কড়া রোদ আর প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে ডিহাইড্রেশন বা হিট স্ট্রোক হতে পারে—এটি আমাদের সবারই জানা। কিন্তু আপনি কি জানেন, দিনভর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) আরামদায়ক ঘরে বসে কাজ করলেও আপনার ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়তে পারে?
বাইরে থাকা ব্যক্তিরা গরম ও ঘামের কারণে স্বাভাবিকভাবেই তৃষ্ণা অনুভব করেন এবং বেশি করে পানি পান করেন। কিন্তু অফিসে এসির ঠান্ডা পরিবেশে বসে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শরীরের এই সতর্ক সংকেতগুলো সেভাবে কাজ করে না। ফলে নিজের অজান্তেই শরীর ধীরে ধীরে পানিশূন্য হয়ে পড়ে।
যেসব কারণে এসি ঘরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়:
তৃষ্ণার অনুভূতি কমে যাওয়া: এসির ঠান্ডা পরিবেশে ঘাম হয় না এবং গরম লাগে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই পানি পানের তৃষ্ণা বা তাগিদ অনেক কমে যায়।
পানির বিকল্প হিসেবে চা-কফি: অফিসে কাজের ফাঁকে ক্লান্তি দূর করতে চা বা কফি পান করা অনেকেরই নিত্যদিনের অভ্যাস। অনেকেই পানির বিকল্প হিসেবে এসব পানীয় গ্রহণ করেন। কিন্তু এসব পানীয় শরীরকে পর্যাপ্ত আর্দ্র (হাইড্রেট) রাখে না; উল্টো শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি করে।
একটানা বসে থাকা: দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাজ করলে শরীরের সংকেতগুলো আমরা সেভাবে অনুভব করতে পারি না। মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটাহাঁটি করলে যেমন তৃষ্ণা বোঝা যায়, একটানা বসে থাকলে সেই সুযোগ থাকে না। ফলে চোখের সামনে পানির বোতল থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় পানি খাওয়া হয়ে ওঠে না।
ডিহাইড্রেশনের যেসব লক্ষণ আমরা এড়িয়ে যাই:
অফিসে কাজের সময় হালকা মাথাব্যথা, মাথা ভার লাগা, বিকেলের দিকে অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া বা হঠাৎ মনোযোগ কমে যাওয়াকে আমরা অনেকেই কেবল ‘কাজের চাপ’ বা ‘পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব’ বলে ভুল করি। অথচ এগুলো হতে পারে শরীরে পানির ঘাটতি বা হালকা ডিহাইড্রেশনের সুস্পষ্ট লক্ষণ।
দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি:
শরীরে পানির এই নীরব ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা সরাসরি কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রস্রাব ঘন হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে ভবিষ্যতে কিডনিতে পাথর হওয়া বা মূত্রনালির সংক্রমণের (ইউরিন ইনফেকশন) ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। সমস্যাগুলো হঠাৎ করে বড় আকার ধারণ করে বলে অনেকেই এর প্রাথমিক কারণ বুঝতে পারেন না।
সুস্থ থাকতে সহজ কিছু সমাধান:
অফিসের কর্মপরিবেশ হয়তো বদলানো সম্ভব নয়, তবে নিজের ছোট কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব:
কাজের ডেস্কে সব সময় চোখের সামনে একটি পানির বোতল রাখুন।
কাজের চাপে পানি পানের কথা ভুলে গেলে মোবাইলে বা কম্পিউটারে রিমাইন্ডার সেট করে রাখতে পারেন।
চা-কফির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বারবার বিশুদ্ধ পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
একটানা বসে না থেকে কাজের ফাঁকে মাঝেমধ্যে ডেস্ক থেকে উঠে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন।
সামান্য একটু সচেতনতা এবং নিয়মিত পানি পানের অভ্যাসই আপনাকে ডিহাইড্রেশনের মতো নীরব ঘাতকের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।