সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে জুতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই ঘোষণা দেন।
একই সংসদ সদস্যের অপর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়তে সরকারের নানামুখী উদ্যোগ এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরেন।
সরকারের মূল দর্শন ও ইশতেহার বাস্তবায়ন
প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—পররাষ্ট্রনীতির এই মূল দর্শনকে ধারণ করে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সুশাসন, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সরকার কাজ করছে।
ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ইতোমধ্যে আগামী ১৮০ দিন, ২০২৬-২৭ অর্থবছর এবং আগামী ৫ বছরের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।
উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সরকারের মেগা উদ্যোগ
একটি উন্নত ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে বর্তমান সরকার বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
শিক্ষা খাত: চলতি অর্থবছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস এবং বিনামূল্যে জুতা বিতরণ।
কর্মসংস্থান ও কৃষি: ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ সম্পূর্ণ মওকুফ।
সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য: প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘ই-হেলথ কার্ড’-এর মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদান।
ধর্মীয় ও ক্রীড়া খাত: মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জায় কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানি ও উৎসব ভাতা এবং ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া কার্ড ও ভাতার ব্যবস্থা।
পরিবেশ ও অবকাঠামো: আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন/পুনঃখনন, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং সারা দেশে শহর ও গ্রামাঞ্চলে খেলার মাঠের অবকাঠামো উন্নয়ন।