• রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ন
Headline
বিদ্যুৎ সংকট: প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে হাসনাতের ৪ প্রস্তাব মন্দার কবলে ইইউর বাজার: বাংলাদেশের পোশাক আয়ে ১৬.৪% পতন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় বাংলাদেশের শেখ হাসিনাকে ফেরতসহ ৩ শর্তে ভারত সফর করবেন তারেক রহমান ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা করা লেবাননের অধিকার: ইরান যেভাবে নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে ভারত অভিনেত্রী রিধিকার মৃত্যুর ঘটনায় প্রেমিক গ্রেপ্তার ক্ষমতার বলয়ে নজরদারি: মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা ঢাকার নতুন সমীকরণে দিল্লির কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাস: টানাপোড়েন ছাপিয়ে বাস্তববাদী সম্পর্কের পথে দুই প্রতিবেশী

মন্দার কবলে ইইউর বাজার: বাংলাদেশের পোশাক আয়ে ১৬.৪% পতন

Reporter Name / ০ Time View
Update : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোক্তা চাহিদায় স্থবিরতা এবং পণ্যের গড় মূল্য কমে যাওয়ার কারণে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) অঞ্চলটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ‘ইউরোস্ট্যাট’-এর তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত সময়ে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ৮ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ইউরোতে নেমে এসেছে। রপ্তানির ভলিউম বা পরিমাণ এবং পণ্যের গড় মূল্য—উভয় ক্ষেত্রেই একসাথে নেতিবাচক প্রবণতা তৈরি হওয়ায় এই বড় ধরনের পতন ঘটেছে।
তৈরি পোশাক খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) পর্যালোচনা অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের মোট সরবরাহের পরিমাণ কমেছে ৮ দশমিক ২২ শতাংশ। একই সময়ে প্রতিটি পোশাকের গড় রপ্তানি মূল্যও ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফলে পণ্যের সংখ্যা কমার পাশাপাশি ইউনিট প্রতি ন্যায্য দর না পাওয়ার কারণে সার্বিক আর্থিক প্রাপ্তিতে এই বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। তবে প্রথম ছয় মাসের ধারাবাহিক মন্দা পরিস্থিতির মাঝে জুন মাসে এসে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস দেখা গেছে। ওই একক মাসে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বার্ষিক ভিত্তিতে শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ইউরো স্পর্শ করেছে। জুনে গড় রপ্তানি দর ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ কমলেও সরবরাহের পরিমাণ ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল।
ইউরোপের সামগ্রিক বাণিজ্যিক চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কেবল বাংলাদেশই নয়, বরং পুরো অঞ্চলজুড়েই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যস্ফীতির কারণে পোশাকের সাধারণ চাহিদা বেশ সংকুচিত হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মোট ৪১ দশমিক ১০ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পোশাক আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ কম। সামগ্রিকভাবে ইইউর মোট আমদানির পরিমাণ কমেছে ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং সামগ্রিক গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সার্বিক পোশাক আমদানি যে হারে কমেছে, বাংলাদেশের রপ্তানি পতনের হার ছিল তার চেয়েও বেশি।
বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার প্রভাব পড়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সব সরবরাহকারী দেশের ওপর। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইইউর বাজারে তুরস্কের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৪ দশমিক ৬০ শতাংশ, পাকিস্তানের ১২ দশমিক ৫৩ শতাংশ, ভারতের ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ১১ দশমিক ২১ শতাংশ, চীনের ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আন্তর্জাতিক এই সরবরাহ শৃঙ্খলের বড় বড় দেশগুলো যখন প্রায় একযোগে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি করেছে ভিয়েতনাম।
প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ভিয়েতনামই ইউরোপের বাজারে ইতিবাচক ধারা বা প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, ভিয়েতনামের মোট পোশাক সরবরাহের পরিমাণ ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ হ্রাস পেলেও তাদের প্রস্তুতকৃত পণ্যের গড় ইউনিট মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। উচ্চ মূল্যের ও বৈচিত্র্যময় পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে ভলিউমের ঘাটতি মেটানোর এই কৌশল ভিয়েতনামকে মূল্যের দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে গেছে। ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলোর পণ্যের ইউনিট মূল্য বাড়লেও সরবরাহের পরিমাণ অতিরিক্ত কমে যাওয়ার কারণে তারা সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারেনি।
ইউরোপের বর্তমান বাজার বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, সস্তা বা প্রচলিত পণ্যের রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বৈশ্বিক মন্দার সময় টেকসই সুরক্ষা দিতে পারছে না। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির মূল বাজার ইউরোপে সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে হলে পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, হাই-ভ্যালু বা উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন এবং পণ্য বহুমুখীকরণের দিকে আরও বেশি জোর দেওয়া জরুরি। একই সাথে বৈশ্বিক ক্রেতাদের সাথে দরকষাকষির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনের মাধ্যমে ইউনিট দর বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করা এখন স্থানীয় তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category