপাট এবং নিম্নমানের সরঞ্জাম ক্রয়ের এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনে সরকারপ্রধানের যত ভালো ঘোষণাই আসুক না কেন—তা শেষ পর্যন্ত কাগুজে ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে|