জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুতে ক্যাম্পাসজুড়ে শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার বিকেলে সাভারের ইসলামনগর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে শারমিন জাহান নামের ওই ছাত্রীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী ফাহিমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিহত শারমিন জাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি তার স্বামী ফাহিমের সঙ্গে ক্যাম্পাস সংলগ্ন ওই ভাড়া বাসায় থাকতেন। নিহতের স্বামীর ভাষ্যমতে, শনিবার রাতে তারা বাড়ি যাওয়ার জন্য ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছিলেন। তবে শারমিনের শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এই ফাঁকে ফাহিম ঢাকায় মোবাইল ফোন কিনতে যান। সেখান থেকে স্ত্রীকে কয়েকবার ফোন ও বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাননি তিনি।
ফাহিম জানান, রোববার দুপুর দুইটার পর তিনি বাসায় ফিরে দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে বাড়িওয়ালার সহায়তায় ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন, শারমিন মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত ও রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন। এ সময় বাসার ভেতরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় ছিল এবং শারমিনের ব্যবহৃত ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। গুরুতর আহত অবস্থায় শারমিনকে দ্রুত সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমসহ সংশ্লিষ্টরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম রাশিদুল আলম জানান, বিষয়টি জানার পরপরই প্রশাসন ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
এদিকে, পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একাধিক শাখা কাজ শুরু করেছে। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এবং আশুলিয়া থানার ওসি রুবেল হাওলাদার জানিয়েছেন, নিহতের স্বামী ফাহিমকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অধিকতর তদন্তের জন্য ডিবি ও সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় এখনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ প্রশাসন।