জরুরি পরিস্থিতির কথা জানানোর পর আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর নিখোঁজ হয়েছে একটি মেডিকেল উড়োজাহাজ। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের দিকে যাওয়ার সময় বিমানটির বৈদ্যুতিক সমস্যার কথা জানানো হয়। এরপরই রেডিও ও রাডারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে মার্কিন কোস্ট গার্ড নানটাকেট দ্বীপের কাছে সাগরে ওই উড়োজাহাজের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পেয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডার নিবন্ধিত গালফস্ট্রিম জি১০০ উড়োজাহাজটি মেডিকেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সংস্থা ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনা করছিল। শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪১ মিনিটের দিকে এটি বারমুডার এলএফ ওয়েড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে।
উড়োজাহাজটির গন্তব্য ছিল বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এতে দুই পাইলট, দুই মেডিকেলকর্মী, একজন রোগী ও রোগীর এক স্বজনসহ মোট ছয়জন ছিলেন।
বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার আগে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে পাইলটের শেষ কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডিং প্রকাশ্যে এসেছে। লাইভএটিসি ডটনেট-এ প্রকাশিত ওই রেকর্ডিংয়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি বলেছিলেন, আপনি অন্ধভাবে (দৃষ্টিনির্ভরতা ছাড়া) এগোচ্ছেন। আপনি কি সেটাই বলেছিলেন?’
পাইলটের জবাব স্পষ্টভাবে শোনা যায়নি। এরপর নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, বিমানটি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছে কি না।
বোস্টন গ্লোবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কিছুক্ষণ আগে বিমানটিতে বৈদ্যুতিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
নানটাকেটের দক্ষিণে ম্যাসাচুসেটসের আকাশসীমার কাছে পৌঁছানোর সময় বিমানটির রেডিও ও রাডার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন বোস্টন লোগান বিমানবন্দরের জরুরি উদ্ধারকারী দলকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে বিমানটি প্রায় ২৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। এরপর মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, একপর্যায়ে বিমানটি প্রায় ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় নেমে যাওয়ার পর যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
তখন বিমানটি ম্যাসাচুসেটস উপকূল থেকে এগিয়ে যাচ্ছিল। বোস্টন গ্লোবের তথ্য অনুযায়ী, লোগান বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের যখন বিমানটির সম্ভাব্য আগমনের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়, তখন সেটি নানটাকেট থেকে প্রায় ৮০ মাইল দক্ষিণে ছিল। তবে বিমানটি আর বোস্টনে পৌঁছাতে পারেনি।
বোস্টন গ্লোবের তথ্যমতে, রাত প্রায় ১টা ২০ মিনিটে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করার সতর্কতা জারি করে।
এরপর মার্কিন কোস্ট গার্ড নানটাকেটের দক্ষিণে সমুদ্র এলাকায় বিমান ও নৌযান পাঠিয়ে তল্লাশি শুরু করে। পরে কোস্ট গার্ড জানায়, তারা নিখোঁজ মেডিকেল ফ্লাইটটির একটি ‘ধ্বংসাবশেষের এলাকা’ খুঁজে পেয়েছে।
ধ্বংসাবশেষটি নানটাকেটের দক্ষিণে পাওয়া যায় এবং সেটি নিখোঁজ উড়োজাহাজটিরই অংশ বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এরপর বিমানে থাকা ছয়জনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়।
নানটাকেট কারেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত কোস্ট গার্ড প্রায় ১ হাজার ৬৪৪ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালিয়েছিল।
নিখোঁজ উড়োজাহাজটিতে থাকা ছয়জনের মধ্যে ছিলেন দুই পাইলট, দুই মেডিকেলকর্মী, একজন রোগী এবং রোগীর এক স্বজন। কানাডিয়ান প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চারজন ক্রু ছিলেন কানাডার নাগরিক। আর দুই যাত্রী ছিলেন বারমুডার বাসিন্দা।