গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে ইরানের সঙ্গে যে ভয়াবহ সংঘাতের সূচনা হয়েছে, তার চড়া অর্থনৈতিক মাশুল গুনতে শুরু করেছে তেল আবিব। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ-এর গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই যুদ্ধের প্রথম ২০ দিনেই ইসরায়েলের কোষাগার থেকে খসে গেছে প্রায় ৬৪০ কোটি মার্কিন ডলার বা ৬.৪ বিলিয়ন ডলার। দৈনিক হিসেবে হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতিদিন তাদের গড়ে ৩২০ মিলিয়ন ডলার বা ১০০ কোটি ইসরায়েলি শেকেল ব্যয় হচ্ছে। যুদ্ধের জন্য ইসরায়েল প্রাথমিকভাবে যে ৩৯ বিলিয়ন শেকেল বা ১ হাজার ২৫০ কোটি ডলারের সামরিক বাজেট বরাদ্দ করেছিল, বর্তমান খরচের এই লাগামহীন হার দেখে সহজেই ধারণা করা যাচ্ছে যে এই তহবিল কত দ্রুত ফুরিয়ে আসতে পারে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সামরিক সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইতোমধ্যে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে গত রবিবার আকাশ সুরক্ষা ব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রসহ জরুরি সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য ৮২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ তহবিলের অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। দেশটির সম্প্রচার মাধ্যম চ্যানেল ১২-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলমান এই বিশাল ব্যয়ের সংস্থান করতে তেল আবিব তাদের ২০২৬ সালের জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই সংঘাতে ইসরায়েলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রেরও বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হাসেট নিশ্চিত করেছেন যে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার খরচ করে ফেলেছে। সামরিক এই ব্যয় মেটাতে পেন্টাগন আরও ২ হাজার কোটি ডলারের বেশি একটি বিশাল জরুরি তহবিলের প্রস্তাব হোয়াইট হাউসের কাছে পাঠিয়েছে, যা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, এই দুই দেশেরই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ তত ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।