• মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন
Headline
ব্রিটিশদের ১০৯ বছর আগে ধার দেওয়া টাকা এখন সুদসহ ফেরত চায় ভারতের এক পরিবার ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি কয়েদি: ভেঙে পড়ার মুখে দেশের কারা অবকাঠামো বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিতে শাহরুখ, অজয়, টাইগারকে নোটিশ আমদানি নির্ভরতার বিপরীতে ভূগর্ভস্থ অনুসন্ধান: গ্যাস সংকটে ত্রিমাত্রিক জরিপ ও আধুনিক রিগেই টেকসই সমাধান গ্যাস-বিদ্যুৎ বিভ্রাটে থমকে শিল্পচাকা: ঝুঁকিতে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য নবায়নের মুখে তিন প্রধান ব্যান্ডের লাইসেন্স ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পুনর্গঠন করছে সরকার : রিজভী নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে: তথ্য উপদেষ্টা এ বছরের মধ্যেই পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে: অর্থমন্ত্রী হাই স্কুল-মাদরাসায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ হবে: শিক্ষামন্ত্রী

গ্যাস-বিদ্যুৎ বিভ্রাটে থমকে শিল্পচাকা: ঝুঁকিতে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য

Reporter Name / ৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

দেশের প্রধান প্রধান শিল্পাঞ্চলে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট এখন আর কেবল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সাধারণ পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; এটি রূপ নিয়েছে সার্বিক শিল্প অবকাঠামো ধসের এক গভীর সংকটে। পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকা এবং ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে দেশের রপ্তানিমুখী টেক্সটাইল, পোশাক, ডাইং, স্পিনিং, ইস্পাত, সিরামিক ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতের চাকা কার্যত থমকে গেছে। বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদনের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করলেও মাত্রাতিরিক্ত উৎপাদন খরচের কারণে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ছে কারখানাগুলোর পক্ষে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন সক্ষমতা অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে, কোথাও দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা কাজ চালিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, আবার বহু কারখানা পুরোপুরি তালাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া এবং চট্টগ্রামের মতো প্রধান বাণিজ্যিক ও শিল্পাঞ্চলে এই সংকট এখন শিল্পমালিকদের লোকসান ছাড়িয়ে কারখানা বন্ধ, ব্যাপক শ্রমিক ছাঁটাই, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ হারানো এবং ব্যাংকঋণ পরিশোধে অক্ষমতার মতো বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে।
জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে সংকটের গভীরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দৈনিক প্রায় ৩৮৫ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ নেমে এসেছে মাত্র ২০৩ কোটি ঘনফুটে। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ১৭৭ কোটি ঘনফুটেরও বেশি বিশাল ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এই তীব্র গ্যাস ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতেও। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সক্ষমতা অনুযায়ী জ্বালানি না পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে রাজধানীসহ সারা দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা চরম আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে রাত আটটার মধ্যে বিপণিবিতান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের মতো কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করা হলেও শিল্পাঞ্চলের সার্বিক জ্বালানি চিত্রে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি।
শিল্পমালিক ও খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান সংকটের সবচেয়ে মারাত্মক আঘাত এসেছে দেশের সর্ববৃহৎ তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল সরবরাহ চেইনের ওপর। বিশেষ করে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিল্প ইউনিটের মধ্যে প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ অর্থাৎ পাঁচ শতাধিক কারখানা ইতিমধ্যে তাদের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। যেসব বড় প্রতিষ্ঠান বিপুল আর্থিক ক্ষতি মেনে কোনোভাবে চালু রয়েছে, সেগুলোর উৎপাদনও স্বাভাবিকের তুলনায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। শিল্পমালিকরা জানিয়েছেন, কারখানায় বয়লার চালু রাখা এবং আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ডায়িং-ওয়াশিং মেশিন সচল রাখতে যে নির্দিষ্ট মাত্রার গ্যাসের চাপ প্রয়োজন, তা মিলছে না। ফলে পুরো উৎপাদন শিডিউল এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।
একই ধরনের ভয়াবহ চিত্র দেখা যাচ্ছে প্রাচীন বাণিজ্যিক ও টেক্সটাইল হাব নারায়ণগঞ্জে। জেলাটিতে গ্যাসের চাপ শূন্যের কোঠায় নেমে যাওয়ায় প্রায় সাড়ে চারশত ডাইং কারখানা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে পরিচিত এই ডাইং কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার সরাসরি ধাক্কা লেগেছে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী শত শত প্রতিষ্ঠানের ওপর। ডাইং থেকে সময়মতো প্রক্রিয়াজাত কাপড় ও ফিনিশিং পণ্য সরবরাহ না পাওয়ায় পোশাক কারখানাগুলো নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে বিদেশি ক্রেতাদের পোশাক তৈরি করে দিতে পারছে না। ফলে একটি কারখানার জ্বালানি সংকট এখন পুরো শিল্প খাতের সরবরাহ শৃঙ্খলকে অচল করে দিচ্ছে এবং এক কারখানার অচলাবস্থার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে অন্য ডজনখানেক প্রতিষ্ঠানে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার অঞ্চলের টেক্সটাইল কারখানাগুলোর চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অনুমোদিত ১৫ পিএসআই গ্যাসের চাপের জায়গায় কারখানাগুলো অনেক সময় ১ থেকে আড়াই পিএসআই চাপও পাচ্ছে না। শিল্পযন্ত্র যেখানে ন্যূনতম ৭ পিএসআই ছাড়া কার্যকর রাখা যায় না, সেখানে এই নিম্নচাপে উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা অসম্ভব। বাধ্য হয়ে ভারী তেল ও ডিজেল ব্যবহার করে বিকল্প উপায়ে জেনারেটর ও বয়লার চালু রাখায় কারখানাগুলোর মাসিক জ্বালানি ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারখানায় সরকারি পাইপলাইনের গ্যাসে মাসে চার কোটি টাকা খরচ হতো, বিকল্প জ্বালানি কিনতে গিয়ে সেই ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় নয় কোটি টাকায়। এই অতিরিক্ত ব্যয় পণ্যের উৎপাদন খরচকে অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগীদের তুলনায় বাংলাদেশি পণ্যকে পিছিয়ে দিচ্ছে।
শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংকটটি কোনো আকস্মিক সাময়িক বিষয় নয়, বরং মাসের পর মাস ধরে চলা এই অচলাবস্থায় অনেক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কারখানাগুলোতে জেনারেটর সচল রাখতে গিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার ডিজেল পুড়ছে, যার পেছনে দৈনিক ব্যয় হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলের ডায়িং, ওয়াশিং ও ফিনিশিং ইউনিটগুলো একই ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি। দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানাগুলোতে জ্বালানি বাবদ পরিচালন ব্যয় ১৫০ থেকে ৩৯০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনের পর দিন এই আর্থিক চাপ সহ্য করতে না পেরে অনেক উদ্যোক্তা শ্রমিকদের শিফট কমাতে বাধ্য হচ্ছেন, যা শিল্পাঞ্চলগুলোতে সার্বিক কর্মসংস্থান ও শ্রমিক অসন্তোষের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চল ও বন্দরকেন্দ্রিক রপ্তানি কার্যক্রমেও একই সংকটের ছায়া পড়েছে। গ্যাসনির্ভর ভারী শিল্প যেমন রড, স্টিল রি-রোলিং মিলস, সিমেন্ট কারখানা এবং কাচশিল্পে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের উদ্যোক্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সময়ানুবর্তিতা বা লিড টাইম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি পোশাক বা রপ্তানি পণ্যের জন্য সুতা তৈরি, কাপড় বোনা, ডাইং, কাটিং, ওয়াশিং, প্যাকিং এবং বন্দরে জাহাজীকরণ—প্রতিটি ধাপের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। কিন্তু জ্বালানির অভাবে যেকোনো একটি ধাপে দেরি হলে পুরো প্রক্রিয়াটি পিছিয়ে যায়। ফলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে অতিরিক্ত সময় ভিক্ষা করতে হয়, বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে আকাশপথে বা এয়ার ফ্রেইটে বিপুল খরচে পণ্য পাঠাতে হয়। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, নির্ধারিত সময়ে পণ্য না পেলে বিদেশি বায়াররা তাদের ভবিষ্যৎ ক্রয়াদেশ ভিয়েতনাম, ভারত, পাকিস্তান কিংবা কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলোতে স্থানান্তর করে নিচ্ছে।
শিল্প খাতের এই দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের জন্যও এক ভয়াবহ অশনিসংকেত ডেকে আনছে। তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের অধিকাংশ বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানই ব্যাংকিং খাত থেকে শত শত কোটি টাকার মেয়াদি ঋণ নিয়ে তাদের কারখানা ভবন, আধুনিক স্পিনিং ও ডাইং যন্ত্রপাতি এবং অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। উৎপাদন বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়লে প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিক্রি কমে যায় এবং নগদ অর্থের প্রবাহে তীব্র টান পড়ে। এই পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তাদের পক্ষে নিয়মিত শ্রমিকদের মজুরি, কাঁচামালের মূল্য, উচ্চমূল্যের ইউটিলিটি বিল এবং ব্যাংকের ঋণের কিস্তি একসাথে পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে দেশের বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বড় অঙ্কের শিল্পঋণ খেলাপি হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ আটকে পড়ার উপক্রম হয়েছে, কারণ ঋণ নিয়ে আমদানি করা কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কারখানায় অলস পড়ে থাকলেও গ্যাসের সংযোগ বা পর্যাপ্ত চাপের অভাবে উৎপাদনেই যাওয়া সম্ভব হয়নি।
বিদ্যমান সংকটের পাশাপাশি নতুন শিল্পায়ন ও প্রত্যক্ষ বিদেশি বা স্থানীয় বিনিয়োগের পথও সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। গ্যাস সরবরাহকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যাপ্ত মজুত ও চাপের অভাবে নতুন কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ দিতে পারছে না। শত শত উদ্যোক্তা কারখানার অবকাঠামো নির্মাণ শেষ করে এবং সংযোগের সমুদয় সরকারি ফি জমা দিয়েও বছরের পর বছর ধরে গ্যাসের অপেক্ষায় বসে আছেন। ফলে বিপুল অঙ্কের মূলধনি বিনিয়োগ কোনো অর্থনৈতিক সুফল না এনে উল্টো ঋণের সুদের ভারে উদ্যোক্তাদের দেউলিয়া করে তুলছে।
অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি খাতের এই নাজুক পরিস্থিতির মূল কারণ অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা এবং দীর্ঘদিনের নীতিগত অদূরদর্শিতা। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ এবং কয়লা ও তেলের প্রায় পুরোটাই আমদানির মাধ্যমে মেটাতে হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, ডলারের সংকট এবং স্থানীয় পর্যায়ে এলএনজি টার্মিনালগুলোর কারিগরি দুর্বলতার কারণে জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থা বারবার ভেঙে পড়ছে। অভ্যন্তরীণ গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেলেও সাগরে বা স্থলভাগে নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে গত এক যুগে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। ফলে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর যে অতিনির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে, একটি টার্মিনালে সামান্য যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিলেই তা পুরো দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতকে জিম্মি করে ফেলছে।
এই সর্বগ্রাসী বিপর্যয় থেকে শিল্প খাতকে রক্ষা করতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদি বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে জাতীয় গ্রিডের গ্যাস বণ্টনের ক্ষেত্রে রপ্তানিমুখী ও ভারী শিল্পাঞ্চলগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। একই সাথে গ্যাস ও বিদ্যুতের একটি সুনির্দিষ্ট রেশনিং শিডিউল বা সময়সূচি আগে থেকেই শিল্পমালিকদের জানিয়ে দেওয়া উচিত, যাতে উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদন পরিকল্পনা সে অনুযায়ী সাজাতে পারেন এবং বিদেশি ক্রেতাদের সাথে সময় সমন্বয় করতে পারেন।
দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য অবিলম্বে দেশীয় স্থলভাগে এবং বঙ্গোপসাগরের গভীর ও অগভীর ব্লকে জোরদার তেল-গ্যাস অনুসন্ধান অভিযান শুরু করতে হবে। পাশাপাশি এলএনজি আমদানির অবকাঠামোকে আরও নিরাপদ ও বহুমুখী করা, শিল্প খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং সঞ্চালন লাইনের অপচয় ও অবৈধ সংযোগ রোধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। একটি কারখানা বন্ধ হওয়া মানে কেবল একজন মালিকের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নয়; বরং এটি জাতীয় রাজস্ব হ্রাস, হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকা ধ্বংস এবং দেশের সার্বিক রপ্তানি সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ার এক আত্মঘাতী পথ। তাই দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড টিকিয়ে রাখতে শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
তথ্যসূত্র: নয়া দিগন্ত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category