লেবাননে দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ হামলায় দক্ষিণ লেবাননের মারুব গ্রামে যুদ্ধবিমান থেকে চালানো হামলায় নতুন করে চারজন নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এই হামলায় ঘটনাস্থলেই ওই চারজনের মৃত্যু হয় এবং আরও অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে ইতিমধ্যে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ইসরায়েলি হামলায় দক্ষিণ লেবাননের মারউব, কানা, তেফাহতা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৪ জন নিহত হয়, এ নিয়ে মোট ২৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) ও স্থানীয় সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, গত কয়েক ঘণ্টায় চালানো ওই ২৪ জন নিহতের ঘটনাটি ঘটে মূলত তিনটি স্থানে। এর মধ্যে টায়ার জেলার মারউব শহরে অন্তত ছয়জন এবং উপকূলীয় শহর কানায় পৃথক এক হামলায় পাঁচজন প্রাণ হারান। অন্যদিকে, তেফাহতা শহরে রাতভর চালানো এক ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হন। ইসরাইলি বাহিনী কেবল আবাসিক এলাকা বা এই শহরগুলোতেই নয়, বরং আল-বাজুরিয়াহ, কলিলা, বাফলিয়াহ, কলাউইয়া, কাফরা, হারিস, রাসাফ এবং স্রেবিন শহরেও একের পর এক ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় চরম উত্তেজনার মাঝে ইসরায়েল সম্প্রতি তাদের হামলার মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এখন কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইসরাইলের দাবি, তারা হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে; তবে লেবানন সরকারের মতে, হতাহতদের বড় অংশই বেসামরিক মানুষ।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া চলমান এই দীর্ঘ সংঘাতে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহতের মোট সংখ্যা ইতিমধ্যে ৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং আহত হয়েছেন ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। এছাড়া, সংঘাতের ভয়াবহতায় নিজেদের বসতবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন দেশটির ১০ লক্ষেরও বেশি সাধারণ নাগরিক। ক্রমাগত এই হামলার কারণে লেবাননের দক্ষিণ সীমান্ত এলাকায় মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।