পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঢলে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে আবারও তীব্র যানজটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনে আজ সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের গতি স্বাভাবিক থাকলেও, দুপুরের পর গাজীপুরের অবশিষ্ট ৮৩৩টি কারখানা একসঙ্গে ছুটি হলে মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের ব্যাপক চাপ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ ও কারখানা সূত্রে জানা গেছে, যানজট এড়াতে গত তিন দিন ধরে ধাপে ধাপে শিল্পাঞ্চলের ৭৫ শতাংশ কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল বুধবার এক দিনেই রেকর্ড পরিমাণ অর্থাৎ ১ হাজার ৪১৪টি (৪০ শতাংশ) কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-ভুক্ত মোট ২ হাজার ৮৩৪টি কারখানার মধ্যে ২ হাজার ৭৫৩টি কারখানায় ঈদের ছুটি দেওয়া হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ, অর্থাৎ ৮৩৩টি কারখানা দুপুরের পর ছুটি হওয়ার কথা রয়েছে, যার ফলে বিকেলের পর থেকে মহাসড়কগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
গত সোমবার থেকেই গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের লাখো শ্রমিক পর্যায়ক্রমে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন। তবে গতকাল বুধবার বিকেলে সবচেয়ে বেশি কারখানা ছুটি হওয়ার পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে মহাসড়কে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। তবে আজ সকালে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে এবং বর্তমানে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কম থাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে, বাড়ি ফেরা মানুষের অভিযোগ, যারা আগে থেকে বাসের টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি, তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বাসে জায়গা না পেয়ে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক বা পিকআপ ভ্যানে চড়ে গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম জানান, রাত থেকেই যানজট নিরসনে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও বিকেলের বাড়তি চাপ সামলাতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।