• বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন
Headline
সিংগাইরে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সন্তানের বয়স ১৮ থেকে ২৪: বাবা-মায়ের জন্য ১০টি পরামর্শ শিশু ইরা মনি হত্যা মামলার রায় পেছাল সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সংকেত বহাল সারাদেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: তথ্য উপদেষ্টা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে কোমে খামেনির জানাজা সম্পন্ন স্পেনের কাছে হারের পর পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজের পদত্যাগ চিকিৎসাকে বিশেষ সুবিধা নয় অধিকার ভাবার আহ্বান জুবাইদা রহমানের

সন্তানের বয়স ১৮ থেকে ২৪: বাবা-মায়ের জন্য ১০টি পরামর্শ

বাদল সৈয়দ / ২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

১ ) ১৯৮৬ সাল।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম এবং অনেকদিন পর পুস্প আপার যন্ত্রণা আমার উপর আবার নাজেল হলো।
ও আমাকে ছোটবেলায় স্কুলে নিয়ে যেতো। মাঝখানে রক্ষা পেয়েছিলাম। এখন আবার আমার ঘাড়ে সওয়ার হওয়ার কারণ ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। আমার দুবছরের সিনিয়র। তাই হুকুম করেছে ওর সাথে ইউনিভার্সিটি যেতে হবে। নয়ত বিপদআপদ হলে সামলাবে কে?
শুনে তো আমার মাথায় বাজ পড়ল!
ইউনিভার্সিটির স্বাধীনতা উপভোগ করব বলে কত পরিকল্পনা! আমরা চট্টগ্রাম কলেজের বন্ধুরা শাটল ট্রেনের এক বগিতে যাব ঠিক করেছি। যাত্রাপথে কী কোরাস গাইব তাও ঠিক করা হয়েছে। এর মধ্যে এই আজাব!
আমার বন্ধুরা যদি দেখে আমি বোনের কোলে বসে ভার্সিটি যাচ্ছি, মান-ইজ্জত থাকবে? তার উপর আমাদের গ্রুপে কয়েকটা বিচ্ছু মেয়ে আছে- ওদের একগাল হাসি আর টিটকারি থেকে আমাকে কে বাঁচাবে? তাদের মধ্যে একজন আছে ভয়ংকর। সে আমাকে ফিডার গিফট করে বসতে পারে!
কিন্তু পুস্প আপার কথা নট নড়নচড়ন। তার এক কথা – ‘তুই আমার সাথে ইউনিভার্সিটি যাবি- আসবি।’
আমি প্রতিবাদে বিরাট হাউকাউ লাগালাম। শেষ পর্যন্ত আব্বা হস্তক্ষেপ করলেন। তিনি আপাকে বললেন -‘ মা, বাদলকে ওর মতো যেতে দাও। এখন নিজের দায়িত্ব নিজে নেওয়ার সময়। লেট হিম গ্রো।’
তখন আমার বয়স ১৮।
২ ) আমরা প্রায়ই শিশু ও টিন এজারদের ব্যাপারে বাবা-মায়ের ভূমিকা নিয়ে পড়ি, শুনি। কিন্তু সন্তানদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বয়সকালে বাবা- মা কী ধরনের আচরণ করবেন সেটা নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয় না।
বয়সটি হচ্ছে ১৮ থেকে ২৪।
এ সময়টিকেই মনোবিজ্ঞানীরা Emerging adulthood বলেন।
এ বয়সে কৈশোর ছেড়ে ছেলেমেয়েরা ধীরে ধীরে পরিণত বয়সের দিকে যায়
বয়সটি জটিল। এ বয়সের তারা কিশোর নেই আবার পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত প্রাপ্তবয়স্কও নয়।
এ সময়ে বাবা-মায়ের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের নিচের ব্যাপারগুলো মাথায় রাখা উচিত-
১) এখন আপনি তাদের নিয়ন্ত্রণকারী নন। পরামর্শদাতা। বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে রশি ছিঁড়ে যাবে। তাই তা না করে তাদের পরামর্শ দিন।
২) এখন ওর নিজের মতো ভাবার সময়। ওর ভাবনায় আপনি নাক গলালে ও কখনোই নিজের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। ভবিষ্যতে একটা সময় আসবে যখন ওকে একাই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই ওকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে সাহায্য করুন- কিন্তু তা জোর করে চাপিয়ে দেবেন না।
৩) আপনার যত সামর্থ্যই থাকুক ওকে আত্মনির্ভরশীল হতে দিন। অল্প হলেও রোজগার করার পরামর্শ ও উৎসাহ দিন। নিজে আয় করলে যে আত্মনির্ভরতা তৈরি হয় তা আর কিছুতে হয় না।
৪ ) ওকে কিছু কাজ দিন। শুধু পড়ালেখা আর শুয়ে বসে কাটানোর দিন শেষ। বাজারে পাঠান, ব্যাংকে পাঠান, ছোটো ভাইবোনদের পড়ানোর দায়িত্ব দিন। শুধু বাজার করার অভিজ্ঞতাই একজন মানুষকে অনেক বাস্তববাদী করে তোলে।
৫ ) একটি লেখায় লিখেছিলাম, শিশুদের সাথে আর্থিক বা পরিবারের অন্য সমস্যা শেয়ার করা উচিত নয়। এতে তাদের উপর খারাপ মানসিক চাপ পড়ে। কিন্তু ১৮-২৪ বছর বয়সে তাদের সাথে বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যা নিয়ে আলাপ করা উচিত। সংসারের বিভিন্ন সমস্যা জানলে ও দ্রুত ম্যাচিউর হবে। এসব সমস্যা সমাধানের তাড়না থেকে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা বাড়বে।
৬) পড়াশোনার এ চূড়ান্ত কালে কারো সাথে না জড়ানোই ভালো। সমস্যা হচ্ছে, আমি ৫৮ তে এসে কথাটা যত সহজে বলছি, ১৮তে তত সহজ নয়। বাস্তবতা হলো, এ সময় অনেকেই সম্পর্কে জড়ায়। নিষেধ করে তা বন্ধ করা যায় না। তাই তাকে সম্পর্কের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করুন, কিন্তু যদি করতেই হয় কেমন মানুষের সাথে সম্পর্ক হওয়া উচিত সে ব্যাপারে ধারণা দিন। এসব ব্যাপারে খোলাখুলি আলাপ করলে ও হয়তো অসময়ে সম্পর্কে জড়াবে না কিংবা জড়ালেও ভুল মানুষের সাথে জড়াবে না।
৭) ওর প্রতি আপনার প্রত্যাশা আছে। অনেকেই অপেক্ষায় আছেন ও সংসারের হাল ধরবে বলে। এটি খুবই স্বাভাবিক। এটা ওর কাছে প্রকাশ করুন। কিন্তু বারবার বলবেন না। প্রত্যাশার চাপ অনেক সময় এ বয়সী ছেলেমেয়েদের দুমড়েমুচড়ে দেয়।
৮ ) ওকে নিরাপদ বৃত্তে আটকে রেখে নিজেই ওর সব সমস্যার সমাধান করবেন না। কিছু সমস্যা ও নিজেই সমাধান করুক। ব্যর্থ হলেও সমস্যা নেই। শেখা শুরু হয় ব্যর্থতা থেকে।
৯) ওর বন্ধুদের দিকে নজর রাখুন। পছন্দ না হলে ওকে সরাসরি বলুন। সাবধান করুন। এ সময় কুসঙ্গ সর্বনাশ ডেকে আনে।
১০) ওকে কিছু স্বাধীনতা দিন। তবে সে স্বাধীনতায় আপনার নজর থাকবে। যাতে স্বাধীনতার ভুল প্রয়োগ করলে শাসন করতে পারেন। বিশেষ করে ডিজিটাল স্বাধীনতার দিকে চোখ রাখুন। এটা অনেক সর্বনাশের মূল।
পাদটীকা: পুস্প আপা এখনো আগের মতোই কড়া। ও জাপান থেকে ফোন করলে আমি ধমক খাওয়ার ভয়ে থাকি।
#আসুন মায়া ছড়াই


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category