• বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন

বিটিভির লাল-সবুজের সেই লোগো হঠাৎ পরিবর্তনের উদ্যোগ

Reporter Name / ২ Time View
Update : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাড়ে পাঁচ দশকের পুরনো লাল-সবুজের সেই লোগোটি হঠাৎ পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। রোববার রাতে বিটিভির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বিজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘ফিরছে নতুন রূপে বিটিভি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের লোগো নির্মাণের গৌরবোজ্জ্বল অংশীদার হতে পারেন আপনিও। আপনার আইডিয়া অথবা লোগো ডিজাইন পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়- logo@btv.gov.bd।’ নতুন লোগোর নকশা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর।

স্বাধীনতা উত্তরকালে শিল্পী ইমদাদ হোসেন, কামরুল হাসান ও মুস্তাফা মনোয়ার, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের মতো শিল্পীদের যৌথ ভাবনায় তৈরি হয়েছিল বিটিভির লোগোটি। এটি বদলে ফেলার পদক্ষেপে সংস্কৃতি অঙ্গনসহ নানা মহলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

তবে বিটিভি প্রশাসন বলছে, লোগো বদলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি; মূলত তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে ‘জেন-জি’দের সঙ্গে বিটিভির সংযোগ ঘটাতে এবং দর্শক ভাবনার একটা চিত্র পেতেই এই উদ্যোগ।

এ বিষয়ে বিটিভির মহাপরিচালক কাজী জেসিন সমকালকে বলেন, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মূলত নতুন ধারণা ও দর্শকদের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। দর্শকদের কাছে বিটিভির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন কনটেন্ট, পুরোনো আর্কাইভ, বিলিং পলিসি ও নীতিমালায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি পর্দার সামগ্রিক উপস্থাপনাও নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

লোগো পরিবর্তন নিয়ে প্রচারিত বিজ্ঞাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা আসলে এমন কোনো কিছু না যে আমরা করে ফেলেছি, সেরকম না। আমরা ধারণা চাই, কে কী ভাবছেন সেটা জানতে। আমরা ইমপ্রুভ করতে চাই।’

বিটিভির লোগোর রঙ এর আগেও পরিবর্তন হয়েছে উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, বর্তমান লোগোর সঙ্গে দর্শকদের আবেগের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তার ভাষ্য, ‘এই লোগোর সাথে আমাদের একটা ফিলিং কানেক্টেড আছে। যেসব কীর্তিমান শিল্পী এটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আছেন, কারও কাজকেই আমরা খাটো করব না।’

ভবিষ্যতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট খ্যাতিমান শিল্পীদের সঙ্গে আলোচনা করেই তা করা হবে বলে জানান তিনি।

বিটিভির জন্মলগ্ন থেকে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত অভিনেতা কেরামত মওলা সমকালকে বলেন, ‘এটা ঠিক কাজ করেনি। বিটিভির লোগোটা খুব সুন্দর। এর একটা মর্ম আছে, কথা আছে, বার্তা আছে।’ লোগোটির নকশার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এর প্রাথমিক ভাবনায় কামরুল হাসান যুক্ত ছিলেন। পরে ইমদাদ হোসেন সেটিকে এগিয়ে নেন এবং মুস্তাফা মনোয়ার নতুনভাবে রূপ দেন। এমনকি লোগোর বাংলা লেখাটি পরবর্তীতে মুস্তাফা মনোয়ার নিজের হাতে ঠিক করেছিলেন।’

বর্তমান লোগোটির নকশার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে কেরামত মওলা বলেন, ‘একটা টেলিভিশনের মধ্যে একটা সূর্য উঠছে, লাল সূর্য উঠছে। এর চেয়ে ভালো মর্ম আর কী হতে পারে? আমাদের টেলিভিশনের স্ক্রিন আছে, স্ক্রিনের মধ্যে সূর্যটা উঠছে, বাইরে কোথাও না।’

তার মতে, বিটিভির পর্দায় সংবাদ, আলোচনা, বিনোদন কিংবা বড় কোনো আয়োজন-সবকিছুর মধ্য দিয়েই নতুন দিনের আনন্দ মানুষের কাছে পৌঁছানোর প্রতীক হয়ে উঠেছে এই উদীয়মান সূর্য। তার প্রশ্ন, ‘এটার চেয়ে ভালো লোগো আর কী হবে? আমার তো মাথায় আসে না।’

বিটিভির সাবেক উপ-মহাপরিচালক খ ম হারুন বলেন, বিটিভি কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান নয়। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জনসম্পত্তি, তাই ব্যক্তিগত ইচ্ছায় একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এর মূল লোগো পরিবর্তন করে ফেলা যুক্তিসংগত নয়। তিনি বলেন, ‘লোগো পরিবর্তন করে তো আর প্রতিষ্ঠানের চেহারা চেঞ্জ করা যায় না। চেহারা চেঞ্জ করতে গেলে কনটেন্ট চেঞ্জ করতে হয়। লোগো তো হচ্ছে একটা সিগনেচার বা স্বাক্ষর।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category