পবিত্র ঈদুল ফিতরের মতো আনন্দের দিনটিতেও ফিলিস্তিনিদের জন্য বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। শুক্রবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ঈদের নামাজ আদায়ে কঠোর বাধা প্রদান করেছে। টানা ২১ দিন ধরে মসজিদটি অবরুদ্ধ করে রাখায় বাধ্য হয়ে শত শত ধর্মপ্রাণ মানুষ পূর্ব জেরুজালেমের দামাস্কাস গেটসহ মসজিদের বাইরের বিভিন্ন প্রবেশদ্বার ও সংলগ্ন রাস্তাগুলোতেই ঈদের জামাতে অংশ নেন।
ইসরায়েলি সৈন্যদের এমন পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জেরুজালেম গভর্নরেট। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, এই ঘটনাকে সরাসরি ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন এবং একটি ‘ভয়ানক উসকানি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, পবিত্র আল-আকসা মসজিদকে তার ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনি ও ইসলামি স্বকীয়তা থেকে দূরে সরিয়ে জোরপূর্বক ইহুদিকরণের হীন উদ্দেশ্যেই এমন অবরোধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার চিত্র আরও হৃদয়বিদারক। ইসরায়েলি আগ্রাসনে বাস্তুচ্যুত ও চরম মানবিক সংকটে থাকা ফিলিস্তিনিরা সেখানে বোমাবিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপ আর ভাঙাচোরা মসজিদগুলোর সামনেই খোলা আকাশের নিচে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। এত মৃত্যু, ধ্বংস আর স্বজন হারানোর বেদনার মাঝেও তারা নিজেদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ আগ্রাসনে গাজার প্রায় এক হাজার ২৪০টি মসজিদের মধ্যে ইতোমধ্যে এক হাজার ১০০টিরও বেশি মসজিদ ইসরায়েলি হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।