• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ন
Headline
নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন হচ্ছে: প্রেস সচিব নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন ভূ-রাজনীতি নয়, অর্থনীতিই বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি : তথ্যমন্ত্রী এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ৩ বছর বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : হুইপ দুলু প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে ‘নজরুল ভিলেজ’ উদ্বোধন করা হবে: ভূমিমন্ত্রী বউ নিয়ে বাজি: আর্জেন্টিনার জয়ে বিবাহিতা কবিতার যে পরিণতি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো: নাহিদ বায়ু-শব্দদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর চীনের সঙ্গে জিও পলিটিক্যাল ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে: মির্জা ফখরুল

ব্রোঞ্জের ম্যাচে গোল্ডেন বুটের লড়াই

Reporter Name / ৬ Time View
Update : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

এ ম্যাচ কেউই খেলতে চায় না। কারোরই কাম্য থাকে না বিশ্বকাপের শেষ সপ্তাহে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নামা।

কারণ এখানে পৌঁছানোর অর্থ, ফাইনালের দুয়ার থেকে ফিরে আসা। শিরোপা ছোঁয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই আবার বুটের ফিতা বাঁধা। তবু ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডকে মাঠে নামতে হবে। সেমিফাইনালের হৃদয়ভাঙা পরাজয় সামলে মিয়ামিতে খেলতে হবে ব্রোঞ্জ পদকের জন্য। বিশ্বকাপের অন্যতম অবহেলিত ম্যাচ বলা হয় এটিকে। কিন্তু ইতিহাস বলছে আপাত গুরুত্বহীন এ ম্যাচেই বহুবার নির্ধারিত হয়েছে গোল্ডেন বুটের ভাগ্য। ১৯৯০ সালে সালভাতোরে স্কিলাচি এবং ১৯৯৮ সালে দাভোর শুকের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেই জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। এবারো ফ্রান্স-ইংল্যান্ডের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি একই রকম নাটকীয় মোড় এনে দিতে পারে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে।

শিরোপার দৌড় থেকে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড ছিটকে গেলেও সর্বোচ্চ গোলদাতার প্রতিযোগিতা শেষ হয়ে যায়নি কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন কিংবা জুড বেলিংহামের। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা প্রতিটি গোল বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানে যুক্ত হয়। গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত অন্যান্য ম্যাচের মতো ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচের গোলও গোল্ডেন বুটের হিসাবের অংশ। ফলে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের তারকারা নিজেদের গোলসংখ্যা বাড়ানোর শেষ সুযোগ পাচ্ছেন।

সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন এমবাপ্পে। এবারের বিশ্বকাপে আট গোল নিয়ে লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন ফরাসি অধিনায়ক। হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের গোল ছয়টি করে। পাঁচ গোল করা উসমান দেম্বেলেও গাণিতিকভাবে লড়াইয়ের বাইরে নন, যদিও গোল্ডেন বুট ছিনিয়ে নিতে তাকে প্রায় অবিশ্বাস্য কিছু করে দেখাতে হবে।

ফ্রান্স-ইংল্যান্ড ম্যাচটি হবে আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালের আগে। অর্থাৎ মেসি মাঠে নামার আগেই গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন এমবাপ্পে। একটি গোল করলেই তিনি সাময়িকভাবে ৯ গোল নিয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে যাবেন। একাধিক গোল করলে মেসির সামনে চ্যালেঞ্জ আরো কঠিন হয়ে উঠবে। তবে শেষ কথা বলার সুযোগ থাকবে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের হাতে। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে তিনি আবারো হিসাব বদলে দিতে পারবেন।

মেসি ও এমবাপ্পে সমান আট গোলে থাকলেও টাইব্রেকের হিসাবে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন আর্জেন্টাইন তারকা। বিশ্বকাপে দুই বা ততোধিক খেলোয়াড় সমানসংখ্যক গোল করলে প্রথমে দেখা হয় তাদের অ্যাসিস্টের সংখ্যা। সেখানেও সমতা থাকলে বিবেচনায় আসে মাঠে কাটানো সময়। যিনি কম মিনিট খেলে গোলগুলো করেছেন, তিনিই এগিয়ে থাকবেন। অর্থাৎ প্রথমে গোল, এরপর অ্যাসিস্ট এবং তারপর কম মিনিট খেলার হিসাবেই নির্ধারিত হবে গোল্ডেন বুটজয়ী।

এ হিসাবই ব্রোঞ্জের ম্যাচকে নিছক আনুষ্ঠানিকতা থেকে ব্যক্তিগত ইতিহাসের মঞ্চে পরিণত করেছে। ১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালির সালভাতোরে স্কিলাচি তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করেছিলেন। সেই গোলেই তার মোট গোল দাঁড়ায় ছয়টি এবং তিনি এককভাবে গোল্ডেন বুট জিতে নেন। আট বছর পর একই কীর্তি করেন ক্রোয়েশিয়ার দাভোর শুকের। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে গোল করে তিনিও ছয় গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। দুই ক্ষেত্রেই বিশ্বকাপের সবচেয়ে অবহেলিত ম্যাচটি হয়ে উঠেছিল ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত মঞ্চ।

এমবাপ্পের সামনে এবার শুধু গোল্ডেন বুট নয়, আরো বড় ইতিহাসের হাতছানিও রয়েছে। এবারের আট গোলসহ বিশ্বকাপে তার মোট গোল এখন ২০টি। বয়স মাত্র ২৭ বছর। ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আরেকটি সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

ম্যাচটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে দিদিয়ের দেশমের বিদায়ের আবেগও। ফ্রান্সের কোচ হিসেবে তার ১৪ বছরের অধ্যায়ের পর্দা নামবে এ ম্যাচে। ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জয়, ২০২২ সালে ফাইনাল এবং টানা তিন আসরে সেমিফাইনালে ওঠার কীর্তি গড়া দেশম নিশ্চয়ই দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে বিদায় নিতে চেয়েছিলেন। সেটি আর সম্ভব নয়। এখন তার শিষ্যদের সামনে অন্তত জয় দিয়ে দীর্ঘদিনের কোচকে বিদায় জানানোর সুযোগ রয়েছে।

তবে দুই দলই শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত। বর্ধিত ৪৮ দলের দীর্ঘ বিশ্বকাপ অভিযানের পর ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলও স্বীকার করেছেন, কোনো খেলোয়াড়ই এ ম্যাচ খেলতে চায় না; সবাই ফাইনালে খেলতে চেয়েছিল। তার পরও বদলি ও কম সুযোগ পাওয়া খেলোয়াড়দের জন্য এটি হতে পারে নিজেদের প্রমাণের শেষ মঞ্চ।

পেশাদারত্বের খাতিরে এবং দলের বেঞ্চের খেলোয়াড়দের পরখ করে দেখার জন্য দুই দলই দলে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। তবে কিলিয়ান এমবাপ্পের জন্য ম্যাচটি শুরুর একাদশে থাকার যথেষ্ট কারণ রয়েছে, কারণ তার সামনে রয়েছে গোল্ডেন বুট জয় ও বিশ্বকাপে নিজের ২০তম গোল করার এবং সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নতুন ইতিহাস লেখার হাতছানি। দলগত ট্রফির স্বপ্ন ভেঙে গেলেও মিয়ামির এ ম্যাচটি তাই হয়ে উঠতে পারে এমবাপ্পের রেকর্ড গড়ার এবং দেশমের বিজয়ী বিদায়ের ঐতিহাসিক মঞ্চ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category