• শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১০ অপরাহ্ন
Headline
সড়ক দুর্ঘটনার নামে টার্গেট কিলিং জিডিপির ৫ শতাংশ চিকিৎসা খাতে ব্যয় করা হবে: মির্জা ফখরুল সরকারের কাজে গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী সরকার ও জনগণের মধ্যে তথ্যের সেতুবন্ধনে পিআইডি’র ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ : তথ্য প্রতিমন্ত্রী প্রাপ্য মনে করলে সরকার সমিতিকে প্লট দেবে: গণপূর্তমন্ত্রী আলিয়া মাদ্রাসায় ফের সংঘর্ষের শঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ সবার আগে বাংলাদেশ বললেও বিএনপি ভারতকে ভয় পাচ্ছে: নাহিদ ইসলাম তরুণদের মাদকে ঠেলে দিয়েছে পতিত সরকার: অর্থ উপদেষ্টা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বিশৃঙ্খলা ছড়াবেন না: জামায়াত আমির বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি চক্র: প্রধানমন্ত্রী

চেয়ারম্যানহীন বিপিসিতে চার দিনের নোটিশ: তড়িঘড়ি খসড়ায় আপত্তি

Reporter Name / ১ Time View
Update : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

দেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিশোধিত জ্বালানি তেল খাতকে বেসরকারি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে তেল আমদানি, বিপণন, সংরক্ষণ ও বিক্রির নতুন খসড়া কাঠামো জমা দেওয়ার জন্য মাত্র চার দিন সময় দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কোনো স্থায়ী চেয়ারম্যান না থাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সফর নিয়ে ব্যস্ততার মাঝে এমন আকস্মিক ও তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, ভোক্তা অধিকার ও তদারকি ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষ স্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
গত বৃহস্পতিবার জারি করা মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ চিঠি অনুযায়ী, দেশে কোনো ধরনের বাধা ছাড়া জ্বালানির সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখার অজুহাতে ‘বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়া জমা দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। তবে কার্যত শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় বিপিসির কর্মকর্তারা মাত্র দুই কর্মদিবস সময় পাচ্ছেন এই দূরদর্শী ও জটিল খসড়া তৈরি করার জন্য। অথচ গত ২৬ জুলাই বিপিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান রেজানুর রহমানকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করার পর থেকে সংস্থাটিতে কোনো পূর্ণকালীন অভিভাবক বা চেয়ারম্যান নেই। বর্তমানে তিনজন পরিচালকের ওপর কাজ সামলানোর দায়িত্ব থাকলেও আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত মাতারবাড়ী হাব সফরের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকায় তারা নীতিমালার দায়িত্ব কাকে দেবেন, তা নিয়ে বিপিসির অভ্যন্তরে চরম বিশৃঙ্খলা ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক সুসংবাদের অন্তরালে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের এক প্রভাবশালী শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী এককভাবে জ্বালানি তেল আমদানি ও বাজারজাত করার অনুমতি চাইলে বিষয়টি মূল্যায়নে বিপিসির ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। উক্ত কমিটি গভীর পর্যালোচনার পর গত ২১ জুলাই মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়ে এই কৌশলগত খাতকে বেসরকারি খাতের হাতে ছেড়ে না দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশনামূলক সুপারিশ করেছিল। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, সুপারিশ জমা দেওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় বিপিসির তৎকালীন প্রধানকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে ওএসডি করা হয়। এই পদচ্যুতির সাথে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের সরাসরি কোনো সংযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা না হলেও, পরবর্তীতে অতি দ্রুততম সময়ে এই খসড়া চাওয়ার নির্দেশ সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে।
মন্ত্রণালয়ের এমন নীতিগত তড়িঘড়ি ও স্বল্প সময়ের নির্দেশনার কড়া সমালোচনা ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও প্রখ্যাত জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম তামিম। তিনি মনে করেন যে, নীতিগতভাবে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা ইতিবাচক হলেও তার আগে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তিগত, বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা প্রভাব মূল্যায়ন করা অত্যাবশ্যক। মাত্র কয়েক দিনের নোটিশে এমন স্পর্শকাতর নীতি প্রণয়ন অসম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, দেশে জ্বালানির দাম এখনো মুক্তবাজার বা বাজারভিত্তিক নয়। ফলে সরকার প্রদত্ত বিপুল অংকের জ্বালানি ভর্তুকি এই নতুন বেসরকারি পরিচালকরা কীভাবে পাবেন এবং মুক্ত প্রতিযোগিতার বাজার কীভাবে রক্ষা হবে—তার স্পষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি না করে তাড়াহুড়ো করা চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া দেশের বর্তমান তেল বিতরণ ব্যবস্থা বহু বছরের অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে; বেসরকারি আমদানিকারকদের জন্য রাতারাতি এমন নতুন ও নিরাপদ বিতরণ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা কাল্পনিক ব্যাপার।
ভোক্তা অধিকার রক্ষা সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম ও ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা মঞ্জার-ই-খোরশেদ আলম এ ধরনের সিদ্ধান্তকে চরম অবাস্তব ও বিপজ্জনক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থির মূল্যের মাঝে দেশের কৌশলগত ও জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে রাষ্ট্রীয় তদারকি অক্ষুণ্ণ রাখা অপরিহার্য। চার দিনের মধ্যে তাড়াহুড়ো করে দেওয়া এই নীতিমালা ভবিষ্যতে জাতীয় নিরাপত্তাকে একটি বা দুটি ক্ষমতাধর সুবিধাবাদী ব্যবসায়ী গ্রুপের হাতে বন্দি করে ফেলার নীল-নকশা হতে পারে। একইভাবে অর্থনীতিবিদ ও জাতীয় তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির সভাপতি আনু মুহাম্মদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, অদক্ষ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংস্কার করে শক্তিশালী করার বদলে অতি-নির্ভরশীলতা তৈরি করে পুরো বাজার গুটি কতক সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া হলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়বে। তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে স্বচ্ছতা, কার্যকর জবাবদিহি এবং বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের বৃহৎ আলোচনার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
তথ্যসূত্র: দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category