যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত প্রায় এক মাস ধরে চলমান থাকলেও হোয়াইট হাউস যুদ্ধ পরবর্তী শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তারা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক কার্যক্রম কমিয়ে আনার কথা বিবেচনা করছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ এই সংঘাত চলতে পারে এবং এর মধ্যেই কূটনৈতিক আলোচনার ভিত্তি তৈরির কাজ চলছে।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কোনো যোগাযোগ নেই। তবে মিশর, কাতার ও যুক্তরাজ্যের মধ্যস্থতায় বার্তা আদান-প্রদান চলছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উভয় দেশই শান্তি আলোচনার জন্য নিজেদের অবস্থান থেকে সুনির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে ছয়টি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে আগামী পাঁচ বছর ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখা এবং নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদো পরমাণু কেন্দ্রগুলো নিষ্ক্রিয় করা। এছাড়া সেন্ট্রিফিউজ উৎপাদনে আন্তর্জাতিক নজরদারি নিশ্চিত করা, আঞ্চলিক চুক্তির মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রের সীমা এক হাজারের মধ্যে রাখা এবং বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানও সমঝোতার জন্য ছয়টি দাবি উত্থাপন করেছে। তারা ভবিষ্যতে যুদ্ধ না করার নিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ার শর্ত দিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ আদায়, ওই অঞ্চলে সব ধরনের সংঘাত বন্ধ, হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন আইন তৈরি এবং কিছু নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যম কর্মীর বিচারের দাবি জানিয়েছে তারা।