দেশের রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী, স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার মজুত সুসংহত করার লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রপ্তানি শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত, আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এই পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশীয় সহায়ক বা ‘ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ’ শিল্পের প্রসার ঘটাতে সরকার ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’-এর একটি নতুন খসড়া চূড়ান্ত করেছে। এই নীতিমালার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, রপ্তানিকারকদের এখন থেকে তাদের উৎপাদিত পণ্যে অনেক বেশি হারে—ক্ষেত্রবিশেষে যা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত—মূল্য সংযোজন বা ভ্যালু এডিশন করতে হবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অনুমোদন পেলে এই ব্যাপকভিত্তিক ও কৌশলগত বাণিজ্য নীতি আদেশটি আগামী ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে কার্যকর থাকবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে আজ বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের উপস্থিতিতে শিল্প খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
উচ্চ মূল্য সংযোজনের কঠোর শর্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিছক সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা। বর্তমান আমদানি নীতিতে নিটওয়্যার, ওভেন এবং শিশুদের পোশাকের বাইরে অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে ন্যূনতম মূল্য সংযোজনের খুব একটা কড়াকড়ি বা সুনির্দিষ্ট শর্ত নেই। কিন্তু নতুন খসড়া নীতিমালায় এই কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, তৈরি পোশাক খাতে শিশুদের পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম মূল্য সংযোজনের হার বর্তমানের ১৫ শতাংশ থেকে একলাফে দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে তুলা এবং কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান-মেড ফাইবার দিয়ে তৈরি সব ধরনের নিট ও ওভেন পোশাকের ক্ষেত্রেও এই সীমা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া অন্তর্বাস এবং অন্যান্য সিন্থেটিক তন্তুভিত্তিক বিশেষায়িত পোশাকের ক্ষেত্রে এই হার নির্ধারণ করা হতে পারে অন্তত ৪০ শতাংশ।
কেবলমাত্র পোশাক খাতই নয়, অন্যান্য উদীয়মান রপ্তানি খাতের জন্যও কঠোর শর্তের প্রস্তাব রয়েছে। চামড়াজাত পণ্য, নন-লেদার জুতা এবং পাদুকা শিল্পের ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকদের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করতে হবে। ভারী শিল্প যেমন জাহাজ নির্মাণ ও রপ্তানির ক্ষেত্রে এই সীমা ৪০ শতাংশ এবং কাঠের তৈরি আসবাবপত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে তা সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা হলো, কোনো রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান যদি এই নির্ধারিত ন্যূনতম মূল্য সংযোজনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। শর্ত ভঙ্গে সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারক কাঁচামাল আমদানিতে প্রচলিত শুল্কমুক্ত সুবিধা (বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা) হারাবেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া কোনো ধরনের নগদ আর্থিক প্রণোদনাও পাবেন না।
নিট ফেব্রিক আমদানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব এবং শিল্পের উদ্বেগ
খসড়া নীতিমালার অন্যতম বিতর্কিত একটি দিক হলো, বিদেশ থেকে নিট ফেব্রিক বা কাপড় আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব। সরকারের উদ্দেশ্য হলো দেশীয় টেক্সটাইল ও ডাইং খাতকে সুরক্ষা দেওয়া এবং তাদের উৎপাদন বাড়াতে বাধ্য করা। কিন্তু সরকারের এই আকস্মিক পদক্ষেপের খবরে তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তা ও নেতাদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও চরম হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হাসান খান এই নীতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, দেশের বর্তমান শিল্প কাঠামোতে নিটওয়্যার রপ্তানির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করা হয়তো সম্ভব, কিন্তু ওভেন পোশাকের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে এত উচ্চ হারে ভ্যালু এডিশন করা একেবারেই অবাস্তব। বিজিএমইএ সভাপতির মতে, আন্তর্জাতিক ফ্যাশন বাজারে এমন অনেক বিশেষায়িত নিট ফেব্রিক্সের চাহিদা রয়েছে যা বাংলাদেশে আদৌ উৎপাদিত হয় না। এসব কাপড় আমদানির পথ যদি সরকার পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, তবে বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে এবং পুরো দেশীয় পোশাক খাতের রপ্তানি সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
একই ধরনের উদ্বেগের প্রতিধ্বনি শোনা গেছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের কণ্ঠে। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্যমাত্রা শুনতে ভালো লাগলেও আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতির কারণে এটি সব ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
নিট ফেব্রিক্স আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “বিদেশ থেকে নিট কাপড় আমদানি বন্ধ করতে হলে সবার আগে আমাদের দেশীয় ডাইং বা রঙ করার শিল্পে বিশাল অংকের নতুন বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আর ডাইং কারখানার প্রধান চালিকাশক্তি হলো নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সরকার বর্তমানে শিল্পকারখানাগুলোতে প্রয়োজনীয় গ্যাসই সরবরাহ করতে পারছে না। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে বড় বিনিয়োগের পরিবেশও নেই। তাই উচ্চ মূল্যের পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে আমাদের পণ্যের যে বৈচিত্র্যকরণ দরকার, তা করতে হলে কাঁচামাল বা নিট ফেব্রিক্স আমদানির পথ কোনোভাবেই বন্ধ করা উচিত হবে না।”
অর্থপাচার রোধ বনাম কর্মসংস্থান সৃষ্টির দ্বন্দ্ব
সরকার কেন হঠাৎ করে মূল্য সংযোজনের ওপর এতটা কড়াকড়ি আরোপ করছে, তার একটি ভিন্ন অর্থনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপট রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের সাবেক মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান মনে করেন, এই উদ্যোগের পেছনে সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচার বা মানি লন্ডারিং কঠোরভাবে রোধ করা।
দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে যে, অনেক অসাধু রপ্তানিকারক বেশি দামে পণ্য রপ্তানি দেখালেও (ওভার-ইনভয়েসিং) সেই অনুপাতে বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার দেশে আনেন না। আবার কাঁচামাল আমদানির নামেও বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়। মূল্য সংযোজনের হার বাধ্যতামূলকভাবে বাড়িয়ে দিলে রপ্তানিকারকরা দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহারে বাধ্য হবেন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের সুযোগ অনেক কমে যাবে।
তবে এই নীতির নেতিবাচক দিক নিয়েও সতর্ক করেছেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান লক্ষ্যই হলো বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। ন্যূনতম মূল্য সংযোজনের সীমা এত কঠোর করলে দেশের হাজার হাজার ছোট ও মাঝারি কারখানা কাঁচামালের অভাবে তাদের রপ্তানি কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারবে না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে কারখানা বন্ধ করে দেবে, যা শেষ পর্যন্ত দেশে বেকারত্ব বাড়াবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেবে।
তিনি প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনামের উদাহরণ টেনে বলেন, “ভিয়েতনামে মূল্য সংযোজনের এমন কোনো কঠোর ও অবাস্তব শর্ত নেই। সে দেশের অসংখ্য ছোট ছোট কারখানা চীন বা অন্যান্য দেশ থেকে অবাধে সস্তায় কাঁচামাল আমদানি করে। এরপর সামান্য কিছু মূল্য সংযোজন করে তা দ্রুত বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে।”
আমদানি স্বত্ব বা এনটাইটেলমেন্ট এবং পরিবেশবান্ধব যানবাহনে জোর
খসড়া নীতিমালায় পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমান নিয়মে পাঁচ বছরের পুরোনো ব্যবহৃত সাধারণ যানবাহন, মোটর কার, প্যাসেঞ্জার কার এবং ট্রাক আমদানির ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা নতুন নীতিমালায় আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে। তবে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং সবুজ জ্বালানির প্রসারের লক্ষ্যে ১০ বছর পর্যন্ত পুরোনো বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) আমদানির অনুমতি দেওয়ার একটি যুগান্তকারী প্রস্তাব করা হয়েছে।
পাশাপাশি, ‘ফ্রি-অফ-কস্ট’ বা বিনা মূল্যে ব্যবস্থার অধীনে রপ্তানি-সংশ্লিষ্ট আমদানি স্বত্বেও বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। সাধারণ পোশাক, ওভেন ও শিশুদের পোশাকের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বছরের মোট রপ্তানি মূল্যের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কাঁচামাল আমদানির বর্তমান সুবিধাটি অপরিবর্তিত রাখা হবে। তবে কৃত্রিম তন্তু এবং সিন্থেটিক আন্ডারওয়্যার পণ্যের রপ্তানি উৎসাহিত করতে এই আমদানি সীমা ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া জুতা এবং চামড়াজাত পণ্যের জন্য প্রস্তাবিত আমদানি স্বত্ব হবে আগের বছরের রপ্তানি মূল্যের ৬০ শতাংশ। জাহাজ আমদানির ক্ষেত্রেও রপ্তানি ঋণপত্রের (এলসি) মূল্যের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত অনুমতির প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে আসবাবপত্র শিল্পের ক্ষেত্রে কাঠের আসবাবপত্রের জন্য ৪০ শতাংশ, কাপড়ের তৈরি আসবাবপত্রের জন্য ২০ শতাংশ এবং যন্ত্রাংশ বা মেটাল ফার্নিচারের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানির সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।
বাণিজ্য সহজীকরণ: এলসি শর্ত শিথিল ও নমুনার সীমা বৃদ্ধি
নীতিমালায় একদিকে যেমন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যকে সহজ ও গতিশীল করতে বেশ কিছু ইতিবাচক সংস্কারেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। খসড়া আদেশে ঋণপত্র বা এলসি না খুলেই সরাসরি বিক্রয় বা ক্রয় চুক্তির অধীনে আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৫ লাখ মার্কিন ডলারের সর্বোচ্চ সীমাটি পুরোপুরি তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা অনেক দ্রুত ও নমনীয়ভাবে আন্তর্জাতিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।
এছাড়া, বর্তমান আমদানি নীতি আদেশে যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে এলসি খোলার পর পণ্য জাহাজীকরণে সর্বোচ্চ ২৪ মাস এবং অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে ৯ মাস সময়সীমা নির্ধারিত আছে। কিন্তু নতুন খসড়ায় এই ধরনের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার কথা উল্লেখ করা হয়নি, যা আমদানিকারকদের জন্য এক বিশাল স্বস্তি নিয়ে আসবে।
আমদানিকারক হিসেবে নিবন্ধিত নন এমন সাধারণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বর্তমানে নিজেদের ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলারের পণ্য অবাধে আমদানি করার সুযোগ পান। নতুন খসড়া নীতিতে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এই সীমা বাড়িয়ে দ্বিগুণ, অর্থাৎ ২০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে অবস্থানরত তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বর্তমানে মাত্র ১০ হাজার টাকার সমমূল্যের পণ্য বিনা শুল্কে পাঠাতে পারেন। এটিকে একলাফে বাড়িয়ে ১,০০০ মার্কিন ডলার করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত আনন্দদায়ক একটি খবর।
রপ্তানির উদ্দেশ্যে নিত্যনতুন ডিজাইনের পণ্য উৎপাদনের সুবিধার্থে এবং বিদেশি ক্রেতাদের পছন্দ অনুসারে স্থানীয়ভাবে মালামাল তৈরির প্রসারে নমুনা বা স্যাম্পল আমদানির সীমা ব্যাপকভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প মালিকরা প্রতি অর্থবছর প্রতি ক্যাটাগরির ১৫টি করে সর্বোচ্চ ১,৫০০ স্যাম্পল আনতে পারেন। নতুন নিয়মে তারা প্রতি ক্যাটাগরির ৩০টি করে সর্বোচ্চ ৩,০০০ স্যাম্পল আনতে পারবেন। পাদুকা ও চামড়াজাত শিল্পের উদ্যোক্তারা বর্তমানে বছরে সর্বোচ্চ ৫০০ জোড়া স্যাম্পল আনতে পারেন, যা বাড়িয়ে ৩,০০০ জোড়া করা হবে। একইভাবে রপ্তানিমুখী ট্যানারি শিল্প বর্তমানে ৩০০ পিস পাকা চামড়ার নমুনা আনতে পারে, যা এক ধাক্কায় বাড়িয়ে ৩,০০০ পিস করার কথা বলা হয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ও ইসরায়েল বয়কট
বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশকেও এই নীতিমালায় স্থান দেওয়া হয়েছে। খসড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো নির্দিষ্ট বাণিজ্য চুক্তির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও, বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের সাথে অগ্রাধিকারমূলক (পিটিএ) এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) অধীনে ‘সার্টিফিকেট অব অরিজিন’ বা উৎপত্তির সনদপত্রের মাধ্যমে হ্রাসকৃত শুল্কে পণ্য আমদানির বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবে ফিলিস্তিনের ওপর আগ্রাসনের প্রতিবাদ স্বরূপ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরায়েলের প্রতি বাংলাদেশের কঠোর কূটনৈতিক অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। খসড়া আমদানি নীতি আদেশে ইসরায়েল থেকে যেকোনো ধরনের পণ্য আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ”ইসরায়েল হতে বা উক্ত দেশে উৎপাদিত কোনো পণ্য আমদানিযোগ্য হবে না এবং উক্ত দেশের পতাকাবাহী কোনো জাহাজেও বাংলাদেশের জন্য কোনো পণ্য আনা-নেওয়া বা আমদানি করা যাবে না।”
সার্বিকভাবে, ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’-এর এই খসড়াটি বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে একটি নতুন যুগে প্রবেশের দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। তবে দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা, জ্বালানি সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতার সাথে এই নীতির কতটুকু সমন্বয় ঘটানো সম্ভব হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড