• বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০:১১ পূর্বাহ্ন

চীন বাংলাদেশ মেগা চুক্তি ঠেকাতে মরিয়া ভারত

Reporter Name / ২ Time View
Update : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতির দাবার বোর্ডে গত কয়েক দিনে এমন কিছু রুদ্ধশ্বাস ও রহস্যময় ঘুঁটি চালাচালি শুরু হয়েছে, যা ঢাকার রাজপথ থেকে শুরু করে দিল্লির সাউথ ব্লক পর্যন্ত এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সফরে আগামীকাল চীন যাচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে ইতিহাসের এক অমোঘ নিয়মে, এই মেগা সফরের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে ঢাকার বুকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে উগ্রপন্থী হিন্দু এবং উগ্রপন্থী মুসলিম উভয় ধারার কিছু প্রান্তিক সংগঠনকে মাঠে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। একপক্ষ হঠাৎ করে সংখ্যালঘুর অধিকারের দোহাই দিয়ে রাজপথে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশ ধ্বংসের হুঙ্কার দিচ্ছে, আর অন্যপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কাউন্টডাউনের মুহূর্তে এই আকস্মিক ঘটনা কোনো তাৎক্ষণিক বিষয় নয়, বরং এর সুতো বাঁধা রয়েছে দিল্লির এক সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যানে। দিল্লি কখনোই সহজে বাংলাদেশকে তাদের একচেটিয়া গ্রিপ বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দিতে চায় না।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, প্রায় দুই দশক আগে ২০০৫ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যখন বেইজিংয়ের সাথে একটি মেগা কৌশলগত ও সামরিক চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে চীন সফরে গিয়েছিলেন, ঠিক তখনই সফরের দ্বিতীয় দিনে সাভারে সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, দিল্লির মাস্টারপ্ল্যানে তৎকালীন সেই ঐতিহাসিক সামরিক ও অর্থনৈতিক চুক্তিটি তাৎক্ষণিকভাবে ভেস্তে দেওয়া হয়েছিল এবং খালেদা জিয়া সফর স্থগিত করে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছিলেন। ঠিক সেই ঘটনার দুই দশক পর, দেশের কোনো স্বাধীন সরকার দিল্লির তীব্র আপত্তি ও রক্তচক্ষুর তোয়াক্কা না করে চীনের সাথে প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামোগত মেগা চুক্তি সই করতে যাচ্ছে, যা দিল্লির বুকে চরম কৌশলগত আতঙ্ক তৈরি করেছে।

দিল্লির দুশ্চিন্তার মূল কারণ: ৩টি মেগা চুক্তি

বেইজিং সূত্র এবং আন্তর্জাতিক ডিফেন্স জার্নালগুলোর খবর অনুযায়ী, এই সফরে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে তিনটি প্রধান মেগা চুক্তি চূড়ান্ত রূপ পেতে যাচ্ছে, যা ভারতকে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় ফেলেছে:

১. ফাইটার জেট ক্রয় চুক্তি: বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চীনের কাছ থেকে প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক ৪.৫ জেনারেশনের ‘জেট-১০সি’ (J-10C) মাল্টিরোল ফাইটার জেট ক্রয়ের চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে।

২. সামরিক কারখানা স্থাপন: দিল্লির তীব্র আপত্তি অগ্রাহ্য করে ইতিমধ্যে একনেকের (ECNEC) মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি অত্যাধুনিক মিলিটারি বা সামরিক কারখানা স্থাপনের জন্য চীনকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

৩. তিস্তা মহাপরিকল্পনা: তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজটি সম্পূর্ণভাবে চীনের হাতে তুলে দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে।

এর বাইরে, প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্বের অন্যতম সেরা তুর্কি ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘বাইরাক্তার’-কে বাংলাদেশে ড্রোন কারখানা স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ ডকট্রিনের এই সামরিক আধুনিকায়ন দিল্লির বুকে চরম ভীতি সৃষ্টি করেছে।

অভ্যন্তরীণ ও রাজনৈতিক সমীকরণ

সচেতন মহলের মতে, এই ঘটনার প্রকৃত শিরোনাম হওয়া উচিত ছিল ‘বিএনপি সরকারের ওপর খুশি নয় ভারত’। দিল্লি যেকোনো মূল্যে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনরায় পুনর্বাসন করতে চায়। প্রয়োজনে হাসিনাকে মাইনাস করে আওয়ামী লীগের অন্য কোনো ক্যাডারকে দিয়ে দলটিকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিল্লির এই গোপন কূটনীতি ও নীরবতা প্রত্যাখ্যান করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের কঠোর বিধানের আওতায় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার আইনি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছেন। তাঁর স্পষ্ট পলিসি হলো—ফ্যাসিবাদী হাসিনাকে ভুলে সরাসরি ঢাকার সাথে ডিল করতে হবে।

এই অনমনীয়তার খেসারত হিসেবেই বাংলাদেশের ওপর শুরু হয়েছে দিল্লির চেনা নোংরা খেলা। হঠাৎ করে সীমান্তে বিএসএফের (BSF)军事 চাপ এবং পুশ-ইনের অপচেষ্টা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ানো হয়েছে। পাহাড়ে নতুন করে ‘কুকি-চিন’ বা সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দিয়ে ঝামেলা পাকানোর চিত্রনাট্য লেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ইস্কনের (ISKCON) মতো উগ্র ফ্রিন্জ গ্রুপগুলোকে রাজপথে নামিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা চলছে। ইতিহাস সাক্ষী, এই নোংরা খেলা ভারত আগেও খেলেছে। জিয়াউর রহমান খুন হওয়ার খবর বাংলাদেশের কোনো মিডিয়া জানার আগেই দিল্লির সরকার তা প্রকাশ করেছিল।

আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে পরীক্ষা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি নিজের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ে চীনের এই মেগা সফর বাতিল করতেন এবং দিল্লির দরবারে কিংবা রাম মন্দিরে গিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে আসতেন, তবে চলমান এই কৃত্রিম ক্রাইসিসগুলোর একটুও দেখা যেত না। প্রশ্ন হলো, এই ভূরাজনৈতিক সংকটের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে দোষ দেওয়া উচিত নাকি ধন্যবাদ দেওয়া উচিত? দেশের সচেতন ও দেশপ্রেমিক জনগণ তখনই তাকে অন্ধ ধন্যবাদ দেবে, যখন তিনি দিল্লির তৈরি করা এই উগ্রবাদী দোকানপাটগুলোর সমাধান করে কোনো প্রকার মাথা না ঝুঁকিয়ে অত্যন্ত সফলভাবে সংকটগুলো ম্যানেজ করতে পারবেন। আর রাজপথে বুক চিতিয়ে শত্রুর নাটাই কেটে দেওয়ার মাধ্যমে চীনের এই মেগা সফর সফল করতে পারলেই তা হবে দিল্লির নগ্ন আধিপত্যের কফিনে শেষ পেরেক।

তথ্যসূত্র: নিউজ বাংলা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category