• সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন
Headline
প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের জীবনাবসান শারীরিক অসুস্থতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগ প্যারেন্ট- টিচার মিটিং : যা জিজ্ঞেস করা জরুরি শিশু রামিসা খুন: আদালতে ‘ডলার’ তত্ত্ব দিলেন সোহেল ডিটেনশন ক্যাম্পের আতঙ্কে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত ছাড়ছে হাজারো মানুষ স্থানীয় নির্বাচনে নিষিদ্ধ দলের অংশগ্রহণ ঠেকাতে ইসির খসড়া জঙ্গল সলিমপুরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এগারো বাহিনীর রামরাজত্ব এক দশক পর বিএনপির কাউন্সিলে আসছে নতুন নেতৃত্ব সাগরতলের নিরাপত্তা রক্ষায় চালকবিহীন অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র বানাচ্ছে আকুস কুমিল্লায় এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে বিশেষ অর্থ বরাদ্দের অভিযোগ

বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শান রাজ্যে বিস্ফোরণে ৫৫ জনের প্রাণহানি

Reporter Name / ৬ Time View
Update : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

মিয়ানমারের চীন সীমান্তবর্তী শান রাজ্যে এক ভয়াবহ ও আকস্মিক বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ১২টার দিকে নামখাম টাউনশিপের অন্তর্গত কাউং তাত গ্রামে এই ধ্বংসাত্মক ঘটনাটি ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ এবং ২৫ জন নারী রয়েছেন। যদিও স্থানীয় কিছু প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা নিয়ে সামান্য ভিন্নতা দেখা গেছে, তবে বিপুলসংখ্যক মানুষের হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্ফোরণের ভয়াবহতা এতটাই তীব্র ছিল যে, ঘটনার পরপরই পুরো গ্রাম ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলীতে ঢেকে যায় এবং চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমানে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী অন্যতম শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ট্যআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি’ বা টিএনএলএ-এর হাতে। এই ঘটনার পর গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে তারা স্পষ্ট করেছে যে, এটি কোনো সামরিক হামলা ছিল না; বরং খনি ও পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত মজুতকৃত বিস্ফোরক থেকে দুর্ঘটনাবশত এই আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটেছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের জান্তা সরকার প্রায়শই বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে নির্বিচারে বিমান হামলা চালিয়ে থাকে। এ কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমদিকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, এটি হয়তো সামরিক বাহিনীর আরও একটি প্রাণঘাতী বিমান হামলা।

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমারের শান রাজ্য দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র সংঘাত এবং মূল্যবান খনিজ সম্পদ উত্তোলনের একটি প্রধান কেন্দ্র। টিএনএলএ সহ অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায়শই খনি অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং পাথর ও খনিজ উত্তোলনের জন্য সেখানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত রাখে। যথাযথ নিরাপত্তা ও সংরক্ষণের অভাবে এসব বিস্ফোরক অনেক সময় স্থানীয় সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। বিশেষ করে চীন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে রত্ন ও খনিজ উত্তোলনের ব্যাপকতা থাকায় এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি সবসময়ই বেশি থাকে। চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এমনিতেই চরম মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন পার করছে, যার ওপর এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

ঘটনাস্থল থেকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও এবং ছবিতে বিস্ফোরণের ভয়াবহ ধ্বংসলীলার চিত্র ফুটে উঠেছে। শক্তিশালী এই বিস্ফোরণের আঘাতে মাটি দেবে গিয়ে বিশাল আকৃতির গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং আশেপাশের বহু ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। পুরো এলাকাজুড়ে ইট-পাথরের টুকরো এবং ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাছপালা এবং পুড়ে যাওয়া বাড়িঘর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। উদ্ধারকর্মীরা এবং বেঁচে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ চাপা পড়ে আছে কি না, তা নিশ্চিতে কাজ করছেন এবং আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category