তীব্র তাপপ্রবাহের সময় নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা বেশ কষ্টকর হলেও ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা স্থূলতায় আক্রান্তদের জন্য শারীরিক কসরত চালিয়ে যাওয়া জরুরি। তবে এই তীব্র গরমে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা বা অতিরিক্ত ক্লান্তির ঝুঁকি এড়াতে কিছু নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক।
সঠিক সময় ও স্থান নির্বাচন: রোদ ও ভ্যাপসা গরম এড়াতে ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টা অথবা সন্ধ্যার পর ব্যায়াম করুন। বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কড়া রোদে ব্যায়াম করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। খোলা জায়গার বদলে ছায়াযুক্ত পার্ক, ঘরের ভেতর বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জিমে ব্যায়াম করা নিরাপদ। বাইরে হাঁটলে টুপি, ছাতা ও রোদচশমা ব্যবহার করুন।
আরামদায়ক পোশাক: ঘাম শুষে নেয় এমন পাতলা, ঢিলেঢালা ও হালকা রঙের সুতির পোশাক পরুন। এতে শরীরে বাতাস চলাচল করতে পারবে এবং গরম তুলনামূলক কম লাগবে।
পর্যাপ্ত পানাহার: ব্যায়ামের আগে, মাঝে ও পরে প্রচুর পানি পান করুন। তৃষ্ণা না পেলেও নিয়ম করে পানি খেতে হবে। অতিরিক্ত ঘামলে ইলেকট্রোলাইট পূরণে ওরস্যালাইন, লেবু-লবণপানি বা ডাবের পানি খেতে পারেন। ভারী খাবারের বদলে তরমুজ বা শসার মতো পানিসমৃদ্ধ হালকা খাবার খাওয়া ভালো।
শারীরিক সতর্কতা ও হিট স্ট্রোকের লক্ষণ: নিজের শরীরের সংকেত বুঝতে চেষ্টা করুন। মাথা ঘোরা, বমি ভাব, তীব্র দুর্বলতা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া বা হঠাৎ ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া—এসব হিট স্ট্রোকের লক্ষণ। এমন হলে দ্রুত ব্যায়াম থামিয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিন এবং পানি পান করুন। উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা শ্বাসকষ্টের রোগীরা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যায়াম করবেন।
ব্যায়াম শেষে শরীর কিছুটা ঠান্ডা হলে হাত-মুখ ধুয়ে বিশ্রাম নিন এবং এরপর গোসল করুন। সুস্থভাবে রুটিন মেনে চলতে প্রয়োজনে একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।