মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পরতে পরতে ছড়ানো ছিল রোমাঞ্চ। সিরিজ নির্ধারণী অঘোষিত ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১১ রানের এক নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। আর এই দুর্দান্ত জয়ের সুবাদেই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা।
২৯১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নামা পাকিস্তানের শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। আগের ওভারেই মোস্তাফিজুর রহমানকে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে ভয়ংকর রূপ নিয়েছিলেন শাহিন আফ্রিদি। শেষ ওভারে বল করার দায়িত্ব পান লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন, যিনি প্রথম ৬ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে বেশ খরচে ছিলেন।
কিন্তু আসল চমকটা তিনি জমিয়ে রেখেছিলেন শেষ ওভারের জন্যই! বাউন্ডারি তো হজম করেননি, উল্টো দিয়েছেন মাত্র ২ রান। শেষ বলে শাহিন আফ্রিদিকে স্টাম্পড আউট করে পাকিস্তানের ইনিংস ২৭৯ রানে গুটিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের বিজয় নিশ্চিত করেন রিশাদ।
এই মহাকাব্যিক জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল দুই তারকার—ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান তামিম এবং বল হাতে তাসকিন আহমেদ।
তানজিদের প্রথম সেঞ্চুরি: তানজিদ হাসানের ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির ওপর ভর করে বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৯০ রানের বড় পুঁজি সংগ্রহ করে।
তাসকিনের তোপ: বল হাতে পাওয়ারপ্লেতেই পাকিস্তানকে কাঁপিয়ে দেন তাসকিন। নিজের প্রথম দুই ওভারেই তুলে নেন জোড়া উইকেট। তার গতির আগুনে পুড়ে ইনিংসের প্রথম ৩ ওভারেই মাত্র ১৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান।
শুরুর ধাক্কা সামলে তুলে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি (৯৮ বলে ১০৬ রান) করে পাকিস্তানকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন সালমান আগা। তবে ৪৮তম ওভারে এই বিপজ্জনক সালমানকে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের জয়ের পথ আবার পরিষ্কার করেন সেই তাসকিন। এর আগে ফাহিম আশরাফকে ফিরিয়ে একটি বড় জুটিও ভেঙেছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে মাত্র ৪ ওভার বল করে ৪৯ রান দিয়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন এই পেসার।
ম্যাচসেরা: দুর্দান্ত সেঞ্চুরির জন্য ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন তানজিদ হাসান।
সিরিজ সেরা: তানজিদ হাসান এবং তরুণ পেসার নাহিদ রানা যৌথভাবে সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতেন।
টানা সিরিজ জয়: এই জয়ের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা সিরিজ জয়ের নতুন রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৫ সালে দুদলের সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল টাইগাররা।