• শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪১ অপরাহ্ন
Headline
 পোশাক কারখানার অব্যবহৃত জায়গায় সৌর প্যানেল : মিলতে পারে ১৭৬৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ডিজিটাল নজরদারিতে বদলে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শৃঙ্খলা গ্যাস সংকটে স্থবির কারখানা: চাকরি হারানোর আতঙ্কে লাখো শ্রমিক হাতছাড়া সোনালী সম্ভাবনা: সংকটে দেশের পাট শিল্প যে কারণে নিজের বিয়েতে বাবাকে ডাকলেন না গায়িকা পশ্চিম তীরে ইসরাইলের নতুন বসতি, ৫ পশ্চিমা দেশের নিন্দা রাশিয়ার সহায়তায় বন্দর নির্মাণ, মিয়ানমারে গ্রাম উচ্ছেদের অভিযোগ চলমান কফিন:  প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে  ফিটনেস ও পারমিটহীন স্লিপার বাস র‍্যাব কাগজেই বিলুপ্ত, থাকছে নতুন নামে কাজ ও পরিবারের ভারসাম্য: অভিজ্ঞতা থেকে ১০টি পরামর্শ

পশ্চিম তীরে ইসরাইলের নতুন বসতি, ৫ পশ্চিমা দেশের নিন্দা

Reporter Name / ১ Time View
Update : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬

অধিকৃত পশ্চিম তীরের গুরুত্বপূর্ণ ‘ই-১’ এলাকায় প্রায় ১ হাজার ২০০ বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য ইসরাইলের দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডা। দেশগুলো যৌথ বিবৃতিতে এই উদ্যোগকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে পরিকল্পনাটি দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইনে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিগুলো অবৈধ হিসেবে বিবেচিত। পূর্ব জেরুজালেমের কাছে অবস্থিত ই-১ এলাকায় বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক চাপের কারণে কয়েক দশক ধরে স্থগিত ছিল। তবে বুধবার ইসরাইলের আবাসন মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ৩ হাজার ৪০১টি আবাসন ইউনিটের মধ্যে ১ হাজার ২৩৪টির জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে পাঁচ দেশ বলেছে, পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনি অর্থনীতির ওপর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে সেখানে এমনিতেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর মধ্যে নতুন বসতি নির্মাণের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করবে।

তাদের মতে, ই-১ এলাকায় বসতি সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসরায়েলের অবস্থানকে দুর্বল করবে।

জাতিসংঘের মহাসচিবও আলাদা বিবৃতিতে ই-১ প্রকল্পের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, এই প্রকল্প একটি সংলগ্ন ও ধারাবাহিক ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ‘অস্তিত্বের হুমকি’ তৈরি করছে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ই-১ প্রকল্পের নিন্দা করেন। তবে তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিকে ওই এলাকায় বসবাসকারী বেদুইন ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলি শান্তিকামী সংগঠনগুলো আদালতে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। তবে এর মধ্যেই ইসরায়েলের আবাসন মন্ত্রণালয় দরপত্রের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত বছরের আগস্টে সরকার এসব আবাসন ইউনিট নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছিল।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরাইলি বসতি মালে আদুমিমের মধ্যবর্তী প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকা রয়েছে। পরিকল্পনাটি প্রকাশের সময় ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ দাবি করেছিলেন, এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা ‘মুছে ফেলা হচ্ছে’।

দরপত্রে অংশ নেয়ার শেষ সময় ১৯ অক্টোবর। এর কয়েক দিন পর, ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগেই দরপত্র চূড়ান্ত করা হলে পরবর্তী সরকারগুলোর জন্য এসব প্রকল্প বাতিল করা কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমালোচকেরা।

১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখলে নেয় ইসরাইল। এরপর থেকে সেখানে প্রায় ১৬০টি বসতি গড়ে উঠেছে। এসব বসতিতে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি বসবাস করছেন। অন্যদিকে পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজাকে নিয়ে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় ফিলিস্তিনিরা। এসব এলাকায় প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন।

আন্তর্জাতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও ইসরাইলি সরকারগুলো পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। ২০২২ সালের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ডানপন্থী জোট ক্ষমতায় ফেরার পর এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের সময় এই সম্প্রসারণ আরও বেড়েছে।

ই-১ প্রকল্পের বিরোধীদের আশঙ্কা, এটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। একই সঙ্গে রামাল্লা, পূর্ব জেরুজালেম ও বেথলেহেমকে নিয়ে একটি সংলগ্ন ফিলিস্তিনি নগরাঞ্চল গড়ে তোলার সম্ভাবনাও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category