• সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

মরক্কোর রূপকথা চলছেই, এবার কি বিশ্বকাপ জয়ের পালা?

Reporter Name / ৪ Time View
Update : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছিল মরক্কো। চার বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই স্বপ্নের পথচলা অব্যাহত রেখেছে আটলাস লায়ন্সরা। শেষ ষোলোতে সহ-আয়োজক কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো জায়গা করে নিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে। এখন প্রশ্ন একটাই, মরক্কো কি এবার সত্যিই বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার?

কানাডার বিপক্ষে জয়টি ফলাফলের দিক থেকে দারুণ স্বস্তিদায়ক হলেও পারফরম্যান্স খুব বেশি চোখধাঁধানো ছিল না মরক্কোর। পুরো ম্যাচে মাত্র পাঁচটি শট নিয়েই তিন গোল করেছে মরক্কো, যা বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসে জয়ী কোনো দলের সবচেয়ে কম শটের রেকর্ড। প্রথমার্ধে শটের চেয়ে হলুদ কার্ডই ছিল বেশি। তবু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— জিততে জানে এই মরক্কো।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে আফ্রিকার শীর্ষ দলটি। সর্বশেষ ২০২৫ সালে আফ্রিকান নেশনস চ্যাম্পিয়নশিপে কেনিয়ার কাছে হেরেছিল তারা। এরপর আর কোনো ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ পায়নি আটলাস লায়ন্সরা।

কানাডার বিপক্ষে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়েছিল মরক্কো। জনাথন ডেভিড ও টানি ওলুওয়াসেয়ির দুটি নিশ্চিত সুযোগ ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো। তবে প্রথম ১৫ মিনিট পার হওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় মরক্কো। কানাডার আক্রমণের ধার কমিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচের রাশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় তারা।

অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি ছিলেন পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি বারবার আক্রমণের সুযোগ তৈরি করেন তিনি। আর ব্রাহিম দিয়াজ করেন দুটি অ্যাসিস্ট। বিশ্বকাপে তার মোট অ্যাসিস্ট সংখ্যা এখন চার, যা আফ্রিকার যে কোনো ফুটবলারের মধ্যে সর্বোচ্চ।

টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে আরেকটি নজির গড়েছে মরক্কো। ২০২২ ও ২০২৬ এই দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে নকআউটে তাদের জয় এখন চারটি, যা অন্য সব আফ্রিকান দেশের মোট নকআউট জয়ের সমান।

তবে, সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ২০১৮ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। এই ফ্রান্সের সঙ্গেই কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে হেরে বিদায় নিয়েছিল আটলাস লায়ন্সরা।

তবুও মরক্কোকে এবার অনেকেই বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার মনে করছেন। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা আধুনিক একাডেমি ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র গত এক দশকে মরক্কোর ফুটবলের চেহারাই বদলে দিয়েছে। ইউরোপে বেড়ে ওঠা আশরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজদের মতো ফুটবলারদের জাতীয় দলে এনে শক্তিশালী স্কোয়াড গড়ে তুলেছে তারা।

কোচ উহাবির বিশ্বাস, মরক্কো এখন আর কোনো অঘটনের দল নয়। তিনি বলেন, এখন কেউ মরক্কোকে চমক বলে না। সবাই আমাদের প্রকৃত শিরোপা প্রত্যাশী দল হিসেবেই দেখে। এটা আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।

২০২২ সালে মরক্কোর সাফল্য ছিল রূপকথার গল্প। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই গল্প আর বিস্ময়ের নয়। এবার পরিকল্পনা, আত্মবিশ্বাস এবং শিরোপার লক্ষ্য নিয়েই চলছে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category