প্রতিদিন মানুষ কষ্টমুক্ত থাকলে ভালো বোধ করে। আর সারাদিন পরিশ্রমের পর রাতে যখন ঘুমাতে যায় সে ঘুমটা যেন ব্যথামুক্ত হয়। যেসকল রোগীদের ঘাড়ে ব্যথা তাদের মনে প্রশ্ন জাগে কী ধরনের বালিশ ব্যবহার করবে। রোগীদের অ্যাসেসমেন্ট করার সময় আমরা বুঝতে পারি কী ধরনের বালিশ তিনি ব্যবহার করবেন। এছাড়াও পাতলা এবং উঁচু বালিশে শুয়ে দেখি সে কোন বালিশে আরামদায়ক বোধ করে অথবা ব্যথা বেড়ে যায়। পাতলা বালিশ ব্যবহারে ঘাড়ে কম্প্রেশন হয়। যদি পাতলা বালিশে ব্যথা বেড়ে যায় তাহলে ওই বালিশে শোয়া যাবে না। আমাদের প্র্যাকটিসে দেখতে পাই পাতলা বালিশে অধিকাংশ রোগীই কষ্ট বোধ করে। অপরদিকে রোগীকে বেশি মোটা বালিশে শোয়ানো হলে মাথা সামনের দিকে বাঁকা হয় অর্থাৎ পাতলা বালিশে ঘাড়ে যে কম্প্রেশন হয় সে জায়গা ফাঁকা হয়ে যায়, তখন ব্যথা কমে যায়। উঁচু বালিশ এবং অতিরিক্ত মোটা বালিশ আমাদের ঘাড়ের যে লোডোরটিক কার্ভ থাকে সে কার্ড সঠিক অবস্থায় বা সঠিক পজিশনে রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে অনেক উঁচু বালিশ ঘাড়ের ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে মাসল স্ট্রেইন তৈরি করে ঘাড়, কাঁধ ও অন্যান্য জায়গায়। সেজন্য অবশ্যই চিৎ হয়ে শোয়ার সময় দু’ হাঁটু নিচে ও কাত হয়ে শোয়ার সময় দু’
হাঁটুর মাঝে বালিশ ব্যবহার করলে মাসল রিলাক্স থাকবে এবং কষ্ট কমে যাবে। অবশ্যই মনে রাখতে হবে আমরা যখন কাত হয়ে ঘুমাই তখন কাঁধ এবং মাথার মাঝখানে ফাঁকা জায়গায় এমনভাবে বালিশ ব্যবহার করতে হবে যেন মাথা এবং কাঁধের উচ্চতা সঠিক থাকে। অধিকাংশ সময়ই রোগীরা বলে থাকে পাতলা বালিশ ব্যবহারে অস্বস্তি বোধ করি, ব্যথা কমে না এবং ভালোভাবে ঘুমাতে পারি না। রোগীরা বলে থাকেন—পাতলা বালিশের চেয়ে উঁচু বালিশ এবং অতিরিক্ত বালিশ ঘাড়ের কষ্ট কমায় এবং ব্যথামুক্ত ঘুম হতে সাহায্য করে। উঁচু ও নিচু বালিশের মধ্যে অধিকাংশ লোকের নিচু বালিশে ব্যথা বেড়ে যায় এবং এর সংখ্যা অনেক অনেক বেশি। পরিশেষে বলা যায়, যে বালিশ ব্যবহারে আপনি ভালো বোধ করেন সেরকম বালিশই ব্যবহার করবেন। এছাড়াও ঘাড়ে অনেক লিম্ফনোড বা গ্ল্যান্ড আছে যা শীতে ফুলে যায়। এ ফুলে যাওয়া লিম্ফনোডগুলো ঘাড়কে স্টিফ করে ফেলে এবং ব্যথা সৃষ্টি করে। শীতকালে বায়োমেট্রিক প্রেসার অর্থাৎ বাতাসের চাপ কমে যায় এতে আমাদের শরীরের টিস্যুগুলো ফুলতে থাকে, এ ফুলা নিজের জায়গা থেকে অল্প অল্প ছড়াতে থাকে এবং নার্ভে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করে। কারণ, এদের সারফেস এরিয়া বেড়ে যায়।