• বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন
Headline
অল্প বয়সেই কোমর ও পিঠের যন্ত্রণা ১০ বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন ইনু অপারেশন ক্লিন হার্ট করার মতো কোনো পরিকল্পনা নেই সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপ-নির্বাচনে সন্ত্রাস ও অপতৎপরতা রোধে সচেতন থাকার আহ্বান ইসি সানাউল্লাহর দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে: রিজভী প্রশ্ন ফাঁসে মন্ত্রণালয়ের কেউ জড়িত থাকলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র দাখিলের সময় বাড়ল সৌদিতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখা হচ্ছে : প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ক্রয় কমিটির ১১ প্রস্তাব অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ বিলিয়ন ডলার রিফান্ড: মার্কিন বায়ারদের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ব্যবসায়ীদের

Reporter Name / ৫৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক আরোপিত বিতর্কিত ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা পারস্পরিক শুল্ক ব্যবস্থাকে সম্প্রতি অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এই ঐতিহাসিক আইনি রায়ের পর মার্কিন আমদানিকারক ও ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোকে ইতোমধ্যেই আদায়কৃত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক অর্থ রিফান্ড বা ফেরত দেওয়া শুরু করেছে ওয়াশিংটন। কিন্তু বৈশ্বিক বাণিজ্যের এই নাটকীয় মোড়ে নতুন এক জটিল অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশে। ২০২৫ সালে শুল্কের খড়্গ যখন মার্কিন বাজারে নেমে এসেছিল, তখন ক্রয়াদেশ টিকিয়ে রাখা এবং তৈরি পোশাক কারখানা সচল রাখার তাগিদে বাংলাদেশি অনেক রপ্তানিকারক মার্কিন ক্রেতাদের চাপে বাধ্য হয়ে পণ্যমূল্যে ব্যাপক ছাড় বা বর্ধিত খরচের একটি অংশ বহন করেছিলেন। এখন মার্কিন বায়াররা তাদের সরকারের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার শুল্ক ফেরত পাওয়ায়, চরম সংকটের দিনে খরচের অংশভাগী হওয়া বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা সেই ফেরত পাওয়া অর্থের ন্যায্য হিস্যা দাবি করছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিতে ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাণিজ্য ঘাটতির অজুহাতে বাংলাদেশের পণ্যে অতিরিক্ত ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ চাপানোর প্রাথমিক ঘোষণা দেওয়া হয়। যা পরবর্তীতে ১০ শতাংশ থেকে শুরু করে ৩৫ শতাংশ এবং চূড়ান্ত ধাপে সংশোধন করে ১৯ শতাংশে কার্যকর রাখা হয়েছিল। এর পাশাপাশি সাধারণ ১৫ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক বহাল থাকায় দেশীয় পোশাক কারখানার ওপর অকল্পনীয় চাপ তৈরি হয়। তখনকার সময়ে মার্কিন বায়াররা বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের ওপর বড় ধরনের ডিসকাউন্ট দিতে বাধ্য করে। অনেক ক্ষেত্রে ১ থেকে ৫ শতাংশ বা বায়ার ভেদে অর্ধেকের মতো মূল্য ছাড় দিয়ে অর্ডার ধরে রেখেছিলেন দেশীয় ব্যবসায়ীরা। এখন ওয়াশিংটন ট্যাক্স ফাউন্ডেশন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্রমতে আদায় করা ১৬৬ বিলিয়ন ডলারের সিংহভাগ বায়ারদের পকেটে ফেরত যাওয়ায়, স্থানীয় সরবরাহকারীরা তাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ কিংবা পরবর্তী বাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশায় সরব হয়েছেন।
তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ এবং নিটওয়্যার খাতের সংগঠন বিকেএমইএ-র শীর্ষ নেতৃত্ব ও ক্ষতিগ্রস্ত কারখানা মালিকদের মতে, মার্কিন ক্রেতাদের উচিত নৈতিকতার খাতিরে এই অর্থ সরাসরি বা সুনির্দিষ্ট বাণিজ্য সুবিধার মাধ্যমে সরবরাহকারীদের ফিরিয়ে দেওয়া। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বিষয়টিতে দ্বিমত পোষণ না করে জানান যে, অনেক উদ্যোক্তা ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ইতোমধ্যে মার্কিন বায়ারদের সাথে আলোচনা শুরু করেছেন। যেসকল বাংলাদেশি রপ্তানিকারক ‘ল্যান্ডেড ডিউটি পেইড’ (এলডিপি) পদ্ধতিতে পণ্য পাঠাতেন, গন্তব্য দেশের কাস্টমস শুল্ক তাদের নিজেদেরই বহন করতে হতো। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা আইনি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী এলডিপি রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে মার্কিন সরকারের কাছ থেকে সরাসরি এই রিফান্ডের কোটি কোটি টাকা আনুষ্ঠানিকভাবে দাবির সুযোগ পাচ্ছেন।
অন্যদিকে, মার্কিন পোশাক ব্র্যান্ডগুলোর ঢাকা অফিসের নীতি-নির্ধারক ও কান্ট্রি ম্যানেজারদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান কঠোর ব্যাংকিং চ্যানেল ও বৈদেশি মুদ্রা নীতির কারণে আমেরিকা থেকে সরাসরি অর্থ ফেরত পাঠানো প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিকভাবে কিছুটা জটিল হতে পারে। ফলে সরাসরি নগদ অর্থ ব্যাক না করে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে বিকল্প বাণিজ্যিক পন্থায় সরবরাহকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার ইতিবাচক মানসিকতা রয়েছে অনেক মার্কিন ক্রেতার। উদাহরণস্বরূপ—পরবর্তী ক্রয়াদেশগুলোতে বা চালানে পণ্যের প্রতি ইউনিটের দাম বাড়িয়ে দিয়ে ‘প্রাইস এডজাস্টমেন্ট’ করা, বাংলাদেশ থেকে পোশাক ক্রয়ের সার্বিক ভলিউম বা সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা অথবা আপদকালীন এয়ার শিপমেন্ট ও কার্গো পেনাল্টির ব্যয়ভার বায়ারদের নিজ কাঁধে নেওয়ার মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদকদের ওই শুল্কজনিত আর্থিক ক্ষতি সমন্বয়ের বাস্তবসম্মত প্রস্তাব উঠে আসছে।
সার্বিকভাবে, আন্তর্জাতিক আদালতের আইনগত রুলিং ও বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক শুল্ক রিফান্ডের মধ্য দিয়ে বিশ্ব পোশাক বাজারে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের দরকষাকষির এক নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম ও ঢাকাভিত্তিক বহুল রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানার প্রধানরা বলছেন, এটি কেবল টাকার হিসাব নয়, বরং সংকটকালে মার্কিন ক্রেতা ও বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের পারস্পরিক টেকসই সম্পর্কেরও বড় এক পরীক্ষা। দেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির বিশাল একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর হওয়ায় বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-র মতো প্রাতিষ্ঠানিক ফোরাম থেকে সঠিক রূপরেখা তৈরি করে এই ঐতিহাসিক ১০০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক ফেরত তহবিলের ন্যায্য হিস্যা আদায় করা সম্ভব হলে, তা সাম্প্রতিক বৈশ্বিক মন্দার মুখে পড়া বাংলাদেশের সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা ও তৈরি পোশাক খাতের জন্য এক বিশাল অর্থনৈতিক স্বস্তি বয়ে আনবে।
তথ্যসূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category