‘বর্তমান সরকার ও বিরোধী দল গত ১৫ বছর মজলুম ছিলাম। মজলুমরা এখন আবার জালিম হতে যাব কেন? এই সরকার গঠন হওয়ার পর আমাদের পাঁচজনকে খুন করা হয়েছে। আমরা কি চাই, আবার খুনের রাজত্ব কায়েম হোক? না, চাই না। তাই এখানেই ফুলস্টপ। আর সামনে খুনের দিকে পা বাড়াবেন না। এই বাংলাদেশের মানুষ বিশেষ করে যুবকেরা কারো চোখ রাঙানিকে ভয় করে না। এ দেশের মানুষ আর ফ্যাসিবাদকে চায় না। তাই আপনারা হাজার চেষ্টা করেও ফ্যাসিস্ট হতে পারবেন না। কিন্তু আপনারা তো সে পথেই পা বাড়াচ্ছেন।’
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ গাইবান্ধার সমাবেশে এসব কথা বলেছেন। তিনি বলেন, জনতার রায় উপেক্ষা করে কেউ টিকতে পারেনি। তাই জনগণের রায়কে সম্মান করুন।
তিনি আরও বলেন, বৃহত্তর রংপুরবাসীকে বঞ্চিত করার অধিকার কেউ রাখে না। যারা বঞ্চিত করবে, তারা হলো গণদুশমন।
পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করতে আসবেন না উল্লেখ করে তিনি নলেন, ২৪-এর বিপ্লব হয়েছে সমাজ থেকে সব ময়লা পরিষ্কার করার জন্য। যারা চাঁদাবাজি ও দখলদারির নেশায় আসক্ত হয়ে মানুষ খুন করছে, তারা সমাজের আবর্জনা। সমাজ থেকে এসব পরিষ্কার করতে হবে। তিনি বলেন, ক্ষমতা কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। মহান আল্লাহ যাদের সম্মান করে ক্ষমতায় বসান, তাদের আবার আছাড় মেরে টুকরো টুকরোও করে দেন।
নিহত সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিন খুনের বিচার দাবি করে তিনি বলেন, প্রশাসন কারো দলীয় বাহিনী নয়। প্রশাসন এ দেশের সম্পদ। তারা সবার হয়ে কাজ করবে।
সোমবার সকাল ১০টায় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় নিহত শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের হত্যার বিচারের দাবিতে বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসমাবেশে গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, গাইবান্ধা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আমির আব্দুল করিম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, সাঘাটা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইব্রাহিম হোসাইন, সেক্রেটারি আব্দুল গফুর প্রমুখ।
এর আগে তিনি উপজেলার বোনারপাড়া শিমুলতাইরে নিহত ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিনের কবর জিয়ারত করেন।