• বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০২:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ফেরির ধাক্কায় পদ্মা নদীতে বাস: দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ অন্তত ৪০ জ্বালানি সংকট উত্তরণে সচিবালয়ে উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সভা: সভাপতিত্ব করলেন প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে রণপ্রস্তুতি: শান্তি আলোচনার মাঝেই ১০০০ প্যারাট্রুপার মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে ফুটবল-ক্রিকেটসহ ৭টি খেলা সাবেক এমপি প্রার্থীর গুলিতে প্রাণ গেল আপন ছোট ভাইয়ের মানবপাচারের মামলায় এক-এগারোর দোর্দণ্ড প্রতাপশালী জেনারেল মাসুদ রিমান্ডে যুদ্ধ থামাতে তৎপর মধ্যস্থতাকারীরা, নারাজ আরব মিত্ররা কি হবে যদি গাড়ীর চাকা ঘোরা বন্ধ হয়ে যায়? তেলের খোঁজে দিশেহারা রাজধানী: পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ সারি, পরিস্থিতি সামাল দিতে পাহারায় সেনা-পুলিশ ট্রাম্পকে যুদ্ধের জালে জড়িয়ে হরমুজ প্রণালিতে ইসরায়েলের বিপজ্জনক খেলা

মধ্যপ্রাচ্যে রণপ্রস্তুতি: শান্তি আলোচনার মাঝেই ১০০০ প্যারাট্রুপার মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র

Reporter Name / ২ Time View
Update : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের উত্তেজনার পারদ যখন চরমে, ঠিক তখনই এক অভাবনীয় সামরিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরও এক হাজার চৌকস প্যারাট্রুপার বা ছত্রীসেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সংশ্লিষ্ট অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে। সূত্রগুলোর মতে, মার্কিন সেনাবাহিনীর অত্যন্ত সুপরিচিত এবং এলিট ফোর্স ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় এক হাজার সেনাসদস্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন। এই বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েনের ফলে ওই অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি ও শক্তি যে আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর এবং সাংঘর্ষিক বিষয়টি হলো, ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে যেমন এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ শান্তি আলোচনার দাবি করছে, অন্যদিকে ঠিক সেই মুহূর্তেই এই বিশাল সামরিক রণপ্রস্তুতি বিশ্ববাসীকে এক গভীর ধোঁয়াশার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

কমান্ড কাঠামো ও সেনা মোতায়েনের সময়সীমা

এই বিশেষ সেনা মোতায়েনের গঠনকাঠামো এবং সময়সীমা সম্পর্কেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যগামী এই সামরিক দলে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের বর্তমান কমান্ডার মেজর জেনারেল ব্র্যান্ডন টেগটমায়ার স্বয়ং এবং তার শীর্ষ ডিভিশন স্টাফরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এর পাশাপাশি ১ম ব্রিগেড কমব্যাট টিমের একটি সুদক্ষ ব্যাটালিয়নও এই বহরে যুক্ত থাকছে, যা বর্তমানে মার্কিন সেনাবাহিনীর ‘ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্স’ বা আইআরএফ হিসেবে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এই বিষয়টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একটি সূত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে যে, ডিভিশন স্টাফ এবং উল্লিখিত ব্যাটালিয়নের একটি প্রাথমিক ও অগ্রসর অংশ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য যাত্রা শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, ব্রিগেডের অন্যান্য অংশগুলোও পরবর্তীতে ধাপে ধাপে মোতায়েন করা হবে বলে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়েছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের চলমান পরিস্থিতি এবং কৌশলগত প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে এই সময়সূচি বা পরিকল্পনায় যেকোনো সময় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনীর ভূমিকা ও ইতিহাস

মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর এই বিশেষায়িত সেনাদলটি মূলত একটি ‘প্রস্তুত ইউনিট’ বা রেডি ইউনিট হিসেবে সর্বক্ষণ স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় কাজ করবে। সংঘাতময় পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বা যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো সময় তাদের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে তলব করা হতে পারে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে এমন পদক্ষেপ অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০২০ সালে ইরানের প্রভাবশালী শীর্ষ কমান্ডার কাসেম সোলেইমানিকে ড্রোন হামলায় হত্যার পর যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছিল, ঠিক তখনও এই ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনকেই একই ধরনের জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে সেখানে পাঠানো হয়েছিল। এই ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্স বা আইআরএফ হলো মার্কিন সেনাবাহিনীর এমন একটি বিশেষায়িত ব্রিগেড, যা অত্যন্ত স্বল্প সময়ের নোটিশে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে স্থানান্তরের জন্য সদা প্রস্তুত থাকে। এটি মূলত একটি ‘র‍্যাপিড রেসপন্স ফোর্স’ বা দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী হিসেবে কাজ করে, যা পেন্টাগন থেকে ডাক পাওয়া মাত্রই মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশে মোতায়েন হতে এবং সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে সম্পূর্ণ সক্ষম। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ব্রিগেডের মধ্যে রোটেশন বা পর্যায়ক্রমিক বদলির মাধ্যমে আইআরএফ-এর এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বটি পালন করা হয়ে থাকে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মূলত এই নতুন যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে, যখন ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো শুরু করে। সেই দিন থেকেই বসে না থেকে অত্যন্ত আগ্রাসীভাবে পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে তেহরান। এভাবেই পাল্টাপাল্টি রক্তক্ষয়ী হামলা ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে এই ভয়াবহ যুদ্ধের টানা ২৬তম দিন গড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে অবস্থিত আমেরিকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিতে ইরান এখন অনবরত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই নিরবচ্ছিন্ন হামলার কারণে গোটা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। এর চেয়েও বড় শঙ্কার বিষয় হলো, এই যুদ্ধের কৌশলগত অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’কে কার্যত সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। এর ফলে সারাবিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছে, যার সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category