সুপ্রিয় পাঠক মনে রাখবেন, বিভিন্ন কাজের জন্য ঘাড় ব্যথা হতে পারে।
যারা বেশি কম্পিউটারে কাজ করেন তাদেরও ঘাড় ব্যথা হতে পারে। পঞ্চাশ
ভাগ ওয়ার্কারদের কাজের সঙ্গে ঘাড়ের ব্যথার সম্পর্ক রয়েছে। যারা বিভিন্ন
ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন তাদের ঘাড়ের ব্যথার প্রবণতা অনেক
বেশি। যেমন: অফিসে যারা কাজ করেন তাদের ঘাড়ের ব্যথা অন্যাদের
তুলনায় শতকরা ৫০-৬০ ভাগ বেশি হয়।
বিভিন্ন কারণে ঘাড়ের ব্যথা হতে পারে। ঘাড় ব্যথার অন্যতম
কারণগুলোর মধ্যে—সামনে ঝুঁকে অনেকক্ষণ কাজ করা, অসঙ্গত ভঙ্গিতে
টেলিভিশন দেখা ও লেখাপড়া করা এবং ঘুমানো। এছাড়াও রোড
অ্যাক্সিডেন্ট, মাংসের দুর্বলতা, সার্ভাইক্যাল কার্ডেচারের পরিবর্তন,
স্পন্ডিলোসিস, স্প্রেইনস ও স্ট্রেইনস, টেনশন, টটিকলিস, আর্থ্রাইটিস,
অ্যাংকোলাইজিং স্পন্ডিলাইটিস, অস্টিওপোরোসিস, ফাইব্রোমাইলজিয়া,
রিউমাটিকা, স্পাইনাল স্টেনোসিস, ডিস্ক প্রবলেম, প্যাজেট ডিজিজ,
ভার্টিব্রোবাসিলার সারকুলেট।
রি-ডিসঅর্ডারস, থোরাসিক আউটলেট সিনড্রোম, টিউমার, ইনফেকশন
ইত্যাদি কারণে ব্যথা হতে পারে। ঘাড়ের চিকিৎসা করার আগে পরীক্ষা করে
বের করতে হবে কী কারণে ব্যথা হয়েছে।
ঘাড়ের ব্যথা প্রতিরোধ, চিকিৎসার চেয়ে অনেক উপকারী। যেমন:
সার্ভাইক্যাল কলার ব্যবহার করার সময় সতর্কতা মেনে চলতে হবে।
কারণ, কলার ব্যবহার করলে অনেক সময়ই নেকের বা ঘাড়ের মবিলিটি
কমে যায় এবং মাংস দুর্বল হয় যা ঘাড়ের কষ্ট আরো বাড়িয়ে দেয়,
সঠিকভাবে ঘুমানো, কম্পিউটারে কাজ করার সময় যেন কম্পিউটার স্ক্রিন
এবং আই লেভেল সঠিক থাকে। একই অবস্থায় বেশিক্ষণ কাজ না করা,
কখনই যেন মাথা ও চিন কাঁধ থেকে সামনে চলে না আসে। কাজের মাঝে ভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। সঠিক ভঙ্গিতে ফোনে কথা
বলা এবং কান এবং কাঁধের মাঝে টেলিফোন ব্যবহার করা যাবে না, প্রচুর
পানি পান করা, হাতে ওজন ব্যবহার করার সময় সঠিক নিয়ম মেনে চলা,
মাথা, ঘাড় ও কাঁধের সঠিক ভঙ্গি মেনে চলা, ঘাড়ের মাংসের ট্রিগার পয়েন্ট
রিলিফ করা, হুইফ্লাস প্রতিরোধ করা, প্রতিদিন ঘাড়ের মাংসের নিয়মিত
স্ট্রেসিং ও স্ট্রেন্দেনিং করা।
খাদ্য তালিকায় একটু পরিবর্তন আনতে হবে যেমন: প্রচুর পানি খেতে
হবে, দিনে ২ গ্লাস দুধ খাবারের ১ ঘণ্টা আগে অথবা খাবারের ২ ঘণ্টা পরে
খেতে হবে। দুধের বিকল্প হিসেবে তিল ভর্তা খেতে পারেন। সঙ্গে ২ চা
চামচ আদার রস প্রতিদিন খেতে হবে। সুপ্রিয় পাঠক, আপনারা যারা এ
রোগে ভুগছেন তারা এ চিকিৎসার মাধ্যমে আশা করি দ্রুত আরোগ্য লাভ
করবেন।
আমরা বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানতে পেরেছি যে, এখনও এমন ওষুধ
তৈরি হয়নি যে ওষুধ খেলে আপনার মাংসপেশী লম্বা হবে, শক্তিশালী হবে
এবং আপনার জয়েন্ট মবিলিটি বেড়ে যাবে এবং আপনার ইন্টেরিওর হেড
পোশ্চার করেকশন হবে। মনে রাখবেন, ফিজিওথেরাপি এসব অসুবিধার
চিকিৎসার জন্য একমাত্র মেডিসিন। সুতরাং, সম্পূর্ণ চিকিৎসা পেতে হলে
আপনাকে সঠিক মোবালাইজেশন, মেনুপুলেশন, স্ট্রেসিং এবং স্ট্রেন্দেনিংয়ের
মতো চিকিৎসা করতেই হবে।