প্রকৃতি ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা জেলা সুনামগঞ্জের বুক চিরে বয়ে চলা পাহাড়ি নদীগুলো এখন লুটেরাদের তাণ্ডবে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে। মেঘালয়ের পাদদেশ থেকে নেমে আসা স্বচ্ছ জলের যাদুকাটা, ধোপাজান কিংবা সীমান্তঘেঁষা মরাচেলা নদী এখন আর কেবল কোনো প্রাকৃতিক জলাধার নয়, বরং অবৈধ অর্থলোভী চক্রের কাছে তা পরিণত হয়েছে কোটি কোটি টাকার খনিজ সম্পদের সহজ লুণ্ঠনক্ষেত্রে। ক্ষমতাসীন কিংবা প্রভাবশালীদের রাজনৈতিক ছাতার নিচে অবস্থান নিয়ে স্থানীয় বালুখেকোরা প্রতিদিন প্রকাশ্য দিবালোকে নদীর বুক এবং দুই কূলের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ যেমন রুদ্ধ হচ্ছে, তেমনি চরম হুমকির মুখে পড়ছে তীরবর্তী হাজারো পরিবারের বসতভিটা, আবাদি কৃষিজমি এবং গ্রামীণ যোগাযোগের একমাত্র রাস্তাঘাট। আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা, দফায় দফায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলা কিংবা প্রশাসনের তথাকথিত মোবাইল কোর্টের অভিযান—কোনো কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না এই আগ্রাসী তৎপরতা। স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন, কারণ লুণ্ঠন প্রক্রিয়ার নেপথ্যে সক্রিয় রয়েছে রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রত্যক্ষ দাপট ও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সম্মিলিত আধিপত্য।
নদীগুলোর এই বর্তমান দুরবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মরাচেলা নদীতে। সম্প্রতি উপজেলার পূর্ব সোনাপুর গ্রামসংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে এক বীভৎস দৃশ্য। সেখানে দিনদুপুরে কোনো প্রকার ভয়ডর ছাড়াই ড্রেজার ও দেশীয় নৌকার বহর নামিয়ে নদীর তীরবর্তী মাটি নির্বিচারে কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বালুভর্তি বিশালাকার নৌকাগুলো একের পর এক তীর ঘেঁষে ভিড়ছে এবং শ্রমিকের দল শাবল-কোদাল দিয়ে তীরের তলদেশ থেকে মাটি উপড়ে ফেলছে। নদীর পাড় ভেঙে এমন এক বিপজ্জনক খাদের সৃষ্টি করা হয়েছে, যার কারণে সামান্য বৃষ্টি কিংবা ঢলের পানিতেই পাশের জনপদ ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। নিজ বসতভিটা ও পৈতৃক জমিটুকু বাঁচানোর জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এখন রোদে পুড়ে, ছাতা মাথায় দিয়ে লাঠি হাতে নদীর পাড়ে পাহারা বসাতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে লুটেরা চক্রের পেশিশক্তির সামনে তাঁদের এই নিঃসঙ্গ লড়াই প্রতিনিয়ত মার খাচ্ছে।
পূর্ব সোনাপুর গ্রামের ভুক্তভোগী বাসিন্দা আমির হামজার চোখেমুখে এখন কেবলই নিজের জমি হারানোর আতঙ্ক ও ক্ষোভ। নদীর সীমানায় দাঁড়িয়ে থাকা এই অসহায় মানুষটি নিজের ভিটেমাটি রক্ষায় বহুবার শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করেছেন এবং শাসিয়েছেন, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। আমির হামজার বয়ান অনুযায়ী, গ্রামের চিহ্নিত প্রভাবশালী ছিদ্দিক মিয়া এবং তাঁর ভাই-ভাতিজাদের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে চলছে এই পুরো বালু লুণ্ঠন প্রক্রিয়া। শুধু স্থানীয়রাই নয়, তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ছাতক, কোম্পানীগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সদর এলাকা থেকে আসা আরও ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র বহিরাগত চক্র। আমির হামজা ও তাঁর পরিবার যখন নিজেদের সীমানার মাটি কাটতে সরাসরি বাধা দিতে যান, তখন এই চক্রটি উল্টো তাঁদের ওপর চড়াও হয়। দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি ও তাঁর ভাই গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মারধরের শিকার হয়েও তাঁরা নিজেদের ভিটেমাটি রক্ষার কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না, কারণ আইনের আশ্রয় নিতে গেলেও তাঁদের ঝুলিতে আসছে নতুন নতুন মামলার ভয় ও হুমকি।
একই গ্রামের সাধারণ বালুশ্রমিক আসগর আলীর বক্তব্যেও উঠে এসেছে এই ত্রাস ও মাৎস্যন্যায়ের নির্মম বাস্তবতা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ছিদ্দিক, হামিদ, কাদির, মুরছালিন ও আব্দুর রহমানদের মতো প্রভাবশালীরা জোরজবরদস্তি করে আমির হামজাদের মতো নিরীহ মানুষদের জায়গা দখল করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের পৈতৃক ভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়া ঠেকাতে বাধা দেওয়ায় দুই ভাইকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। আসগর আলী আক্ষেপ করে বলেন যে, এই চক্রের পেছনে ছাতক, কোম্পানীগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের অনেক বড় বড় রথী-মহারথীর প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। এলাকাবাসী কোনোভাবেই চায় না তাঁদের বাড়িঘর নদীগর্ভে হারিয়ে যাক। সম্প্রতি স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে প্রতিবাদী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করার পর শ্রমিকেরা সাময়িকভাবে নদী থেকে নৌকা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কঠোর পাহারা না থাকায় ঠিক তার পরদিনই দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে আবার নদীর পাড় কাটা শুরু করে তারা। উল্টো সাধারণ প্রতিবাদীদের বিভিন্ন সাজানো হামলা ও মামলায় জড়িয়ে এলাকাছাড়া করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল গত ৪ অক্টোবর। সেদিন দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের কাজিরগাঁও এলাকায় মরাচেলা নদীর পাড় কাটা বন্ধের দাবিতে সর্বস্তরের এলাকাবাসী এক বিশাল মানববন্ধন ও গণবিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করেন। শত শত মানুষ প্ল্যাকার্ড হাতে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে প্রশাসনের প্রতি তাঁদের ভিটেমাটি রক্ষার আকুল আরজি জানান। এই তীব্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের এবং পরবর্তীতে ৬ অক্টোবর পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের অপরাধে মোট ৩৭ জন দখলদার ও বালু ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ করে অভিযুক্ত করা হয়। মামলার এজাহারে পরিবেশ ধ্বংসের এক ভয়ংকর পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, বিগত ২৫ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে মরাচেলা নদী থেকে অবৈধভাবে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ২৫ লাখ ঘনফুট বালু কেটে তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে মামলার নথিপত্র তৈরি হলেও মূল আসামিদের একজনকেও আইনের আওতায় এনে এই ধ্বংসযজ্ঞ থামানো সম্ভব হয়নি।
মরাচেলা নদীর মতো একই ধরনের করুণ ও ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করছে জেলার তাহিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী যাদুকাটা নদী। নদীর রূপালি বালু ও পাহাড়ি স্বচ্ছ স্রোতের জন্য পরিচিত এই নদীতীরবর্তী লাউড়েরগড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাটি কাটার কারণে পাড় ভেঙে মানুষের বসতভিটা নদীগর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই এই বৃহৎ বালুমহালে ঝাঁপিয়ে পড়ে সুযোগসন্ধানী একদল নতুন ও পুরনো লুটেরা। তৎকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলার শিথিলতার সুযোগ নিয়ে দিনরাত শত শত ট্রলার ও বার্জে কোটি কোটি টাকার বালু লুট করা হতে থাকে। এ নিয়ে চারদিকে তোলপাড় সৃষ্টি হলে জেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। পরবর্তীতে ইজারার নিয়মিত মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছয় মাসের জন্য সরকারের পক্ষে খাস আদায়ের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
তবে প্রশাসনের এই খাস আদায়ের সিদ্ধান্তও বেশি দিন কার্যকর রাখা যায়নি আইনি মারপ্যাঁচের কারণে। পূর্ববর্তী এক ইজারাদারের দায়ের করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত গত ২৯ সেপ্টেম্বর যাদুকাটা নদী থেকে বালু উত্তোলনের ওপর তিন মাসের স্থগিতাদেশ জারি করেন। আদালতের এই আদেশের ফলে নদীটি বর্তমানে সম্পূর্ণ ইজারাবিহীন এবং সেখানে যেকোনো ধরনের খনন বা বালু তোলা সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আদালতের কাগজপত্রের নিষেধাজ্ঞা নদীর পাড়ে কোনো কাজেই আসছে না। যাদুকাটা নদীতীরবর্তী স্থানীয় বাসিন্দাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, ইজারা স্থগিত থাকলেও লুটেরাদের কার্যক্রম বিন্দুমাত্র থামেনি। প্রতিদিন রাতের আঁধারে এবং প্রকাশ্য দিনেও শত শত ছোট-বড় ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বালু কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যার পেছনে কাজ করছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লুটের উৎসব আগের মতোই পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে।
অনুরূপ দুরবস্থা বিরাজ করছে সুনামগঞ্জ জেলা শহরতলির আরেক গুরুত্বপূর্ণ বালুমহাল ধোপাজান নদীতে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং নদীতীরবর্তী মানুষদের জীবিকা রক্ষার্থে ২০১৮ সালে দেশের সর্বোচ্চ আদালত ধোপাজান কোয়ারি থেকে সব ধরনের বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধের সুস্পষ্ট আদেশ দিয়েছিলেন। আদালতের এই কঠোর আদেশের কারণে দীর্ঘ কয়েক বছর সেখানে বৃহৎ পরিসরে উত্তোলন বন্ধ ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পালাবদলের পর আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতার সুযোগে আবারও সেই ধোপাজান নদীতে শুরু হয় বেপরোয়া বালু লুণ্ঠন। গণমাধ্যম ও সচেতন মহলের তীব্র সমালোচনার মুখে প্রশাসন সক্রিয় হয়ে সাময়িকভাবে তা বন্ধ করলেও গত বছরের অক্টোবরে সরকারি সিদ্ধান্তে ধোপাজানে পুনরায় বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়। এর ফলে সেখানেও শুরু হয় অনিয়ন্ত্রিত লুটের মহোৎসব। প্রশাসন বর্তমানে ওই এলাকায় আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে নজরদারি জোরদার করার দাবি করলেও বাস্তব ক্ষেত্রে অবৈধ বালু পাচার কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না।
নদীগুলোর এই ধারাবাহিক বিনাশ ও আইনের তোয়াক্কা না করার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট পরিবেশকর্মীরা। পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বর্তমান পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, অবৈজ্ঞানিক ও অপরিকল্পিতভাবে নদীর পাড় কেটে মাটি ও বালু তুলে নেওয়ার ফলে ওই এলাকার সমগ্র ভূপ্রকৃতি আমূল বদলে যাচ্ছে। জলজ পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থানের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে, নদীগুলোর নাব্যতা হারিয়ে যাচ্ছে এবং ভাঙনের শিকার হয়ে শত শত ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাকা রাস্তাঘাট নদীগর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে যে লোকদেখানো অভিযান চালানো হয়, তা দিয়ে কোনোদিন এই বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন আপসহীন ও কার্যকর পদক্ষেপ।
কাসমির রেজা আরও উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছাড়া এত বড় অপরাধ কোনোভাবেই দিনের পর দিন চালানো সম্ভব নয়। যখন যে রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে কিংবা স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করে, অপরাধী বালুখেকোরা দ্রুত খোলস পাল্টে তাদের আশ্রয়ে চলে যায়। আর ক্ষমতাবান রাজনীতিকেরাও নিজেদের আখের গোছাতে ও আর্থিক ফায়দা লুটতে এই চোরাকারবারিদের বুক দিয়ে আগলে রাখে। ফলে প্রতিটি অভিযানে কেবল পেটের দায়ে কাজ করতে আসা দিনমজুর শ্রমিকদের আটক করা হয়, কিন্তু লুণ্ঠনের শত শত কোটি টাকার সুবিধাভোগী রাঘববোয়ালরা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে যদি মূল হোতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে কোনোভাবেই এই বালু লুট স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যাবে না।
ইজারাবিহীন অবস্থায়ও বিভিন্ন নদীতে অবৈধভাবে বালু লুটের এই নির্মম বাস্তবতা অস্বীকার করছেন না খোদ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। তিনি বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে জানান যে, সুনামগঞ্জ জেলার নির্ধারিত চারটি বালুমহালের মধ্যে বর্তমানে যাদুকাটা ও মরাচেলা নদী নিয়েই মূল সংকট তৈরি হয়েছে। এই দুটি নদীতে অবৈধ উত্তোলন ও পাড় কাটার তৎপরতা ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। পুলিশ, বিজিবি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে নিয়মিত টাস্কফোর্স গঠন করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও পরিবেশবাদীদের মতে, টাস্কফোর্সের অভিযান শেষ হতে না হতেই চক্রটি আবার নদীতে নেমে পড়ে। তাই কেবল সাময়িক অভিযান নয়, বরং স্থায়ী নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে গ্রেপ্তার এবং নদীর পাড়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ না করলে হাওরাঞ্চলের এই নদী ও জনপদকে মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়া ঠেকানো যাবে না।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা