কাতার বিশ্বকাপে ফরাসিদের হৃদয় ভেঙে দিয়ে নিজেদের তৃতীয় বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়েছিল লিওনেল মেসির দল। ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স সেবার টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে থাকলেও শেষ হাসি হেসেছিল আলবিসেলেস্তেরা। এবার ২০২৬ সালের আসন্ন বিশ্বকাপে ঠিক একই সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তাদের সামনে এখন সুবর্ণ সুযোগ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম দুর্লভ এক রেকর্ডে নিজেদের নাম লেখানোর।
ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় স্কালোনি
ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে পরপর দুটি আসরে ট্রফি জেতার ইতিহাস খুব বেশি দলের নেই। এবার ইতালি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দল হিসেবে সেই রাজকীয় রেকর্ডে ভাগ বসানোর সুযোগ লাতিন পরাশক্তিদের সামনে। গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কোচ লিওনেল স্কালোনি বেশ শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী। তিনি ভালো করেই জানেন, চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রতিপক্ষ দলগুলো তাদের ভিন্ন নজরে দেখবে এবং দর্শকদের প্রত্যাশার চাপও থাকবে আকাশচুম্বী। তবে মাঠের খেলায় মন দিয়ে তিনি সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
প্রথম রেকর্ডটি ইতালির
ফুটবল মহাযজ্ঞে প্রথমবার এই অসামান্য কীর্তি গড়েছিল ইউরোপের পরাশক্তি ইতালি। ১৯৩৪ সালে ঘরের মাঠে নিজেদের প্রথম শিরোপা জেতার চার বছর পর ফ্রান্সে গিয়েও রাজত্ব ধরে রাখে তারা। সেসময় কিংবদন্তি কোচ ভিত্তোরিও পোজ্জোর জাদুকরী কৌশলে দলটি ছিল অপ্রতিরোধ্য। ১৯৩৫ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত টানা ৩০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার অবিশ্বাস্য রেকর্ডও ছিল আজ্জুরিদের ঝুলিতে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে এসে তাদের টানা তিন শিরোপা জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয়।
পেলের ব্রাজিলের অনবদ্য কীর্তি
ইতালির পর ব্যাক-টু-ব্যাক বিশ্বকাপ জয়ের এই গৌরবের মালিক হয় লাতিন জাদুকর ব্রাজিল। ১৯৫৮ সালে ফুটবলের রাজা পেলের অসাধারণ নৈপুণ্যে সুইডেনকে ফাইনালে হারিয়ে নিজেদের প্রথম ট্রফি ঘরে তোলে তারা। এরপর ১৯৬২ সালে চিলির মাটিতেও শিরোপা ধরে রাখে সেলেসাওরা। ওই আসরের শুরুতেই পেলে ইনজুরিতে পড়ে মাঠের বাইরে চলে গেলেও দলটির আধিপত্য কমেনি। গারিঞ্চা ও ভাভাদের দাপটে ঠিকই টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ব্রাজিল।
এখন ফুটবল বিশ্বের নজর ২০২৬ সালের দিকে, যেখানে মেসি ও স্কালোনির আর্জেন্টিনা পারবে কি না এই বিরল ইতিহাসে নিজেদের নাম খোদাই করতে, সেটিই দেখার বিষয়।