• বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন
Headline

শিল্পে গ্যাসের জোগান দিতে গিয়ে কি বিপদে পড়বে সুন্দরবন?

Reporter Name / ৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং গ্যাস সংকট নিরসনের উদ্দেশ্যে সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে আকরাম পয়েন্টে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণের এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় সুন্দরবনের প্রাণকেন্দ্রের অত্যন্ত সন্নিকটে একটি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট বা এফএসআরইউ স্থাপন করা হবে। সেখান থেকে দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিশোধিত গ্যাস সরাসরি মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানকার কলকারখানা ও প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা হবে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে তোড়জোড় শুরু হয়েছে এবং স্থানটি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আগামী ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরেজমিনে আকরাম পয়েন্ট এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে স্থানটি উপযুক্ত বিবেচিত হলে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাইসহ অন্যান্য কারিগরি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। সম্প্রতি রাজধানীতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও জানিয়েছেন যে মোংলা ও খুলনার অদূরে গভীর সমুদ্রে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল ও এলএনজি খালাসের উপযোগী একটি অত্যাধুনিক টার্মিনাল গড়ে তোলার প্রস্তুতি চলছে।

তবে সুন্দরবনের মতো একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ম্যানগ্রোভ বনভূমির সীমানায় এমন একটি সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা সামনে আসতেই পরিবেশবিদ, বিজ্ঞানী এবং স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ভৌগোলিকভাবে আকরাম পয়েন্ট এলাকাটি সুন্দরবনের একদম ভেতরের অংশে অবস্থিত, যা পশুর, শিবসা নদী এবং বঙ্গোপসাগরের মোহনায় মিশেছে। এই পয়েন্ট থেকে নদীপথে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উজানে মোংলা বন্দর এবং ৩০ কিলোমিটার ভাটিতে বঙ্গোপসাগরের উন্মুক্ত হিরণ পয়েন্ট অবস্থিত। ভৌগোলিক মানচিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রস্তাবিত এই এলএনজি টার্মিনালের তিন পাশেই ঘিরে রয়েছে সুন্দরবনের ঘন বনানী, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং ডলফিন সেঞ্চুয়ারি। বিশেষ করে আকরাম পয়েন্টের ঠিক উত্তর ও পশ্চিমে অবস্থিত শিবসা নদী হলো বিরল প্রজাতির গাঙ্গেয় ডলফিন ও ইরাবতী ডলফিনের অবাধ বিচরণক্ষেত্র ও প্রধান প্রজননস্থল। এছাড়া ২০২৩ সালে সরকারের প্রণীত পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালার আওতায় যেকোনো গ্যাস টার্মিনাল এবং ২০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের গ্যাস পাইপলাইনকে লাল শ্রেণিভুক্ত বা সর্বোচ্চ পরিবেশঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ১৯৯৯ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের সুস্পষ্ট বিধান অনুযায়ী, সুন্দরবনের চারপাশের ১০ কিলোমিটার এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা বা ইসিএ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে যেকোনো প্রকার ক্ষতিকারক ভারী শিল্প বা প্রকল্প স্থাপন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এই বিধিনিষেধের কারণে অতীতে ২০০৫ সালেও আকরাম পয়েন্টে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষতির কথা বিবেচনা করে তৎকালীন সরকার তা বাতিল করেছিল।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী এই প্রকল্প নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সতর্ক করেছেন যে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিংবা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনা ইতিবাচক হলেও সুন্দরবনের অস্তিত্বের বিনিময়ে তা হতে পারে না। তাঁর মতে, প্রকল্প গ্রহণের আগে কোনো প্রকার গড়িমসি না করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা বা ইআইএ সম্পন্ন করতে হবে। সেই সমীক্ষায় যেসব ঝুঁকি চিহ্নিত হবে, সেগুলো দূর করতে কার্যকর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বা ইএমপি গ্রহণ ও তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় এই টার্মিনাল সুন্দরবনের সামগ্রিক প্রতিবেশ ব্যবস্থা, বন্যপ্রাণী এবং জলজ প্রাণীজগতের অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে এলএনজি মূলত অতিমাত্রায় শীতল ও সংকুচিত মিথেন গ্যাস, যা মাইনাস ১৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বিশেষ জাহাজে করে সমুদ্রপথে পরিবহন করা হয়। ভাসমান টার্মিনালে এই তরল গ্যাসকে পুনরায় প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তর করার জন্য সমুদ্র ও নদীর বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত পানি ব্যবহারের পর যখন পুনরায় নদীতে ফেলা হবে, তখন নদীর পানির স্বাভাবিক তাপমাত্রা আশপাশের স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অনেক নিচে নেমে যাবে। পানির এই আকস্মিক তীব্র শীতলতা পশুর ও শিবসা নদীর স্থানীয় মাছের ডিম, রেণু এবং জলজ অণুজীবকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে পারে।

সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির এই প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছেন, এলএনজি টার্মিনাল মানেই মিথেন গ্যাসের বিশাল আধার, যা অত্যন্ত প্রজ্বলনশীল ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য কোনো কারিগরি ত্রুটি, সাইবার জটিলতা, পাইপলাইন লিকেজ কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ড ঘটলে তা সুন্দরবনের বিশাল বনাঞ্চলকে নিমেষেই ভস্মীভূত করে দিতে পারে। চলতি বছরেই মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের নজির রয়েছে। এর পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল পরিচালনা ও নিয়মিত ড্রেজিংয়ের কাজে নিয়োজিত ভারী জাহাজ ও টাগবোট থেকে নিঃসৃত পোড়া মবিল, জ্বালানি তেল এবং বিষাক্ত বর্জ্য সুন্দরবনের শ্বাসমূলে মারাত্মক ক্ষতি করবে। অতীতে সুন্দরবনের নদীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারডুবির ফলে যে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটেছিল, তা এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এছাড়া টার্মিনালের পাম্পিং স্টেশনের বিকট শব্দ এবং বড় বড় জাহাজের প্রপেলারের তীব্র ঘূর্ণন শব্দ নদীর পানির নিচে মারাত্মক কম্পন ও শব্দদূষণ তৈরি করবে, যা ডলফিনসহ বিলুপ্তপ্রায় জলজ প্রাণীদের প্রজনন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে চিরতরে বিপর্যস্ত করবে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুন্দরবনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ার নজির রয়েছে। সুন্দরবন হলো ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এবং বিশ্বস্বীকৃত রামসার সাইট। পরিবেশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সুন্দরবনের সীমানার ভেতরে এমন একটি সংবেদনশীল টার্মিনাল নির্মাণ করা হলে আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি চরম সংকটে পড়তে পারে। ইতিপূর্বে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছিল ইউনেস্কো এবং সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি বাতিল করে এটিকে বিপন্ন ঐতিহ্যের তালিকায় ফেলার উপক্রম হয়েছিল। তখন সরকারের নানামুখী কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতিতে সেই চরম পদক্ষেপ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকে। এখন আবারও যদি আকরাম পয়েন্টের মতো গভীর বনে এলএনজি টার্মিনাল বসানো হয়, তবে ইউনেস্কো সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা স্থায়ীভাবে কেড়ে নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের পাশে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের তিক্ত অভিজ্ঞতাও এই শঙ্কাকে আরও জোরালো করে তুলছে উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম জলাভূমি ও সোয়াম্প ফরেস্টে ২০০৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে একাধিক ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল গড়ে তোলা হয়েছিল। সম্প্রতি প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক পরিবেশগত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সেখানে এলএনজি অবকাঠামো ও জাহাজ চলাচলের কারণে ইতিমধ্যে প্রায় ৪৯৯ একর ম্যানগ্রোভ বন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ১২৭ একর জলভূমি চিরতরে বিলুপ্ত হয়েছে। পাইপলাইন স্থাপন ও নিয়মিত ড্রেজিংয়ের ফলে বনের মাটিতে থাকা বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান পানিতে মিশে গিয়ে বহু বিরল জলজ প্রজাতির প্রজনন চিরতরে নষ্ট করে দিয়েছে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সুন্দরবনের বুকে এমন একটি বিশাল ও সংবেদনশীল প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট বন বিভাগকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সফরের সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ধারণ হলেও বন কর্মকর্তাদের অন্ধকারে রাখা হয়েছে। প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী এবং পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম উভয়েই জানিয়েছেন যে টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি বা বার্তা তাঁদের দেওয়া হয়নি, ফলে তাঁরা কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে পারছেন না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে যদি কোনো মতামত চাওয়া হয়, তবে সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও পরিবেশের সুরক্ষা নিয়ে বন বিভাগের গভীর উদ্বেগের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।

উল্লেখ্য যে, সুন্দরবনের ভেতরে বিআইডব্লিউটিএর আন্তর্জাতিক নৌ রুট বন্ধের জন্য দীর্ঘ বছর ধরে বন বিভাগ জোরালো দাবি জানিয়ে আসছে। ২০১৪ সালে সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারডুবির মারাত্মক বিপর্যয়ের পর এই রুট বন্ধ করতে বন বিভাগ সরকারকে একাধিক চিঠি দিয়েছিল। এমনকি ২০২১ সালেও বন বিভাগ চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল যে সুন্দরবনের নদীগুলো দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের কারণে তেল চুইয়ে পড়ছে এবং জাহাজের প্রপেলারের আঘাতে নদীর পাড় ভেঙে ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেম ধ্বংস হচ্ছে। অথচ সেই পুরনো সমস্যার সমাধান না করে উল্টো সেই পথেই নতুন করে এলএনজি টার্মিনাল বসানোর তৎপরতা পরিবেশ রক্ষায় সরকারের সদিচ্ছাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

অন্যদিকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্পের বিষয়ে বেশ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোচ্ছে। মোংলা বন্দরের সদস্য প্রকৌশলী শেখ শওকত আলী জানিয়েছেন, আকরাম পয়েন্টে এলএনজি টার্মিনাল নির্মিত হলে মোংলা পোর্টের গভীর চ্যানেলটি সার্বক্ষণিক সচল থাকবে। কারণ বড় বড় এলএনজিবাহী জাহাজ নিরাপদে চলাচলের স্বার্থে নিয়মিত খনন বা ড্রেজিং করা হবে, যার ফলে স্বাভাবিক গভীরতা বজায় থাকবে এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজও সহজে মোংলা বন্দরে ভিড়তে পারবে। এতে মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং এটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। কিন্তু পরিবেশবিদদের সাফ কথা, সাময়িক অর্থনৈতিক লাভ কিংবা রাজস্ব আয়ের লোভে পৃথিবীর বৃহত্তম একক প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত হতে পারে না। উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা হতে হবে পরিবেশবান্ধব, অন্যথায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সুন্দরবন ধ্বংস হলে গোটা দক্ষিণ জনপদই চরম বিপর্যয়ে পড়বে।

তথ্যসূত্র: সমকাল


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category