ইসরায়েলে বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন সামরিক কার্গো বিমান। গত মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অস্ত্র সরবরাহ ও ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জার্মানির বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের রিফুয়েলিং বিমান এবং সি-১৭ গ্লোবমাস্টারের মতো কার্গো বিমানগুলো তেল আবিবের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে নতুন করে হামলা চালায়, তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাতে সরাসরি অংশ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। সম্ভাব্য এই সংঘাতকে সামনে রেখে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বর্তমানে ‘সর্বোচ্চ সতর্ক’ (হাই অ্যালার্ট) অবস্থানে রয়েছে।
হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু
এর আগে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলার জন্য সবচেয়ে ‘জোরালো প্রস্তুতি’ গ্রহণ করছে। আগামী সপ্তাহেই এই যৌথ হামলা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হতে পারে:
ইরানের অত্যন্ত সংবেদনশীল পরমাণু কেন্দ্রসমূহ।
গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ।
ইরানের প্রধান জ্বালানি অবকাঠামোগুলো।
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ফোনালাপ
রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে টেলিফোনে আলাপ হয়েছে। এই ফোনালাপে দুই নেতা ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সংঘাত শুরু করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। চ্যানেল ১২-এর তথ্যমতে, নতুন করে সংঘাত শুরুর এই প্রস্তুতির মাঝে ইসরায়েল আশা করছে, যেকোনো হামলা পরিচালনার আগে ওয়াশিংটন তাদের আগাম বার্তা দিয়ে অবহিত করবে।
আন্তর্জাতিক চাপ ও চীনের ভূমিকা
সামরিক হামলার প্রস্তুতি চললেও ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে ইরানের সাথে নতুন করে যুদ্ধে না জড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছেন। চ্যানেল ১২ আরও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত এড়াতে বিশেষ করে চীনের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের ওপর বড় ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।