• বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ন
Headline
সাবেক ৭ এমপির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা, ৩ জনকে সম্পদ বিবরণীর নোটিশ মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক পোশাক খাতের সমস্যা সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশল বিনিময় তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক: বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ সমুদ্রের তলদেশে আটকা ১,৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ মবের শিকার হাজার শিক্ষক কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না পরিমাণে বেশি, আয়ে কম: হাতছাড়া হচ্ছে উচ্চমূল্যের বিশাল বাজার

রাজপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামছে বিএনপি

Reporter Name / ১ Time View
Update : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশের বর্তমান স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে নস্যাৎ করার যেকোনো পরিকল্পিত অপচেষ্টা কঠোর হস্তে মোকাবিলার জন্য রাজপথের রাজনীতিতে সর্বাত্মকভাবে সক্রিয় হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)| রাজনৈতিক অঙ্গনে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা বিভিন্ন বিরোধী শক্তির আকস্মিক অপতৎপরতা এবং পরিকল্পিত সন্ত্রাস রুখে দিতে এখন থেকে আর কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে দলটি| উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য শক্ত হাতে দমনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে দলটির তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সভা, সমাবেশ ও মিছিলের মতো দৃশ্যমান প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করতে শুরু করেছেন| দলের দায়িত্বশীল নীতিনির্ধারকরা অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, চলমান এই রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো আগামী দিনগুলোতে আরও সুসংগঠিত ও ব্যাপকভাবে জোরদার করা হবে| দলের মূল কাঠামোর পাশাপাশি এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে এবং সমমনা অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে| তবে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো মেগা কর্মসূচির ঘোষণা না দেওয়া হলেও, অঙ্গসংগঠনগুলোকে সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগ ও পরিকল্পনায় সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে সরকারবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে| একই সঙ্গে একটি বিষয় বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অন্য কোনো দলের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে কোনোভাবেই যেন বাধা প্রদান করা না হয়| বর্তমানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান| তার এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সরকারি সফর শেষে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে| প্রধানমন্ত্রীর এই অনুপস্থিতির সময়টাতে দেশবিরোধী চক্র যেন কোনো ফায়দা লুটতে না পারে, সেজন্য সারা দেশের প্রতিটি নেতাকর্মীকে রাজপথের কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ মাত্রায় সরব ও সতর্ক থাকার বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে|
বিএনপির একাধিক শীর্ষ ও নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজপথ দখলে রাখার এই ধারাবাহিক কর্মসূচি আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত একটানা চলমান থাকবে| এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড যেমন শক্তিশালী করা হবে, তেমনি বিরোধী শিবিরের যেকোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার জন্য কর্মীবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হবে| বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির সাম্প্রতিক লং মার্চ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যে রাজনৈতিক উত্তাপ ও অপতৎপরতার সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে অত্যন্ত সন্দেহের চোখে দেখছে ক্ষমতাসীন দলটি| এর পাশাপাশি বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ও গুপ্ত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে| এসব বহুমুখী ষড়যন্ত্র এবং অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা প্রতিহত করতেই বিএনপির হাইকমান্ড মাঠের রাজনীতিতে নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে| এই সিদ্ধান্তটি একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নিখুঁতভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত রবি ও সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়| দলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধদ্বার যৌথ সভাগুলোতে দলের শীর্ষস্থানীয় যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন| এছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবদের পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারাও এই সভায় অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নেন| দীর্ঘ এই আলোচনা সভায় দলের সামগ্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বেশি গতিশীল ও যুগোপযোগী করার পাশাপাশি পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো ঘৃণ্য অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়|
বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় চলমান এই রাজনৈতিক তৎপরতা সম্পর্কে গণমাধ্যমের কাছে তার সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করেছেন| তিনি জানান যে, রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যেকোনো গণতান্ত্রিক দলের একটি নিয়মিত ও চলমান প্রক্রিয়া| এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্যই দেশব্যাপী তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত মিছিল, মিটিং, এবং সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন ধরনের জনসংযোগমূলক কর্মসূচি পালনের অপরিহার্যতা রয়েছে| তার মতে, এসব তৃণমূলমুখী কর্মসূচির মাধ্যমেই মূলত দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও বেশি সুদৃঢ় ও মজবুত হবে এবং সময়ের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে এসব কর্মসূচির আকার ও পরিধিও ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করা হবে| অন্যদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী অত্যন্ত জোরালো ভাষায় সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেছেন যে, বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটে নির্বাচিত হয়েই বিএনপি আজকের এই সরকার গঠন করেছে| তাই সেই সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়েই তারা দেশের বিরুদ্ধে হওয়া সব ধরনের দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্র রুখে দিতে বদ্ধপরিকর| তিনি স্পষ্টভাবে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, এক দফা বা অন্য কোনো বিভ্রান্তিকর কর্মসূচির আড়ালে যদি কেউ দেশে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করে, তবে বিএনপি কখনোই হাত গুটিয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না| তবে তিনি এটিও নিশ্চিত করেন যে, অতীত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের মতো রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে পেশিশক্তির মাধ্যমে প্রতিহত করার কোনো অগণতান্ত্রিক কর্মসূচি তাদের দল থেকে কখনোই দেওয়া হবে না| বরং পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো রাজনৈতিকভাবে রাজপথে সক্রিয় থেকে এর জবাব দেবে|
দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে যৌথ সভা করার মাধ্যমেই সারা দেশের সব স্তরের নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে| কেন্দ্র থেকে শুরু করে একেবারে প্রান্তিক তৃণমূল পর্যন্ত বিএনপির যেকোনো ইউনিটের নেতাকর্মীরা যদি মনে করেন, তবে তারা তাদের নিজ নিজ এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী মানববন্ধন, প্রতিবাদ মিছিল বা রাজনৈতিক কর্মশালা নির্দ্বিধায় আয়োজন করতে পারবেন| যার যার নিজস্ব রাজনৈতিক কৌশল ও সক্ষমতা অনুযায়ী সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় গণসংযোগ বৃদ্ধি করার স্বাধীনতা তাদের দেওয়া হয়েছে| তিনি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাচ্যুত পতিত স্বৈরাচার এবং একাত্তরের পরাজিত শক্তি রাজাকারদের মধ্যে নতুন করে কোনো মেলবন্ধন তৈরি হচ্ছে কি না, অথবা তাদের সেই পুরোনো অশুভ জোটের পুনরাবৃত্তি ঘটছে কি না, সেদিকে দলের প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে| তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, রাজপথে থাকার বিএনপির এই কর্মসূচি কোনো নির্দিষ্ট সময় বা ক্ষণের জন্য নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও অব্যাহত প্রক্রিয়া হিসেবেই চলমান থাকবে| এমরান সালেহ প্রিন্স আরও বলেন, বিরোধী দলগুলোর বর্তমান রহস্যময় তৎপরতাকে তাদের কাছে স্পষ্টতই দেশবিরোধী, গণতন্ত্র হরণকারী এবং গণ-অভ্যুত্থান বিরোধী এক গভীর ষড়যন্ত্র বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে| বিশেষ করে যখন গভীর রাতে কমলাপুর স্টেশনে ট্রেনের বগিতে আগুন দেওয়ার মতো ভয়াবহ নাশকতার ঘটনা ঘটে, তখন এসব ঘটনাকে নিছক কোনো দুর্ঘটনা ভেবে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ আর অবশিষ্ট থাকে না|
দেশবিরোধী এই অশুভ আঁতাতের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করতে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে| আগামী শুক্রবার ফ্যাসিবাদী ষড়যন্ত্রের তীব্র প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বিএনপির প্রধান তিনটি ভ্যানগার্ড সংগঠন—ছাত্রদল, যুবদল এবং স্বেচ্ছাসেব দল এক বিশাল ও সম্মিলিত ‘প্রতিবাদ মিছিল’ আয়োজন করতে যাচ্ছে| এর পাশাপাশি নিজ নিজ সংগঠনের সাংগঠনিক ব্যানারেও ধারাবাহিকভাবে রাজপথের কর্মসূচি পালন করা হবে| যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না জানিয়েছেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সৃষ্ট নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে তাদের চলমান প্রতিবাদ কর্মসূচি কোনোভাবেই থামবে না| তিনি অভিযোগ করেন, দেশে একটি কৃত্রিম বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির জন্য জামায়াত-শিবির পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন অপকর্ম পরিচালনা করছে| রাজশাহী রেলস্টেশনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত গণ্ডগোলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা হয়তো ক্যাম্পাসের ভেতরে এর জন্য প্রতিবাদ জানাতে পারত বা একটি স্বাভাবিক মিছিল করতে পারত| কিন্তু শিবিরের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে রাজশাহী রেলস্টেশনে যেভাবে নারকীয় ভাঙচুর ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হলো, সেটি দেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়| স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানীও এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছেন যে, দেশকে অস্থিতিশীল করার ফ্যাসিবাদী চক্রান্তের প্রতিবাদে আজ সারা দেশে তাদের সংগঠনের উদ্যোগে তীব্র বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে| আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর তিনটি অঙ্গ সংগঠনের সম্মিলিত ব্যানারেও তারা রাজপথে নামবেন| অন্যদিকে, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী ও উগ্র সংগঠন ছাত্রলীগের যেকোনো গোপন অপতৎপরতা রুখে দিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অকুতোভয় নেতাকর্মীরা রাজপথে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন| আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর রাজপথ পুরোপুরি ছাত্রদলের একচ্ছত্র দখলে থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন|
সরকারবিরোধী এই বহুমুখী ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় মূল দল বিএনপির পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং এর তৃণমূলের শাখাগুলোও রাজপথের কর্মসূচিতে সমানতালে সোচ্চার রয়েছে| ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি ইতিমধ্যে তাদের অন্তর্গত প্রতিটি ওয়ার্ডে সুসংগঠিত প্রতিবাদ মিছিল সম্পন্ন করেছে এবং খুব শিগগিরই ৯টি পৃথক সাংগঠনিক টিমের মাধ্যমে তারা বিশাল সমাবেশের আয়োজন করতে যাচ্ছে| ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিও রাজপথে তাদের দৃশ্যমান কর্মসূচি ব্যাপকভাবে জোরদার করেছে| তারা উত্তরায় একটি বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে, যেখানে খোদ দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী উপস্থিত থেকে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেন| ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের পক্ষ থেকেও বিশাল মিছিল ও শোডাউন করা হয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে বলে নেতারা নিশ্চিত করেছেন| শুধু রাজধানী ঢাকাতেই নয়, বরং কেন্দ্রীয় এই নির্দেশনার ঢেউ আছড়ে পড়েছে সারা দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও| দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিএনপির মূল ব্যানার এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে যৌথভাবে প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে| গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারীর বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্র থেকে পাওয়া সাত দিনব্যাপী ধারাবাহিক মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা ইতিমধ্যে মাওনা এলাকায় বিশাল মিছিল সম্পন্ন করেছেন| তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত এই বিশাল ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক জাগরণই প্রমাণ করে যে, বিএনপি যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় রাজপথের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ|

 

তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category